মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৭

একজন মায়ের শেষ চিঠি


মা” মারা যাবার কিছু দিন পর মায়ের ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে মায়ের হাতের লেখা একটি চিঠি পায় তার ছেলে। চিঠিতে লেখা থাকে খোকা এই চিঠি যখন তোর হাতে পরবে তখন আমি তোর থেকে অনেক দুরে চলে যাবো যেখান থেকে কেউকোনো দিন ফিরে আসে না।খোকা তোর অনেক কথা মনে নেই তাই এই চিঠিতে লিখে গেলাম তোর মনে না থাকা সেই কথা গুলি। তুই যখন ছোট ছিলি একবার তোর জ্বর এসে ছিলো, আমি তিন রাত ঘুমাতে পারি নি তোকে বুকে নিয়ে বসে ছিলাম কারন তোকে বিছানায় শোয়ালেই তুই কেঁদে উঠতি। তোর বাবা আমাকে বলেছিলো তোকে শুইয়ে রাখতে কিন্তু আমি পাড়িনি তোর বাবার কথা রাখতে সে জন্য আমাকে অনেক গালাগাল দিয়ে ছিলো তোর বাবা। তোকে যখন রাতে বিছানায় শোয়া তাম তুই প্রশ্রাব করে বিছানা ভিজিয়ে ফেলতি তখন আমি তোকে শুকনো যায়গায় শোয়া তাম। আর আমি তোর প্রশ্রাবে ভিজানো সেই জায়গায় শুইয়ে থাকতাম তোর বাবা যখন মারা গেলো তখন অনেক কষ্টে আমাকে সংসারটা চালাতে হয়ে ছিলো একটা ডিম বেজে দুই টুকরা করে তোকে দু বেলায় দিতাম, এমন দিন গেছে শুধু লবন দিয়ে খেয়ে উঠেছি তোকে বুঝতেও দেই নাই আমি। একদিন রান্না করার মতো কোনো চাল ছিলোনা আমার কাছে,তখন কোনো উপায় না পেয়ে একবাড়িতে কাজ করে কিছু চাল এনে ভাত রেধে খাইয়ে ছিলাম তোকে। হয়তো তুই ভুলে গেছিস, যখন তোর এস এস সি পরিক্ষার ফি দিতে পারছিলামনা তখন তোর বাবার দেয়া শেষ স্মৃতি নাক ফুলটা বিক্রি করে দিয়ে ছিলাম আরো অনেক কথা আছে যা লিখতে গেলে হয়তো খাতা শেষ হয়ে যাবে কিন্তু লেখা শেষ হবে না। ভাব ছিস এতো কথা তোকে কেনো লিখে গেলাম খোকা তুই যখন বড়ো হলি একটা ভালো চাকরি পেলি কিছু দিন পরে বিয়ে করলি আমি তোদের নিয়েভালোই ছিলাম। একদিন ঘর থেকে কিছু টাকা চুরি হলো, সেই দিন তুই আমাকে জিজ্ঞেস করে ছিলি আমি তোর টাকার ব্যাপারে কিছু জানি কিনা, তুই আমাকে সরাসরি কিছু না বল্লেও আমি বুজতে পেরেছিলাম তুই আমাকে চোর ভেবে ছিলি। কিছু দিন পর তুই আমাকে চোরের অপবাদ দিয়ে অন্য একটি ঘরে রেখে দিলি। খোকা আমার সেই ঘরটিতে থাকতে অনেক ভয় করতো কারন ঘরটি তোর থেকে অনেক দুরে ছিলো,খোকা তোকে একদিন বলে ছিলাম আমার একা একা থাকতে ভয় লাগে, তুই বলে ছিলি মরন আসলে যেকোনো যায়গায় আসবে। আমার হাটুর ব্যাথাটা বেড়ে ছিলো তোকে বলে ছিলাম খোকা,তুই বলেছিলি যাদের ছেলে নাই তারা যেভাবে থাকে,, তুমি ও সে ভাবে থাকো
আর কিছু লিখবো না,,হয়ত তুই সহ্য করতে পারবিনা.

শেয়ার করুন

0 comments: