Previous
Next

সর্বশেষ


সোমবার, আগস্ট ১৪, ২০১৭

আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট।

আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট।


মোহাম্মদ আবু মুছা ঃ


'দিকে দিকে আজ অশ্রুগঙ্গা, রক্তগঙ্গা বহমান

নাহি নাহি ভয় তবু হবে জয়, জয় শেখ মুজিবুর রহমান।'

আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে কলঙ্কময়, বেদনার দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিনে বাঙালি হারায় স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এদিন কাকডাকা ভোরে বিপথগামী কিছু সেনা সদস্য ধানম-ির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। বাঙালি জাতির ললাটে এঁটে দেয় কলঙ্কের তিলক। যে কলঙ্ক থেকে দেশ-জাতি আজো পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। কারণ বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের রায় আংশিক কার্যকর হয়েছে। এখনো ফাঁসির দ-প্রাপ্ত কয়েকজন খুনি বিদেশে পালিয়ে রয়েছে। দিনটি সরকারি ছুটির দিন। রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালিত হবে। সারাদেশসহ বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা রাখা হবে অর্ধনমিত।

বাংলার সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ছিল অটুট বন্ধন, আত্মার আত্মীয়তা। প্রত্যেকটি বাঙালির হৃদয়ে ছিল তার প্রতিচ্ছবি, যা এখনো জ্বলজ্বল করছে সবার মনে। তিনি ছিলেন এমন একজন নেতা যার ব্যক্তিগত সম্পদ বলে কিছুই ছিল না। জনগণের জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিলেন। জনগণের ভালোবাসাই ছিল তার একমাত্র সম্পদ। যে সম্পদ কেউ কোনোদিন কেড়েও নিতে পারে না। আর পারেনি বলেই ১৫ আগস্ট এলেই তা গভীরভাবে উপলব্ধি করা যায়। তাকে কোনো বাঙালি হত্যা করতে পারে এমন বিশ্বাস কারও মনে কোনোদিন ছিল না, যা ছিল না বঙ্গবন্ধুর মনেও। আর তাই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও ঘনিষ্ঠজনদের শত অনুরোধ উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপতি হয়েও বঙ্গভবনের মতো সুরক্ষিত স্থানে না থেকে সাধারণ মানুষের মতো থেকেছেন ধানম-িতে অরক্ষিত নিজ বাড়িতে। প্রতিটি মুহূর্ত থেকেছেন গরিব-দুঃখী মানুষের মাঝে। আর এতেই তার কাল হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী ওই ঘাতকচক্র হত্যা করে বঙ্গবন্ধুকে, যা ছিল পৃথিবীতে বিরল ও মর্মান্তিক ঘটনা। মহাত্মা গান্ধী, লুথার কিং, লিংকন, লুমুম্বা, কেনেডি, ইন্দিরা গান্ধী পর্যন্ত রাজনৈতিক হত্যাকা-ের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু কাউকেই বঙ্গবন্ধুর মতো সপরিবারে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়নি। এদিন ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, জামালসহ ২২ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এমনকি বঙ্গবন্ধুর শিশুপুত্র শেখ রাসেলও এই নির্মম হত্যাকা-ের শিকার হন। যে কাজটি বর্বর হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীও করার সাহস করেনি, সেটিই করল এ দেশের কিছু কুলাঙ্গার। স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গঠন করতে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন তখনই ঘটানো হয় এ নৃশংস ঘটনা। পরিসমাপ্তি ঘটে একটি ইতিহাসের। সে থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম বাংলার আকাশ-বাতাস ও মানুষের মন থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছে ষড়যন্ত্রকারী ঘাতকরা, যা কোনোদিন হয়নি, হবেও না। পৃথিবীতে বাঙালি জাতি যতদিন থাকবে ততদিনই থাকবে বঙ্গবন্ধুর নাম, তার কর্ম। দেশের খবরের পক্ষ থেকে আমরা এই মাহান নেতা ও তাঁর পরিবার সহ সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি ।

রবিবার, আগস্ট ০৬, ২০১৭

জুলাইয়ে ১১১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে

জুলাইয়ে ১১১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে

চলতি (২০১৭-১৮) অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ১১১ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে।
যা এর আগের মাস জুনের তুলনায় ১০ কোটি ডলার কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তেলের দাম কমে যাওয়া, ইউরো এবং পাউন্ডের বিনিময় মূল্য পড়ে যাওয়া এবং হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের কারণে কমে যাচ্ছে রেমিট্যান্স। সদ্য শেষ হওয়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানোর রেমিট্যান্স প্রবাহ সাড়ে ১৪ শতাংশ কমেছে। এ অর্থবছরে প্রবাসীরা এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত ছয় অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আগের অর্থবছরে প্রবাসীরা এক হাজার ৪৯৩ কোটি ১১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৪.৪৭ শতাংশ বা ২১৬ কোটি ১৭ লাখ ডলার কমেছে। গত অর্থবছরে শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ নিম্নমুখী ছিল। এ ছাড়া আগের ১০ বছরের রেমিট্যান্সের হিসাব থেকে জানা গেছে, গেল অর্থবছরের রেমিট্যান্স গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১০-১১ অর্থবছরে এক হাজার ১৬৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। ২০১১-১২ অর্থবছরে আসে এক হাজার ২৮৪ কোটি ৩৪ লাখ ডলার।
২০১২-১৩ অর্থবছরে এসেছিল এক হাজার ৪৪৬ কোটি ১১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স কিছুটা কমে হয় এক হাজার ৪২২ কোটি ৮২ লাখ ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আবার বেড়ে হয়েছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। তবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আবার কিছুটা কমে আসে এক হাজার ৪৯৩ কোটি ১১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, জুলাই মাসে রাষ্ট্রীয় খাতের ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২৭ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা জুন মাসে ছিল ৩১ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। জুলাইতে বিশেষায়িত খাতের ব্যাংক দুটির মাধ্যমে এসেছে ৯৮ লাখ ডলার। তথ্যে আরো দেখা যায়, বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে জুলাই মাসে ৮১ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা এর আগের মাসে ছিল ৮৭ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৪২ লাখ ডলার, যা জুনে ছিল মাত্র ৯৪ লাখ ডলার।

শনিবার, আগস্ট ০৫, ২০১৭

পোশাকে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

পোশাকে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

তৈরি পোশাক খাতে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ২০১৬ সালে এ খাতে বিশ্বের দ্বিতীয় রফতানিকারক দেশের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি পোশাকের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের রফতানির অংশও বেড়েছে। এর কারণ, বিশ্বব্যাপী চাহিদা দুর্বল থাকায় বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোও খুব একটা ভালো করতে পারেনি। কারও কারও রফতানি কমেছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডবি্লউটিও) গত শুক্রবার বিশ্ব বাণিজ্যের পরিসংখ্যান নিয়ে তাদের বার্ষিক প্রকাশনা প্রকাশ করেছে। এতে দেশওয়ারি আমদানি-রফতানির পরিসংখ্যানের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে তৈরি পোশাক রফতানি ও আমদানির ওপর আলাদা বিশ্লেষণ রয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ২০১৬ সালে ১৬১ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করে বরাবরের মতো শীর্ষস্থানে রয়েছে চীন। তবে দেশটির রফতানি আগের বছরের চেয়ে ৭ শতাংশ কমেছে। মোট রফতানিতে চীনের অংশও কমেছে। ২০১৫ সালে মোট পোশাক রফতানিতে চীনের অংশ ছিল ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা কমে ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। প্রতিবেদনে চীনের পর দ্বিতীয় অবস্থানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাম থাকলে এ জোট মূলত ২৮টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত। ফলে দেশওয়ারি রফতানির বিবেচনায় চীনের পরেই বাংলাদেশ।
২০১৬ সালে বাংলাদেশ ২৮ বিলিয়ন ডলার (২৮০০ কোটি ডলার) পোশাক রফতানি করেছে। রফতানি বেড়েছে ৬ শতাংশ। আর বিশ্বের মোট পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের অংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের অংশ ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ওই বছর বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছিল ৬ শতাংশ হারে।
শীর্ষ দশে বাংলাদেশের পরে রয়েছে ভিয়েতনাম। দেশটি গত বছর ২৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করেছে। তাদের রফতানি বেড়েছে ৫ শতাংশ। মোট বাজারে ভিয়েতনামের অংশ ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এর পরে ভারত রফতানি করেছে ১৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক। বিশ্ব রফতানিতে ভারতের অংশ ৪ শতাংশ। তবে ২০১৬ সালে ভারতের রফতানি কমেছে ২ শতাংশ। একমাত্র কম্বোডিয়ার রফতানি প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের মতো ৬ শতাংশ। শীর্ষ দশে থাকা তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার রফতানি প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের চেয়ে কম।
তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের কাছে এ পরিসংখ্যানের বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১৬ সালের পঞ্জিকাবর্ষে রফতানি মোটামুটি ভালো ছিল। চলতি বছরে এসে অবস্থার অবনতি হচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসে রফতানি বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ। যখন পঞ্জিকাবর্ষ হিসাবে ২০১৭ সালের পরিসংখ্যান আসবে তখন দেখা যাবে আগের বছরের চেয়ে অবনতি হয়েছে। তার মতে, প্রতিযোগী অনেক দেশে ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার দর যেভাবে কমেছে, টাকার ক্ষেত্রে তা হয়নি। এ ছাড়া বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নিয়ে নানা অপপ্রচারের প্রভাবও রয়েছে।
গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সমকালকে বলেন, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ তার মার্কেট শেয়ার ধরে রেখেছে। ২০১৭ সালে এ পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের রফতানি পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মনে হচ্ছে, আগের বছরের তুলনায় ২০১৭ সাল তৈরি পোশাক খাতের জন্য খারাপ যাবে। তিনি বলেন, নানা কারণে চীন তৈরি পোশাক রফতানি নির্ভরতা কমিয়ে অন্য শিল্পে মনোযোগ দিচ্ছে। চীনের এই ছেড়ে দেওয়া বাজারের অংশ কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম কিছুটা পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সে তুলনায় বাংলাদেশ এ সুবিধা নিতে পারছে না। বাংলাদেশ এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে রফতানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে পারবে।
ডবি্লউটিওর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে সামগ্রিক রফতানি চাঙ্গা ছিল না। উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে রফতানি কমেছে ৬ শতাংশ। এশিয়ার ক্ষেত্রে কমেছে ৭ শতাংশ। বাংলাদেশ মোট ৩৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। আর আমদানি করেছে ৪১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। বাংলাদেশ সেবা রফতানিতে অনেক ভাল প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০১৬ সালে যেসব দেশ বাণিজ্যিক সেবা রফতানিতে দুই অংকের প্রবৃদ্ধি পেয়েছে, বাংলাদেশ তার অন্যতম। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ।

বুধবার, আগস্ট ০২, ২০১৭

নতুন আইনের প্রথম ২ সপ্তাহে শারজাহ পুলিশ ১০,৩৫৮ ট্র্যাফিক আইন লঙ্গন রেকর্ড করেছে

নতুন আইনের প্রথম ২ সপ্তাহে শারজাহ পুলিশ ১০,৩৫৮ ট্র্যাফিক আইন লঙ্গন রেকর্ড করেছে

শারজাহ পুলিশের ট্র্যাফিক এবং পেট্রোল বিভাগের জেনারেল কম্যান্ড জানায়, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন ট্র্যাফিক আইনের আওতায় শারজাহ'তে ১০,৩৫৮টি ট্র্যাফিক আইন লংগন রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এই তালিকায় ট্র্যাফিক কন্ট্রোল ডিভাইস অমান্য করার রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই। পেট্রোল, বারবার নিয়মতান্ত্রিক সচেতনতামূলক প্রচারণা, চালকদের লিফলেট বিতরণ চালকদেরকে আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সর্বোপরি উচ্চ জরিমানার কারনে আইন লংগন অনেকাংশে কমে এসেছে। শারজাহ পুলিশ বিভিন্ন মাধ্যমে এই নতুন ট্র্যাফিক আইন সম্পর্কে প্রচারণা চালিয়েছে।
আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন ও মিশর আরো ১৮ ব্যক্তি ও সংগঠনকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।তার মধ্যে ৯জন ব্যক্তি এবং ৯টি প্রতিষ্ঠান

আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন ও মিশর আরো ১৮ ব্যক্তি ও সংগঠনকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।তার মধ্যে ৯জন ব্যক্তি এবং ৯টি প্রতিষ্ঠান

যৌথ এক বিবৃতিতে তারা জানায়, "আমরা উগ্রবাদ, উগ্রবাদে অর্থায়ন বন্ধ, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, চরমপন্থী মতাদর্শ, ঘৃণাত্মক বক্তব্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং ক্রমাগত মূল্যায়ন করে যাব
নতুন তালিকাভুক্ত ৯টি প্রতিষ্ঠান
- আল বালাগ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন (ইয়েমেন)
- আল ইহসান চ্যারিটেবল সোসাইটি (ইয়েমেন)
- রাহমা চ্যারিটেবল অর্গেনাইজেশান (ইয়েমেন)
- বেনগাজী রেভুলুশানারি শুরা কাউন্সিল (লিবিয়া)
- আল সারাইয়া মিডিয়া সেন্টার ( লিবিয়া)
- বুশরা নিউজ এজেন্সি ( লিবিয়া)
- রাফাল্লা সাহাতি ব্রিগেড ( লিবিয়া)
- নাবা টিভি (লিবিয়া)
- তানুশ ফাউন্ডেশান ফর দাওয়া, কালচার এন্ড মিডিয়া (লিবিয়া)   

 কালো তালিকাভুক্ত ৯ ব্যক্তি
১- বুনেইন আল সাইদ খালিদ (কাতার)
২- শাকর জুমা আল শাহওয়ানি (কাতার)
৩- সালেহ বিন আহমদ আল ঘানিম (কাতার)
৪- হামিদ হামাদ হামিদ আল আলী (কুয়েত)
৫- আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আল ইয়াজিদি ( ইয়েমেন)
৬- আহমদ আলী আহমদ বারাউদ (ইয়েমেন)
৭- মোহাম্মদ বকর আল দাবা (ইয়েমেন)
৮- আল সাদি আবদুল্লাহ ইব্রাহিম বুখাযেম (লিবিয়া)
৯- আহমদ আব্দ আল জলিল আল হাস্নাওয়ি (লিবিয়া)

এই সকল ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কাতার সরকারের সাথে সম্পর্ক আছে। তিন কাতারি এবং এক কুয়েতি নাগরিক সিরিয়ায় আল নুসরা ফ্রন্ট এবং অন্য সন্ত্রাসী মিলিশিয়া  গ্রুপকে দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আসছে।
ইয়েমেনের তিন ব্যাক্তি এবং তিন প্রতিষ্ঠান কাতারি বিভিন্ন চ্যারিটেবল প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত অর্থ আল কায়েদাকে প্রদান করে আসছিল।
লিবিয়ার ২ ব্যক্তি এবং ৬ সন্ত্রাসী প্রতিষ্ঠান লিবিয়ার সন্ত্রাসী গ্রুপ গুলোর সাথে সম্পৃক্ত এবং তারাও কাতার এর বিভিন্ন কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত অর্থ লিবিয়ার সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিকে দিয়ে সন্ত্রাসে মদদ দিয়ে আসছিল।   



সংযুক্ত আরব আমিরাতে ট্যাক্স আইন ঘোষণা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ট্যাক্স আইন ঘোষণা

সংযুক্ত আমিরাতের মহামান্য প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন যায়েদ আল নাহিয়ান বহু প্রতীক্ষিত ট্যাক্স ফেডারেল আইন নম্বর- ৭/২০১৭ ঘোষণা করেছেন। এই আইনের মাধ্যমেই আমিরাতে টেক্স ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা এবং আদায় সম্পর্কিত সকল কাজ সম্পন্ন করা হবে। 
  দুবাইয়ের ডেপুটি রুলার, আমিরাতের ফাইন্যান্স মিনিস্টার এবং এফটিএ চেয়ারম্যান শেখ হামদান বিন রাশিদ আল মাক্তুম বলেন, "ট্যাক্স সিস্টেম চালু আমিরাতের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক"। 

মহামান্য প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন যায়েদ আল নাহিয়ান এর ট্যাক্স আরোপ আমিরাত সরকারের আয়কে টেকসই এবং বহুমুখী করার জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ট্যাক্সের মাধ্যমে অর্জিত বর্ধিত সম্পদ সরকারকে একটি ভাল ভবিষ্যতের জন্য তার উন্নয়ন এবং অবকাঠামোর আধুনিকায়নে গতি বজায় রাখতে সক্ষম করে তুলবে। " 

এর মাধ্যমে কিভাবে টেক্স আইন কাজ করবে, ফেডারেল অব টেক্স এডমিনিস্ট্রেশান বা টেক্স আদায়কারী এবং প্রদানকারীর অধিকার এবং বাধ্যবাদকতা সমূহ কি হবে তা বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। এই আইনে টেক্স পদ্ধতি, অডিট, আপত্তি, রিফান্ড, আদায় ও বাধ্যবাদকতা সহ, টেক্স নিবন্ধন, টেক্স রিটার্ন প্রস্তুতি, দাখিল, পেমেন্ট, স্বেচ্ছাপ্রকাশ নিয়ম এবং কর ফাঁকি সহ সাধারন সকল তথ্য সন্নিবেশিত করা হয়েছে। 

সংক্ষেপে টেক্স আইন 

যে কোন ব্যক্তি কোন ব্যবসা পরিচালনা করিলে তাকে যথাযত হিসাব, বাণিজ্যিক হিসাব বই সংরক্ষণ সহ আইনে উল্লেখিত কর সম্পর্কিত সকল তথ্য সংরক্ষণ করিতে হইবে। কর রিটার্ন, ডাটা, তথ্য, রেকর্ড সহ সকল ডকুমেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আরবিতে দাখিল করিতে হইবে। ফেডারেল টেক্স অথরিটি অন্য ভাষায়ও ডকুমেন্ট গ্রহণ করবে সে ক্ষেত্রে আরবি অনুবাদ কপিও সাথে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে সকল খরচ হিসাব প্রদানকারীকেই বহন করিতে হইবে। 

আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তি নিবন্ধনযোগ্য হলে তাকে নিবন্ধিত হতে হবে। নিবন্ধনের পর নিবন্ধিত ব্যক্তিকে টেক্স রেজিস্ট্রেশান নম্বর নিতে হবে এবং কর্তৃপক্ষের সাথে সকল লেনদেন এবং ডকুমেন্টে এই নম্বর উল্লেখ করিতে হইবে। যে কোন পরিস্থিতিতে ট্যাক্স রেকর্ড সম্পর্কিত তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে সে ক্ষেত্রে সকল সংশোধনী ২০ জুনের মধ্যে দাখিল করিতে হইবে। 

নিবন্ধনের পর নিবন্ধিত ব্যক্তিকে প্রতি বছর টেক্স রিটার্ন প্রস্তুত করতে হবে এবং তা নির্দিষ্ট সময়ে কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করতে হবে। সেক্ষেত্রে কোন প্রদেয় থাকলে তা প্রদান করতে হবে। টেক্স রিটার্ন দাখিলের পর আইন অনুযায়ী কোন রিটার্ন অসম্পূর্ণ থাকিলে তা ফেরত দেওয়া হইবে। 

আইন অনুযায়ী অথরিটির অনুমোদিত একজন টেক্স এজেন্ট নিয়োগ করিতে হইবে যারা নিবন্ধিত ব্যক্তির সকল ফাইল এবং ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করিবে। এজেন্ট ছাড়া কোন ব্যক্তি টেক্স এজেন্ট এর কাজ করতে পারিবে না যতক্ষণ না ঐ ব্যক্তি টেক্স এজেন্ট হিসেবে কাজ করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট নিবন্ধিত না হয়। টেক্স এজেন্ট বা টেক্স প্রফেশানাল হওয়ার জন্য এক্সিকিউটিভ রেগুলেশান আইনে নিবন্ধন,অধিকার এবং বাধ্যবাদকতা সমূহ বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হিসাব ঠিকমত আইন অনুযায়ী সম্পাদন করেছেন কিনা তা তাদের অডিট এর মাধ্যমে নিশ্চিত হতে পারবেন। এই অডিট কর্তৃপক্ষের অফিসে বা টেক্স রিটার্ন জমাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা স্টোরে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ঐ প্রতিষ্ঠানকে কমপক্ষে ৫ কর্ম দিবস আগে জানানো হবে। 

টেক্স অডিটের সময় কর্তৃপক্ষ চাহিলে মূল ডকুমেন্ট, পণ্যের নমুনা, যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য সম্পদ যা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মওজুদ আছে তা টেক্স অডিটরকে প্রদান করতে হবে। টেক্স অডিট কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী অফিসিয়াল সময়ে সম্পন্ন করা হবে। যদি অফিস সময়ের বাইরে অডিটের প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রে ডিরেক্টর জেনারেল এর সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হইবে। 

প্রথম অডিটে যদি টেক্সে কোন গরমিল হয়েছে বলে সন্দেহ হয় তাহলে কর্তৃপক্ষ পুনরায় অডিটের আদেশ দিতে পারবেন। নিবন্ধিত সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, তাদের টেক্স এজেন্ট বা বৈধ প্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের সময় টেক্স অডিটরদেরকে সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। টেক্স অডিটরদের আইডি, টেক্স অডিট নোটিফিকেশনের কপি নেওয়া, কর্তৃপক্ষের অফিসের বাইরে হওয়া অডিট কার্যক্রমের সময় উপস্থিত থাকা, মূল যে কোন ধরনের ডকুমেন্টের কপি, ডিজিটাল ডকুমেন্টের কপি বা টেক্স অডিটের সময় নেওয়া যে কোন ধরনের তথ্য বা কপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে তা নিতে পারিবেন। 

টেক্স অথরিটি অডিটের পর ৫ দিনের মধ্যে প্রদেয় কর উল্লেখ সহ এসেসমেন্ট পেপার প্রদান করিবে। তবে করযোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি নির্দিষ্ট সময়ে নিবন্ধিত হতে না পারে অথবা নির্দিষ্ট সময়ে টেক্স রিটার্ন জমা দিতে না পারে, যদি ভুল টেক্স রিটার্ন জমা দেয় এবং টেক্স এজেন্ট যদি ঠিকমত টেক্স হিসাব করতে না পারে তাহলে এসেসমেন্ট পেপার দেওয়া সম্ভব হবে না। 

যদি কোন ব্যক্তি অডিট স্টাফের দূর সম্পর্কেরও আত্মীয় হয়, যদি তাদের মধ্যে বা তাদের কোন আত্মিয়ের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকে বা ডিরেক্টর জেনারেল এর নির্দিষ্ট আদেশ থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে ঐ অডিট স্টাফ সে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের টেক্স অডিট সম্পর্কিত কোন কাজ করতে পারিবে না। কর্তৃপক্ষের কোন স্টাফ গোপনীয় কোন তথ্য কারও কাছে প্রকাশ করতে পারিবে না। 

ট্যাক্সের এর ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য মিনিস্ট্রি অব ফাইন্যান্স এর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। www.mof.gov.ae