মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৭

চেক বাউন্সিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট আইন

সাজা: ফৌজদারি আদালত কিংবা দেওয়ানী আদালত



ফৌজদারী আদালত এবং দেওয়ানী আদালতের কার্যক্রম চলে স্বতন্ত্রভাবে। যখন কোনো চেকের (যা বাউন্স হয়েছে) গ্রাহক এর ইস্যুকারীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগপত্র দায়ের করে, মামলাটি তখন পাবলিক প্রসিকিউশনের নিকট প্রেরণ করা হয় এবং তারপর ফৌজদারী আদালতে। ফৌজদারী আদালত ইস্যুকারী ব্যক্তিকে (স্বাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে) দোষী সাব্যস্ত করতে পারে এবং তাকে দুটো অপশন দিতে পারে- অর্থ পরিশোধ করা বা জেলে যাওয়া। যাইহোক, জেল দেওয়া সত্ত্বেও চেকে থাকা অর্থ ফেরত না পেলে অভিযোগকারী তথ্য-প্রমাণসহ দেওয়ানী আদালতে অর্থ পরিশোধের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। দেওয়ানী আদালত তখন ইস্যুকারী ব্যক্তিকে অর্থ পরিশোধের আদেশ দিতে পারে কিংবা পূর্বোক্ত কারাবাস পালনের।

জেলের মেয়াদ পূর্ণ হলে তারপর কি?

কোনো ব্যক্তিকে যদি চেক বাউন্সিংয়ের অপরাধে সাজা দেওয়া হয় এবং সে কারাবাসের মেয়াদ পূর্ণ করে, মেয়াদ শেষ হলে সে মুক্তি পাবে। যাইহোক, যদি মূল অভিযোগকারী মোকদ্দমাটি দেওয়ানী আদালতে প্রেরণ করে তাহলে অভিযুক্তকে অপরিশোধিত অর্থ ফেরত দিতে হবে, অন্যথায় আবার জেলে যেতে হবে। যদি চলমান কোনো মামলা কিংবা দ্বিতীয় মোকদ্দমা না থাকে তাহলে কারাবাসের মেয়াদ পূর্ণ হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার বাজেয়াপ্ত পার্সপোর্ট ফেরত নিয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারবে।

চেক কে স্বাক্ষর করেছে?

অপর্যাপ্ত অর্থের কারণে চেক ফেরত আসলে কোনো কোম্পানী বা পার্টনারশীপ ফার্মের সকল পার্টনার বা শেয়ারহোল্ডারকে দায়ী করা যাবে না। ফৌজদারী দায় কেবল সেই ব্যক্তিই বহন করবে যে চেকটি স্বাক্ষর করেছিল- হতে পারে এটা ম্যানেজার কিংবা অন্যকোনো পার্টনার। অন্যান্য লোকদের ব্যক্তিগত তহবিল এই চেকের মূল্য থেকে দায়মুক্ত থাকবে। এর মূল্য কেবল কোম্পানীর সম্পত্তি থেকেই আদায় করা যাবে। যাইহোক, যদি অর্থ উত্তোলন করে নেওয়া কিংবা তহবিল সরিয়ে ফেলার কারণে চেক বাউন্সড হয় এবং এতে কোনো ধরনের প্রতারণা কিংবা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায় তবে মামলাটি ভিন্ন দিকে গড়াতে পারে।

মালিক বা ম্যানেজার পলাতক

যদি এটা প্রমাণিত হয় যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর ফান্ডে চেকের অর্থ পরিশোধের যথেষ্ট পরিমান অর্থ নেই তাহলে অভিযোগকারী চেকে স্বাক্ষরকারী ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করতে পারে, যদিও ম্যানেজার দেশ ত্যাগ করে থাকে। রায় ঘোষণা হওয়ার পর অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উক্ত ম্যানেজারের নাম ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইন্টারপোল খুব কার্যকরী এবং তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনেক ওয়ান্টেড অপরাধীকে খুঁজে বের করেছে।


শেয়ার করুন

0 comments: