Previous
Next

সর্বশেষ


শুক্রবার, আগস্ট ১৭, ২০১৮

ভারতে না গিয়ে সনি নর্দে ঢাকা আসছেন এ মাসেই?

ভারতে না গিয়ে সনি নর্দে ঢাকা আসছেন এ মাসেই?


বাংলাদেশে শেখ রাসেল ও শেখ জামালের জার্সিতে খেলেছিলেন হাইতিয়ান তারকা সনি নর্দে। বাংলাদেশে খেলে যাওয়া অন্যতম সেরা বিদেশি ফুটবলার বলা হয় তাঁকে। পরবর্তী সময়ে কলকাতার মোহনবাগানে নাম লেখানো নর্দেকে আবারও বাংলাদেশে দেখার সম্ভাবনা আছে

বেশ কয়েক দিন ধরেই গুঞ্জন, আবারও ঢাকার মাঠে পা ফেলতে যাচ্ছেন হাইতির ফরোয়ার্ড সনি নর্দে। শেষ পর্যন্ত গুঞ্জনটি সত্যি হওয়ার পথে। তবে পুরোনো কোনো ক্লাবের জার্সিতে নয়, সনির নতুন ঠিকানা হবে নবাগত ক্লাব বসুন্ধরা কিংস। যারা শেষ মৌসুমেই চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নাম লিখিয়েছে প্রিমিয়ার লিগে। ইতিমধ্যে বিগ বাজেটের দল গড়ে ফুটবল মহলে হইচই ফেলে দিয়েছে ক্লাবটি।

শুধু সনিই নন, চলতি মাসে তাঁর সঙ্গে ঢাকায় আসার কথা হাইতির জাতীয় দলের হয়ে খেলা স্ট্রাইকার কেলভোন বেলফোর্ট ও ডিফেন্ডার জুদেলিন আভাসকার। এর মধ্যে বেলফোর্ট গত মৌসুমে ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্লাব জামশেদপুরের হয়ে খেলেছেন আর ইকুয়েডর লিগে খেলছেন ডিফেন্ডার আভাসকা। চমক আছে আরও। বসুন্ধরার জার্সিতে ইরাকের জাতীয় দলের এক ফুটবলারের খেলাও প্রায় নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান, ‘সনি নর্দেকে চলতি মাসেই ঢাকা আসতে বলা হয়েছে। তিনিও মৌখিকভাবে দুজন খেলোয়াড়সহ ঢাকা আসার কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া আমাদের দলে ইরাকের জাতীয় দলের এক ফুটবলারের খেলাও প্রায় নিশ্চিত। এই চারজনের সঙ্গে ঢাকা আসার কথা আরও দুজনের। সেখান থেকেই বেছে নেওয়া হবে চারজনকে।’

বিশ্বস্ত সূত্রমতে, শুধু বসুন্ধরা নয়, সনির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে ভারতীয় আইএসএলের দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দিল্লি ডায়নামোস ও মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। এর মধ্যে মুম্বাইয়ের জার্সিতে সনি আগেও খেলেছেন। কিন্তু গত মৌসুমের মাঝপথে চোট নিয়ে ক্লাব ছাড়ায় ভারতীয় ক্লাবগুলোর কাছে নতুন মৌসুমে দলবদলের বাজারে আগের সেই কদরটা নাকি পাচ্ছেন না সনি। এই সুযোগটাই নিতে যাচ্ছে বসুন্ধরা। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কোন দলের জার্সি গায়ে ওঠে সনির। এ বিষয়ে সনির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের কোচ থাকাকালীন সাবেক ফরাসি তারকা নিকোলাস আনেলকাকে ফুটবলীয় শিক্ষা দিচ্ছেন অস্কার ব্রুজোন। সংগৃহীত ছবি

বসুন্ধরায় যদি সনি চলেই আসেন, তাহলে এটি হবে তাঁর বাংলাদেশের তৃতীয় ক্লাব। এর আগে শেখ রাসেল ও শেখ জামালের জার্সিতে দুই মৌসুম খেলেছিলেন হাইতিয়ান এই তারকা ফুটবলার। দারুণ গতি আর স্কিলের মিশেলে দুর্দান্তই ছিলেন তিনি। অনেকেই তাঁকে বাংলাদেশের ফুটবলে অন্যতম সেরা বিদেশির তকমা দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালের শুরুতে কলকাতার আইএফএ শিল্ডে শেখ জামালকে প্রায় একাই ফাইনালে তুলেছিলেন। ভারতের মাটিতে নর্দের সেই দুরন্ত পারফরম্যান্সই কাল হয়েছিল জামালের জন্য। সে বছরই মোটা টাকায় কলকাতার মোহনবাগান ছিনিয়ে নেয় তাঁকে। চার বছর বাদে বসুন্ধরার সুবাদে আবার হয়তো বাংলাদেশে দেখা যাবে সনিকে।

শুধু বিদেশি খেলোয়াড় দলে ভিড়িয়েই চমক দিচ্ছে না বসুন্ধরা, ভালো মানের বিদেশি কোচও দেখা যাবে তাদের ডাগআউটে। বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী, স্প্যানিশ অস্কার ব্রুজোনই হতে যাচ্ছেন বসুন্ধরার কোচ, যিনি গত মৌসুমে মালদ্বীপ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব নিউ রেডিয়ান্টের কোচ ছিলেন। ৪১ বছর বয়সী ব্রুজোন মালদ্বীপ ছাড়াও এর আগে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসসহ ভারতীয় বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির কোচ ছিলেন। স্প্যানিশ ক্লাব মায়োর্কার সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও আছে তাঁর। তবে কোচের বিষয়টি নিয়ে এখনো মুখ খুলতে নারাজ বসুন্ধরা ক্লাব সভাপতি। কিন্তু ইতিমধ্যে ট্রান্সফার মার্কেটে ওয়েবসাইটে ব্রুজোনের নামের পাশে শোভা পাচ্ছে বসুন্ধরার নাম।
পবিত্র হজের আগে শেষ জুমা আজ

পবিত্র হজের আগে শেষ জুমা আজ

আজ শুক্রবার। পবিত্র হজের আগে শেষ জুমা। আগামীকাল শনিবার হজের অংশ হিসেবে মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন মুসল্লিরা।

অনেকে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই জুমার নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ‘ফজরের নামাজের পর আর বাড়ি ফিরব না। একেবারে জুমার নামাজ পড়ে ফিরব।’ জানালেন গোপালগঞ্জ রাজপাট মিয়াবাড়ি থেকে আসা মামুন রাশেদ ও তাঁর স্ত্রী লায়লা আর্জুমান্দ।

পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে হাজির হয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার ৭৫৫ জন ও বাকিরা বেসরকারি ৫২৮টি হজ এজেন্সির মাধ্যমে এসেছেন। সৌদি সরকার এবারও বৈধ হজযাত্রীদের নিরাপদ রাখতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

মক্কার পুলিশপ্রধান সাইয়েদ বিন সালেম আল কারনি জানিয়েছেন, হজে অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে মক্কার চারপাশে ১০৯টি চেক পয়েন্ট বসানো হয়েছে। হজের বৈধ অনুমতিপত্র না থাকায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৪৭ ব্যক্তিকে মক্কায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। হজের সময় মক্কায় প্রবেশের অনুমতিপত্র না থাকায় ৮৫ হাজার ৯৬৫টি গাড়িকেও ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সংখ্যার দিক থেকে এবার যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, তুরস্ক, ইরান থেকে বেশি মুসল্লি পবিত্র হজ পালন করতে এসেছেন।

বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান জানান, গতকাল পর্যন্ত ৩৪৮টি ফ্লাইটে ১ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব এসে পৌঁছেছেন। এ পর্যন্ত ৪৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেন। ২০ আগস্ট পবিত্র হজ পালিত হবে
রাশিয়ার রহস্যময় স্যাটেলাইট নিয়ে ‘সন্দেহ’ যুক্তরাষ্ট্রের

রাশিয়ার রহস্যময় স্যাটেলাইট নিয়ে ‘সন্দেহ’ যুক্তরাষ্ট্রের


রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন এক মাত্রা পেয়েছে। রহস্যময় একটি কৃত্রিম উপগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। উপগ্রহটি গত বছরের অক্টোবরে মহাকাশে পাঠিয়েছে রাশিয়া। এটি কি আদৌ স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ, নাকি কোনো নতুন অস্ত্র? এ প্রশ্নের কূলকিনারা করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়ার রহস্যময় ওই স্যাটেলাইট অস্বাভাবিক আচরণ দেখাতে শুরু করেছে। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

১৪ আগস্ট সুইজারল্যান্ডে এক সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ওয়াইলিয়েম পবলিট বলেন, রাশিয়ার তৈরি বস্তুটি আসলে কী, আমরা তা নিশ্চিত নই এবং তা পরীক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। এটি কোনো অস্ত্র হওয়াও অসম্ভব কিছু না।

অবশ্য রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাঁর এ মন্তব্য উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, সন্দেহবশত অনুমান করে ভিত্তিহীন ও অপমানজনক অভিযোগ করা হয়েছে।

পবলিট বলেছেন, ওই কৃত্রিম উপগ্রহের আচরণ স্বাভাবিক মনে হয়নি। রাশিয়ার অন্যান্য পরিদর্শন উপগ্রহ কার্যকলাপের সঙ্গে নতুন এ স্যাটেলাইটের কক্ষপথের আচরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়। এটি স্পষ্টত একটি খুব উদ্ভট উন্নয়ন।

রাশিয়ার স্পেস ফোর্সেসের কমান্ডারের একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে পবলেট বলেন, তিনি বলেছিলেন, নতুন অস্ত্রের নমুনা তাঁরা গ্রহণ করছেন।

পবলেট বলেন, রাশিয়ার অ্যান্টি-স্যাটেলাইট যুদ্ধাস্ত্র তৈরি নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক অ্যালেক্সজান্ডার ডেনেকো তাঁর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে একে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়া-চীনের মধ্যকার মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকানোর চুক্তিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

মহাকাশে কি ধরনের অস্ত্র ব্যবহার হতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের রিসার্চ অ্যানালিস্ট অ্যালেক্সজান্ডার স্টিকিংসের মতে, মহাকাশে ব্যবহারের জন্য যেসব অস্ত্রের নকশা করা হতে পারে, তার কার্যক্রম প্রচলিত বন্দুক বা অন্যান্য অস্ত্রের চেয়ে আলাদা। এ ধরনের অস্ত্র কক্ষপথে নানা আবর্জনা তৈরি করতে পারে।

মহাকাশ বিশেষজ্ঞের মতে, মহাকাশে ব্যবহৃত অস্ত্রে লেজার বা মাইক্রোওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সি যুক্ত থাকতে পারে, যা অন্য কোনো উপগ্রহের কাজ কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে দিতে পারে বা কোনো স্যাটেলাইটকে ধ্বংস না করেও অকার্যকর করে তুলতে পারে। এ ছাড়া স্যাটেলাইটের কার্যক্রমে বাধা বা জ্যামিং সৃষ্টি করতে পারে।

স্টিকিংস বলেন, মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহের সক্ষমতার বিষয়টি ক্লাসিফায়েড তথ্য হিসেবে সংরক্ষিত থাকে বলে কোন স্যাটেলাইটে কি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, তা জানা কঠিন।

কোন দেশ শত্রুতাবশত কোনো স্যাটেলাইট অকার্যকর করেছে বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু করেছে, তা প্রমাণ করা কঠিন।

এদিকে রাশিয়ার স্যাটেলাইটের ওপর নজরদারির কথা যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। অবশ্য বিষয়টি তারা অস্বীকারও করেনি।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, মহাকাশে ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও মহাকাশের ক্ষমতা বৃদ্ধি হুমকি এবং বিপদের কারণ হতে পারে। এ হুমকির ফলে অন্য দেশও মহাকাশে যুদ্ধাস্ত্র ঠেকাতে পাল্টা ব্যবস্থা তৈরি করবে। যুক্তরাজ্য তাদের আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছে।
৯৭ শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ

৯৭ শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ

কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে হওয়া আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের ঈদের আগে মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ড. কামাল হোসেন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চেয়েছেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ শুক্রবার জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক ও কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন বন্ধ ও গ্রেপ্তারকৃতদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি’ শিরোনামে আয়োজিত সংহতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল এ কথা বলেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ৯৭ শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী উদারতা দেখাবেন উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, ‘ছাত্ররা কী চায়! তারা সংস্কার চেয়েছে। সংস্কার একটি ভালো শব্দ। এর মানে হচ্ছে আরও কী করে ভালো করা যায়। বিশ্বের সব দেশেই সংস্কার একটি ভালো শব্দ। ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে গেলে তিনিও ক্ষমা করে দিতেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যার কাছে এর চেয়ে কম আশা করি না।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ড. কামাল বলেন, ‘আপনি অবশ্যই বিশ্বাস করেন যে আমি আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী। এই ৮১ বছর বয়সে আপনার কাছে আবেদন করতে পারি, ছেলেদের ছেড়ে দেন। এরা যেন নিজেদের বাড়িতে গিয়ে ঈদ করতে পারে। এই উদারতা আপনি দেখাবেন। ক্ষুদ্র মানুষ হিসেবে আবেদন করছি ওদের ছেড়ে দিন।’

নিজের কথাগুলো দেখা করে বলার সুযোগ না পেলে লিখিতভাবে জানাতে চান ড. কামাল। তিনি বলেন, ‘আমাদের কথা লিখিত আকারে পাঠিয়ে দেব।’ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনার বিরোধিতা করার জন্য একদম বসি নাই। আপনি সংবিধান মেনে সফলভাবে শাসন করে একটি অবস্থানে আনতে পারেন। আমরা সংবিধান সম্পর্কেও কিছু কথা বলতে চাই। সংবিধানকে অমান্য করে কোনো ভালো কাজ করা সম্ভব হয় না। কোটা সংস্কার ও সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ ও জনস্বার্থ বজায় রেখে এর সমাধান সম্ভব।’

ড. কামাল হোসেন বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে হাতুড়ি দিয়ে যে পা ভেঙেছে, তার মানসিক চিকিৎসা করানো দরকার। পাগল না হলে এই কাজ কেউ করতে পারে না। স্বাধীন বাংলাদেশে এটা যেন না ঘটে।

সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘দেশ আজ ভয়ানক অসুস্থ। কতটা অসুস্থ সেটা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারছি না। না হলে কি একজন সাবেক বিচারপতিকে জুতাপেটা করার কথা বলতে পারেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য!’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংহতি সভায় আরও বক্তব্য দেন ডাকসুর সাবেক নেতা ফজলুর রহমান, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল: কাদের

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য আবার দেশকে ‘স্বাধীন’ করতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আহ্বান রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল।

গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ১৭ আগস্ট সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই সমাবেশে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।

ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ শুক্রবার দুপুরে এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেন, ‘দেশের জনগণকে আহ্বান জানাব যে শুধু এই নিরাপদ সড়ক নয়, নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য আপনারা এগিয়ে আসুন, আপনারা জেগে উঠুন। আপনারা দেশকে “স্বাধীন” করুন।’ তাঁর এই মন্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকেরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি প্রশ্ন রাখতে চাই, এটা কি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল নয়? এর যদি বিচার করতে হয়, ফখরুলকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে বিচার করলে কি ভুল হবে?’ তিনি বলেন, ‘ফখরুল ইসলাম এখনো গ্রেপ্তার হননি, রাষ্ট্রদ্রোহিতার কথা বলে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’ 

বিএনপির মহাসচিবের উদ্দেশে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোন স্বাধীনতা? পাকিস্তানে ইমরান সরকার এসেছে, মহাখুশি—না?’ তিনি বলেন, ‘ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব, অচিরেই টের পাবেন কত ধানে কত চাল।’ ফখরুল ইসলামের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ নাকি এক-এগারোর কথা বলছে। ১/১১-এর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার সব ধরনের ষড়যন্ত্র বিএনপি করেছে। খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে আর ১/১১-এর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না। জনগণ বিএনপির সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেবে। এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গোপন বৈঠক চলছে। দেশে, বিদেশে ব্যাংককে বসে বৈঠক চলছে। গত সাত দিনে কারা ঘনঘন যাতায়াত করছে, সে খবর আমরা জানি। ব্যাংককে এখন ঘাঁটি করেছে। কারা কারা আসছেন, কারা যাচ্ছেন, কী কী কথা হচ্ছে, মনে করেছেন আমরা জানি না?’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা অচল হবে না। বাংলাদেশ অচল করা যাবে না। বিএনপি অচল হয়ে যাবে। বিএনপি অচল হওয়ার সব উপাদান তারা যুক্ত করে ফেলেছে।’

বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, শক্তি কমে আসছে, তাই বিএনপির গলার জোর বেড়ে গেছে। কথা বলতে বলতে লাগামছাড়া হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীকেও আক্রমণ করে কথা বলছে বিএনপি। বিএনপি যত দিন আছে, দেশে তত দিন অশান্তির আগুন জ্বালাবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি বলে বুকের ওপর দানব সরকার। বিএনপি নামক সাম্প্রদায়িক দানব পার্টি বাংলাদেশে যত দিন থাকবে, এখানে অশান্তি দূর হবে না। দানব পার্টি যত দিন আছে, দেশে অশান্তির আগুন জ্বালাবে।

গণমাধ্যমে ‘সরকারবিরোধী’ আন্দোলন চলছে, দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কারা কারা পেছন থেকে ষড়যন্ত্রে বাতাস দিচ্ছে, আমরা জানি। এই বাতাস দেওয়া বন্ধ করুন। বিএনপি মাঠে না থাকলেও দু-একটা মিডিয়ার মধ্যে এই আন্দোলন আছে। টার্গেট হাসিনা সরকারকে উৎখাত করা। শেষ পর্যন্ত ইনশা আল্লাহ বাংলার জনগণ রুখে দাঁড়াবে।’

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ সভায় বক্তব্য দেন।
ওবায়দুল কাদের মারাত্মক কথা বলেছেন: ফখরুল

ওবায়দুল কাদের মারাত্মক কথা বলেছেন: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ওবায়দুল কাদের একটি মারাত্মক কথা বলেছেন। তিনি এক-এগারোর পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন। এরপরও তাঁরা সরকারে আছেন? এখনো পদত্যাগ করছেন না? সরকার আওয়ামী লীগের, অথচ এক-এগারোর পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশ ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ সাংবাদিক নির্যাতনবিরোধী সংহতি সমাবেশের আয়োজন করে। এতে তিনি বক্তব্য দেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে আবারও এক-এগারোর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটি কথা ভুলে গেলে চলবে না, এই এক-এগারোর বেনিফিশিয়ারি (সুবিধাভোগী) কিন্তু আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, ‘এতটাই বেনিফিশিয়ারি যে তাঁদের নেত্রী (শেখ হাসিনা) বিদেশ যাওয়ার আগে বলেছিলেন, আমরা এই ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিন সরকারের সব কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেব। দিয়েছিল, পার্লামেন্টে আইন পাস করেছে।’

খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৫ সালের ঘটনায় কীভাবে জোর করে খালেদা জিয়াকে যুক্ত করেন? তিনি (শেখ হাসিনা) জিয়াউর রহমানকে তাঁর সঙ্গে যুক্ত করেন? যা মুখে আসছে, তা-ই তিনি বলছেন। আমরা এই কথাগুলো বলতে চাই না। আমরা বলতে চাই, আপনি রাজনীতিবিদ, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। আপনার মুখে এ ধরনের কথাবার্তা কখনোই শোভা পায় না।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু এটি আপনার (প্রধানমন্ত্রী) স্বভাব। আপনি আপনার স্বভাবের মধ্য দিয়ে এ ধরনের হাস্যকর কথাবার্তা বলেন। দয়া করে এ ধরনের কথাবার্তা বন্ধ করুন। আমরা তাঁর এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সঠিক পথে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রথম দিন থেকেই সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। প্রকাশ্যে ছাত্রদের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে সমর্থন করেছে বিএনপি। সেই সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনকে অবশ্যই সমর্থন জানাবে বিএনপি। তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণকে আহ্বান জানাব যে, শুধু এই নিরাপদ সড়ক নয়, নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য আপনারা এগিয়ে আসুন, আপনারা জেগে উঠুন। আপনারা দেশকে “স্বাধীন” করুন।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী প্রমুখ সমাবেশে বক্তব্য দেন।

বুধবার, আগস্ট ১৫, ২০১৮

আল-আমিনদের দেখতে যদি তোমরা সবে চাও

আল-আমিনদের দেখতে যদি তোমরা সবে চাও

একটা শান্তির গল্প বলি। কয়েকদিন আগে আমার মা স্বপ্নে তাঁর ছোট মামাকে দেখেছিলেন। দেখেছিলেন যে, তিনি হাস্যোজ্জ্বল, শান্তির ছাপ তাঁর সুন্দর অবয়বে স্পষ্ট। বললেন, “নিশ্চয় মামা কবরে অনেক শান্তিতে আছেন, কী সুন্দর দেখাচ্ছিলো তাঁকে।”

আমি মনে মনে ভাবলাম, “মাশাআল্লাহ্‌, কেন থাকবেন না? যিনি এইরকম একটা সন্তান পৃথিবীতে রেখে গেছেন, তাঁর কি সম্পদের কোনো কমতি থাকতে পারে?”

ঐ সন্তানটি হলেন তিনিই, যার বাড়িতে গত ডিসেম্বরের বরিশাল সফরে থেকেছিলাম। আমার আল-আমিন মামার বাড়ি। না, আমারই বাড়ি। কেন না? এরকম একটা বাড়ি, কে না নিজের বলে দাবি করতে চাইবে? আমি বাড়ির দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-উচ্চতা, আসবাব বা পুঁজিবাদী স্বপ্নের মাপে এর দামের কথা বলছি না। বলছি এর ভিতরকার আস্থা, প্রশান্তি আর ভালোবাসার কথা।

আমার মামাটা হয়তো এখনকার মেয়ের বাবাদের নাম্বার ওয়ান পছন্দ ক্যারিয়ার সচেতন এটিএম মেশিন না, পেশায় তিনি একজন স্কুল শিক্ষক। তাঁর ঘরে ভারি ভারি সার্টিফিকেট আর টাকার গরম কম, পারিবারিক বন্ধন বেশি। তিনটা সন্তান নিয়েছেন, যাতে বছরে একবার হাজ্জ করার সামর্থ্য না থাকলেও বিদেশ ভ্রমণ, ব্যাঙ্কভর্তি সুদী ফূর্তির টাকা, নিজে খাই নিজে বাঁচি বস্তুবাদী চিন্তাধারার মতো দরিদ্রতার শিকার না হতে হয়। বরং তাঁর মৃত্যুর পর সেই হীরার টুকরাগুলা যাতে তাঁর চিরসবুজ উদ্যানে যাবার টিকিট হয়ে যায়, সেই ব্যবস্থা করেছেন। যত বেশি হীরা, তত বেশি দু’আ, ততো বেশি সাওয়াব। দু’আর এবোর্শনে উনি যাননাই।

ফজরের ওয়াক্তে তাঁর ছাত্র-ছাত্রীরা মিসকল দেয়, “স্যার ঘুম থেকে উঠছি, এখন পড়বো।” জীবনে তাঁর কাছে পড়ার জন্য সাহায্য চাইছে আর খালি হাতে ফিরে গেছে, এমন মৃত আর এমন গরীব তিনি এখনও হননাই। দেখেন না সমাজে অনেক গরীব আর চলমান মৃত মানুষ আছে? যাদের আছেই কেবল টাকা, ক্যারিয়ার, ক্ষমতা। স্কুলে ভর্তি হবার মতো সামর্থ্য নাই, ছাত্রের বাবাকে অর্ধেক বেতন দিতে বলে বাকি অর্ধেক গেছে নিজের পকেট থেকে বছরের পর বছর। তাও তোরা মানুষ হ বাবারা, জীবিত মানুষ হ!

মামা আমার কোনো রাজনীতি করেন না, যুবাদের মদ ভাং এর টাকা দেন না, মাসজিদ কমিটির সভাপতিও না। তবু বর্ষায় নিজের ঘর উন্নয়ন করেননাই, বরং আল্লাহর ঘরে তাঁর নাম কিছু কষ্টার্জিত টাকার উসিলায় শরীক হয়ে আছে। বরিশালে যেই কয়দিন ছিলাম আর যেইসব জায়গাতেই যাওয়া হয়েছে, আমার কাছে মামার বাসার চাইতে শান্তির জায়গা আর দ্বিতীয়টা লাগেনাই। অন্তর আটকে গেছে ওখানে। বিশ বছর আগে ওখানে গিয়েছিলাম, অথচ এবার যেয়ে মনে হয়েছে বিশ বছর আমি এখানে ছাড়া কোথাও থাকিনাই।


আর আমার মামাতো ভাইগুলা। তার ভিতর একজন রিদওয়ান, যার খেলনা হেলিকপ্টার তৈরির হাত খুব একটা খারাপ না। এটা বানানো হয়েছে তার জেএসসি পরীক্ষার পর। এতটুক একটা গ্রামের ছেলে, কত বড় তার প্রতিভা আর স্পৃহা।

মাগরিবের পরে ওয়াক্বিয়াহ পড়ে দুই ভাইকে একদম চোখে চোখে আগলায়ে রাখে। মেঝোটা পড়ে মাদরাসায় আর ছোটটা কী দুষ্ট, সে কী ভালোবাসা এদের। ভাই ছিলো ওরা তিন, আমি গিয়ে হয়ে গেলো চার। আমার মমতাময়ী মামী একদম আপন করে নিয়েছিলেন। মাটির চুলায় কড়া শীতে সকাল বেলা উঠে সবার জন্য চা আর গোসলের জন্য গরম পানি বানায়ে দিতেন। মাটির চুলা, শীত, নয়জন লোক এই কথাগুলায় একটু জোর দিলেই বুঝা যায় কেন কথাটা বললাম। একটা বেলা যে একটু তাঁকে নিয়ে কাউকে গীবত করার সুযোগ দিবেন, সেই রাস্তা নাই। বাসায় বৃদ্ধা শ্বাশুড়ি, তাঁর সব খেয়াল তাঁর।

– কী করতেছো এখন?

– আলহামদুলিল্লাহ। ঘর সামলাই।

প্রশ্নের এই উত্তরটা এখনকার অনেক মানুষের পছন্দ না। এরপর আমার মামীর কথা ভাবি। ভাইরে, ঘর সামলানো সবাই এফোর্ড করতে পারে না

বোকা মামা আমার। নাহলে ফুফাতো ভাই বোনের পরিবারসহ নয়জনকে নিজের বাসায় চাকরি বাকরি মাথায় তুলে রেখে অর্ধেক সপ্তাহ কেউ খাওয়ায়? আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে টাকার মতো জিনিস নষ্ট করার কোনো অর্থ হয়?

কি জানি! আমার এই মামাটাকে মনে হয় আপনাদের পছন্দ হবে না। গালভর্তি দাড়ি, মাথায় টুপি, গ্রামে থাকে। বড় সার্টিফিকেট নাই, সামান্য ইংরেজি শিক্ষক। কিন্তু ফেরার সময় কেন জানি মনে হচ্ছিলো আমার পরিবার থেকে সরে যাচ্ছি। হয়তো কোনো কাজে ঢাকায় আসতে হচ্ছে, আবার তো ফিরেই আসবো! এই সান্ত্বনাতে। মামাকে না দেখিয়ে তাঁর সাথে একটা সেলফি তুলেছিলাম। এই যে না জানিয়ে সেলফি তোলা, এইটার যে অর্থ, ভালোবাসা; এইটা কি কোনো বিরাট ক্ষমতার নেতা, শিল্পপতি, গায়ক, নায়ক পারছে আমাকে দিয়ে করাইতে? কেন পারলো না? আর কেনই বা এই মানুষটা পারলো? কীভাবে হলো এই মনোরাজ্য জয়?

দুনিয়ার কোনো সনদপত্র, ক্ষমতা, অর্থ এটা দিতে পারবে না। এত বড় অর্জনের সামর্থ্য এগুলার নাই। এইটার জন্য প্রয়োজন ‘মনুষ্যত্ব’, একটা আলোকিত ‘রুহ’। এই আলো দুনিয়াবাসীরা কেন জানি পয়সা, ক্যারিয়ার আর খ্যাতি দিয়ে কিনতে পারে না। এইটা আসে ঐ বিশাল আসমানের মালিকের কাছ থেকে।

বস্তুবাদী শিক্ষাব্যবস্থা এটা কোনদিনও শিখাতে পারবে না। এই শিক্ষা অর্জন সবার জীবনে হয় না। আর যার হয়, তার কোনোকিছুর অভাব হয় না। ঐ গ্রামে দেওয়ালে দেওয়ালে, রিক্সায়, অটোতে, নৌকায় লেখা দেখেছি ‘আপনার সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠান’। আর ঐ ঘরে আমি শান্তি দেখেছি, সালাত-কুরআন-সুন্নাতকে জীবিত দেখেছি। আর আমার মা দেখেছে এই ঘরেরই আগের বাসিন্দাকে, আল-আমিন মামার বাবাকে। এমন বাবা কয়জন হতে পারবো আজকে আমরা? কয়জন হতে পারবো এমন সন্তান?

সন্তান নিয়ে তাদের কীভাবে দ্বীনের কাজে, মানুষের কাজে লাগানো যায়, সেই চিন্তা করতো এই উম্মাতে মুহাম্মাদিন। আর আজকে তারা এবোর্শোন বিয়ের আগে করবে না পরে, তা-ই নিয়ে চিন্তিত। এদের লক্ষ্য হচ্ছে বিনোদন, খ্যাতি আর পয়সা। গরু ছাগলের জীবন। জন্ম-আহার-উপভোগ-প্রজনন-মৃত্যু। স্বার্থের মায়া, প্রবৃত্তির তাড়না উপেক্ষা করে মানুষের জন্য, মাযলুম দিশেহারা উম্মাতের জন্য, নিজের ভাইদের জন্য জীবন পার করার সাহস এদের নাই, এদের সার্টিফিকেট সেই সাহস দেয় না।

এই সন্তান আমাদের নিতে পারে জান্নাতে, এই সন্তান নিতে পারে জাহান্নামে। কত সন্তানদের দেখি সালাত পড়ে না, সিয়াম রাখে না, পর্দা তো করেই না আরও নিজেকে কতভাবে প্রকাশ করা যায় সেই চিন্তায় সদা ব্যস্ত। সময়মতো বিয়েকে গুরুত্ব দেয় না, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্কুলের, কলেজের, ভার্সিটির, পাড়ার বিপরীত লিঙ্গের মনোরঞ্জনের বস্তু না হলে হয় না, যিনা-ব্যভিচারের তোয়াক্কা করে না, নাচ-গান-চারুকলা নিয়ে হৈ-হুল্লোড়, জীবনের কোনো উদ্দেশ্য নাই, একাধিক মানদণ্ডে ভরপুর একটা জীবন। এতে যে তাদের অন্তরে স্থায়ী শান্তি আসতেছে, তাও না। অথচ কোনো ব্যাপারে চূড়ান্ত উদাসীন হলে সেইটা হচ্ছে ইসলাম! অনেকে জেনেশুনেও জাহান্নাম চায়, আল্লাহ্‌ মাফ করুক। কিন্তু আপনার মাতা-পিতাও যে তার সাথে আগুনে চলে যাচ্ছে? যার মা-বাপ কবরে চলে গেছে, সে-ই কবরের জ্বালানি সরবরাহ করতেছে সেটা ভুলে যাচ্ছে। যেন এই পৃথিবীই শেষ! যে পৃথিবী ধ্বংসই হয়ে যাবে, তার জন্য এতকিছু! সুবহানআল্লাহ!

মানুষের দেহের তিনটি অংশ। প্রথম অংশ আল্লাহ্‌ তা’আলার, তা হলো রূহ। দ্বিতীয় অংশ নিজের, তা হলো আমল। তৃতীয় অংশ পোকার, আর সেটি হলো শরীর।

সেই পোকার খাদ্যকে তারা পূজা করেছিলো, অথচ অন্ততকাল তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো। কত মা-বাবা চলে যাবে জান্নাতে সেই দিনে, শুধু তার নেক সন্তানের হাত ধরে। আর কত বাবা-মা না জানি ঝলসে যাবে তাদের জাহিল আর জালিম সন্তানদের কারণে। যাদের তারা নিজ হাতে একদিন খাইয়ে দিতো, যখন তারা খেতে পারতো না। কথা বলতে শিখাতো, যখন বলতেও পারতো না। ঘুম পাড়াতো, ঈদের সময় কামাইয়ের সবটা দিয়ে কিনে দিতো সবচেয়ে সুন্দর জামাটা আর নিজে কিনতো একটা সাধারণ জুতা। ঈদের দিন যখন আমরা আনন্দ করতাম, তখন হয়তো মা তাঁর সেই বিশ বছর আগের কলেজের বান্ধবীর দাওয়াতে যেতে পারেননাই, বাবাটা আগের ঈদের পাঞ্জাবি পরে একা একাই ঈদগাহ থেকে ফিরে আসেন। তারপর একদিন তাঁরা চলে যান। তাকিয়ে থাকেন আমাদের দিকে, তাকিয়ে আছেন আমার দিকে, তাকিয়ে আছেন আপনার দিকে, আল-আমিন মামার দিকে। ঐ তো আমিও দেখতে পাচ্ছি নানু ভাইটাকে, কতই না সুন্দর দেখাচ্ছে তাঁকে!!

رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا

হে পালনকর্তা, তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন, যেমন তাঁরা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছিলেন। [সূরাহ বানী ইসরাঈল (১৭): ২৪]

লেখক: মুরসালিন নিলয়