বুধবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৭

ফুজেইরায় দেশী বিদেশীরা মিলে করল বাংলাদেশ ডে

জাহাঙ্গীর কবীর বাপপি

রৌদ্রকরোজ্জল বিস্তীর্ন দুর্গম হাজের পর্বতমালা,পার্বত্য উপাত্যকা, দীর্ঘতর সমুদ্রসৈকত আর প্রাচীন অতীত ঐতিহ্যের দুর্গরাজি নিয়ে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে এমিরেটস অব ফুজেইরাহ।

গালফ অব ওমান এর পূর্ব উপকূলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্ষুদ্রতম একটি অঙ্গরাজ্য ফুজেইরাহ।সমুদ্র তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এই নয়নাভিরাম আরব্যর জনপদটি।এখানে বিভিন্ন পেশায়,ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়,সেবা ও হসপিটালিটি সহ নানা সেক্টরে সুনামের সাথে কাজ করছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

লি মেরিডিয়ান আল আকাহ বীচ রিসোর্ট,ফুজেইরাহ'র অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেল। এখানে কর্মরত বাংলাদেশীরা এই স্বাধীনতার মাসে তার লাল সবুজের দেশকে প্রবাসের মাটিতে তুলে ধরতে এক বর্ণাঢ্য আয়োজন করে সম্প্রতি ।দেশের নিসর্গ খচিত ম্যুরাল, মনোরোম আলোকসজ্জা,দেশের গানের তালে তালে দেশী বিদেশীদের অংশগ্রহণে নাচসহ দেশীয় সংস্কৃতির নানা আয়োজনে মুখর ছিল হোটেল কর্মী ও পরিবার পরিজনদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ডে'র জমকালো আয়োজন।এর আগে ভারত,শ্রীলংকা,ফিলিপাইনী কর্মীরা তাদের স্ব স্ব দেশকে উপস্থাপন করলে তা থেকে নিজ দেশকে বিশ্ব সভায় তুলে ধরার উদ্যোগ নেন বাংলাদেশীরা। আর তাতে সবচে' বেশী অনুপ্রেরণা যোগান লি মেরিডিয়ান গ্রূপের বৃটিশ মহাব্যবস্থাপক প্যাট্রিক অ্যান্টাকি।হোটেল এর ৩৬ টি দেশের অর্ধ সহস্রাধিক কর্মীর মাঝে আবহমান বাংলার শৌর্য বীর্যের গৌরব গাঁথা,তার সংস্কৃতির ঐতিহ্য, পোশাক পরিচ্ছদ,নানা ধরনের ভর্তা,পান্তা ইলিশ,বিভিন্ন পদের বিরীয়ানী,পায়েস সহ ২০ টিরও বেশী রসনাবিলাসী খাদ্য সম্ভার সবার মাঝে এক নতুন বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দেয়।এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউ এ ইতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ডাঃ মোহাম্মদ ইমরান।পুরো আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন হোটেলের ডাইরেক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং মোহাম্মদ মাসুদুল হক। লি মেরিডিয়ান গ্রূপের বৃটিশ মহাব্যবস্থাপক প্যাট্রিক অ্যান্টাকি সহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও বাংলাদেশী কর্মীরা রাষ্ট্রদূত ও তাঁর পতœীকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বরণ করে নেন।ঘোড়সওয়ার পরিবেস্টিত করে গ্রামীন বাংলার ঐতিহ্যের পালকিতে করে তাদের বয়ে আনা হয় মূল হোটেল ভবন থেকে ভেন্যূতে। এতে রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন যে বাংলাদেশীরা আমিরাতের তৃতীয় বৃহত্তম কম্যুনিটি হিসেবে দেশটির উন্নয়নে ব্যপক অবদান রেখেছে।তিনি বাংলাদেশের কৃষ্টি সংস্কৃতিকে এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য আয়োজক ও হোটেল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এখানে আরো বাংলাদেশী কর্মীর কর্মসংস্থান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মহাব্যবস্থাপক প্যাট্রিক অ্যান্টাকি বাংলাদেশ সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতের কাছে জেনে চমৎকৃত হন।তিনি বলেন,এদেশে প্রায় ২শ টি দেশের মানুষ বাস করে।আমাদের হোটেলেই আছেন ৩৬ টি দেশের কর্মী। অথচ আমরা একে অন্যের দেশ সম্পর্কে জানি না,বহুদিন আগে আমাদের কেরালার বন্ধুরা নিজেদেরকে উপস্থাপনের পর শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইনও একই উদ্যোগ নেয়। আমি চাইলাম বাংলাদেশীরাও একই চ্যালেঞ্জ নিক। আজ সে চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাদের জানার সুযোগ করে দিলেন। আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা ইউ এ ই তে একটি বহুজাতিক পরিমন্ডলে বসবাস করছি। আমাদের কম্যুনিটি গুলোর মধ্যে কালচারাল শেয়ারিং এর মাধ্যমে আমরা সমঝোতা বৃদ্ধি করতে পাবি।। তিনি বলেন,"আমি জানতামই না যে বাংলাদেশীরা এদেশে তৃতীয় বৃহত্তম কম্যুনিটি। ভবিষ্যতে আমরা চাই আমাদের সাথে আরো অধিক সংখ্যক বাংলাদেশী যোগ দিক।" তাঁর কথায় উৎফুল্ল প্রবাসীরা করতালিতে ফেটে পড়েন।

সাউদ আফ্রিকান, হেড অব এক্সিকিটিভ অফিস জ্যানেট মুন্সুমি'র কথায়," এ ধরনের একটা বাংলাদেশী কম্যুনিটির অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে করছি।বাংলাদেশী সংস্কৃতি আর বাংলাদেশকে আজ আরো ভাল্ভাবে জানলাম।"

ঘানার রুম ডিভিশন কোর্ডিনেটর লুইজা নাতাশা মাডেল তো বাংলাদেশী খাবার জীবনে প্রথম বারের মত খেয়ে তার ভক্ত হয়ে গেছেন,বলল্"েতোমাদের মানুষ ,খাবার, সংস্কৃতি সবই আমার ভালো লেগেছে।

"...ঝর ঝর ঝরিছে বা-রি-ধা-রা...!" র সাথে তাল মুদ্রা মিলিয়ে সাবলীল নাচছিলেন চঞ্চলমতি ইউক্রেনের মেয়ে মার্গারিটা ফেদোরোভা। তন্ময় হয়ে দেখছিলাম সে নাচ,আর অনুষ্ঠান শেষে কয়েকটি নাচে অংশ নেয়া এই বিদেশিনী মিডিয়া ক্রূদের কাছে এসে দাঁড়াতেই কথা হল এভাবে।

ঃহাউ কুড ইয়্যু ডু ইট...ডু ইয়্যু আন্ডারস্ট্যান্ড এ সিঙ্গেল বেঙ্গলী ওয়ার্ড?



ঃ "নো,নট এট অল...! আই জাস্ট চুজ দিজ ক্ল্যাসিক্যাল সংস এমাং সাম আদারস,ফলোড দ্য রিদম এন্ড মুভমেন্টস...দ্যাটস ইট।"। মিষ্টি হেসে বলল মার্গারিটা।মার্গারিটার মত পোলান্ড,রাশিয়া,উজবেকিস্তান,ফিলিপাইনের মেয়েরাও বাংলাদেশী সহকর্মীদের সাথে তাল মিলিয়ে নেচে গেয়ে জয় করলেন দর্শক হৃদয়। হোটেলের ৩৬টি দেশের কর্মীদের মধ্যে লাল সবুজের বাংলাদেশের পতাকা, দেশী বিদেশী অংশগ্রহনকারীর পরিবেশনায় বাংলাদেশী পোশাকে নাচ গান,নানা উপাদানের ভর্তা,পান্তা ইলিশ সহ ২০টিরও অধিক উপাদেয় দেশী খাবার দাবার, মিষ্টান্ন সামগ্রী বিদেশী ও প্রবাসীদের মন কাড়ে। আর আয়োজকরাও একটি অনন্য উচ্চতার বাংলাদেশকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরতে পেরে তৃপ্ত হন।

শেয়ার করুন

0 comments: