মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৭

নতুন নীতিমালার অধীনে শারজার মুদি দোকান



আইনে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে সময় দেয়া হবে ১ বছর-

 

একই ধরনের সাইনবোর্ড, নিরাপত্তা ক্যামেরা, নিরাপদ সংরক্ষনাগার স্থাপন করতে হবে শারজার মুদি দোকান গুলোকে। শারজাহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন অধিদপ্তর (সেড) বাণিজ্যিক এলাকার সকল মুদি দোকান গুলোকে এই নীতিমালা প্রয়োগের জন্য ১ বছর সময় দিয়েছে। সেডের চেয়ারম্যান সুলতান আল সুয়াইদি বলেন, নতুন রিকয়ারমেন্টগুলো সেবার মান উন্নত করবে। সে সাথে গ্রাহকের চাহিদাও পুরন করবে। নতুন আইন মেনে চলার জন্য দোকানে দোকানে লিফলেট বিলি করা শুরু করেছে সেড। ২০১৩ সালে প্রয়োগ করা আবুধাবির মুদি দোকান প্রজেক্টের সাথে এই উদ্যোগের বিশেষ একটা মিল রয়েছে। এর আওতায় ছিল একই ধরনের সাজসজ্জা, সেলফ বিন্যাস আর উন্নত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। হাজার হাজার দোকান মুদি প্রজেক্ট অনুযায়ী বন্ধ করে দেয়া হয় স্বল্প পরিসরের জন্য। সারজার নতুন নীতিমালা অনুযায়ী দোকান গুলোর ক্ষেত্রফল হতে হবে কমপক্ষে ৩০ বর্গ মিটারের। এলোমেলো ছড়ানো ছিটানো শেলফ রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে নতুন আইনে। বেক করা খাদ্য দ্রব্যের জন্য থাকতে হবে ধাতব শেলফ। ফল ও সবজি অবশ্যই ফ্রিজে রাখতে হবে। ৫ গ্যালনের পানির বোতল হলে, সে জন্য লোহার জাল দিয়ে ঘিরে রাখতে হবে। আর সকল দোকানের জন্য পোকামাকড় মারার ফাঁদ রাখা বাধ্যতামূলক করা করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী সকল দোকানের সামনের দিকে কাঁচ দিয়ে ঘেরা থাকবে। নামের ব্যাজ লাগানো ইউনিফর্ম পরতে হবে দোকানের সকল কর্মচারীকে। সুয়াইদি আরো জানান, আমিরাত ও সারজার নাগরিকদের জন্য বিনিয়োগ সুযোগ তৈরি এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। খুচরা বিকিকিনির ক্ষেত্রে প্রথাগত পদ্ধতি থেকে আধুনিক ব্যবস্থায় উন্নিত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। আল সুয়াইদির মতে, রিটেইল সেক্টরকে আকর্ষনীয় করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করে তোলা হবে। আর এভাবে আমিরাতের অর্থনীতি আরো উন্নত হবে। এর মধ্যে কিছু নীতিমালা সারজা পৌরসভার সাথে সম্পর্কিত। আর নিরাপত্তা বিষয়ক নীতিমালা গুলো দেখভাল করবে সারজা পুলিশ। দোকানগুলো আইন কানুন মেনে চলছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য বাণিজ্যিক এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করবে সেড ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিশেষ টিম। সারজা পৌরসভার মুখপত্র বলেন, দোকানগুলো নীতিমালা মেনে চলছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে পৌরসভার ভূমিকা তেমন গুরত্বপূর্ন নয়। তবে নতুন রিকয়ারমেন্ট না মেনে চললে পৌরসভা দোকানের লাইসেন্স নবায়ন করবেনা। 

দোকানের সাজসজ্জা খরচঃ

ইতিমধ্যে দোকানগুলো নতুন আইন প্রয়োগের সম্ভাব্য খরচের একটা হিসাব উপস্থাপন করেছে। প্রতি দোকানের জন্য বিশেষ কিছু সুযোগ সুবিধা থাকবে। যেমন, অনেক দোকানের আগে থেকেই নিরাপত্তা ক্যামেরা, ফ্রিজ ও দোকানের সামনের দিকে আয়না দিয়ে ঘেরা রয়েছে। আল তাওয়ার এলাকার একটা মধ্যম আকৃতির দোকানের জন্য খরচ হবে ১ লাখ দিরহাম। ‘এই খরচ ফিরে পেতে আমাদের অনেক দিন সময় লাগবে। আমরা দিনে ৪ থেকে ৫ হাজার দিরহাম আয় করি। এর মধ্যে মুনাফা মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। আমাদের আয়ের সব যদি মুনাফা হয়ে যায়, তবুও এই খরচ ফিরে পেতে আমাদের লাগবে ১ মাস’। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্যাশিয়ার এমনটি জানালেন। অন্য একজন দোকানের ম্যানেজার জানান, নতুন ব্যাবস্থা অত্যান্ত সুন্দর বলতে হয়। তবে এই পরিবর্তনের মাধ্যমে যে বেচাকেনা বৃদ্ধি পাবে, সেটা আশা করা যায় না। এটা খুবই প্রতিযোগিতামূলক বাজার। তবে এর উপরে থাকছে বাড়তি খরচ। দোকানের মানসম্মত বহিসজ্জা নিয়ে গ্রাহকদের কোন আগ্রহ নেই। তারা চায়, তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য। 

এক নজরে নতুন আইনঃ –

-তাজা সবজি অবশ্যই দোকানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ইউনিটে রাখতে হবে

বাধ্যতামূলক সিসি ক্যামেরা স্থাপন

বেক করা খাদ্যদ্রব্য রাখতে হবে ধাতব শেলফে

একই ধরনের সাইনবোর্ড বাধ্যতামূলক

স্টাফদের পরতে হবে নেমট্যাগ যুক্ত ইউনিফর্ম

দোকানের দেয়াল মসৃন আর সাদা রঙ যুক্ত হতে হবে

দোকানের সামনের পাশে কাঁচ লাগাতে হবে

ফ্লোর অবশ্যই সিরামিক টাইল লাগাতে হবে

শেয়ার করুন

0 comments: