সোমবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৭

মেসির দুর্দান্ত পারফরমেন্সে এল ক্লাসিকোয় জয় নিয়েই মাঠ ছেড়ে এনরিকে শিষ্যরা।



লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে আজকের ম্যাচে রিয়ালের বিপক্ষে জয়ের কোন বিকল্প ছিল না বার্সেলোনার। হেরে গেলে বা ড্র করলে তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে রিয়ালের হোঁচট খাওয়ার অপেক্ষায়। বাঁচা মরার এ ম্যাচে মেসির দুর্দান্ত পারফরমেন্সে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছেড়ে এনরিকে শিষ্যরা।

সেই কবে এল ক্লাসিকোয় গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি। ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে ৪-৩ গোলে জিতেছিল বার্সেলোনা। ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। পরে কেটে গেছে আরও ৫টি ক্লাসিকো, কিন্তু গোলের দেখা পাননি মেসি। অবশেষে অধরা গোলটির দেখা পেলেন তিনি। আর এল ক্লাসিকোয় প্রথমবার মেসির গোল উদযাপন দেখলেন বার্সা কোচ লুই এনরিকে।

আক্রমণ-প্রতি আক্রমণের এই ম্যাচে গোলের সুযোগ তৈরি করেছে দুই দলই। ২৮ মিনিটে রিয়াল এগিয়ে যায় কাসেমিরোর গোলে। গোলের উৎসে ছিল টনি ক্রুসের কর্নার আর মার্সেলোর দারুণ এক মাপা পাস। ক্রুসের কর্নার থেকে বল পেয়ে মার্সেলো বলটি ফেলেন একেবারে বার্সেলোনার গোলমুখে। সেখানে রামোসের শট পোস্টে লেগে ফাঁকায় পেয়ে যান কাসেমিরো। সেখান থেকে জালে বল ঠেলতে কোনো অসুবিধা হয়নি কাসেমিরোর।

এক গোলে পিছিয়ে হতোদ্যম হয়ে পড়লেও দলকে জাগিয়ে তোলেন মেসি। ৩৩ মিনিটে সার্জিও বুসকেটস আর ইভান রাকিতিচের যুগলবন্দী রিয়ালের বক্সে পেয়ে যান মেসি। গোলকিপার নাভাসের পাশ দিয়ে সমতা ফেরান দারুণ এক প্লেসিং শটে।

৩৬ মিনিটে লুকা মডরিচের দারুণ এক শট গোলকিপার আন্দ্রে টের স্টেগান কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। ৪০ মিনিটে সুয়ারেজের পাস থেকে বল ধরে মেসি শট নিয়েছিলেন, কিন্তু সেটি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

৪৩ মিনিটে জর্ডি আলবা সুয়ারেজের পাস থেকে সুবিধাজনক জায়গায় দাঁড়িয়ে সহজ এক গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। প্রথমার্ধের একেবারে যোগ করা সময়ে মেসি একটি সুযোগ নষ্ট করেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা রিয়াল দারুণভাবেই করে। ৫২ মিনিটে মার্সেলোর ক্রস থেকে করিম বেনজেমার হেড কীভাবে যেন ঠেকিয়ে দেন বার্সা গোলকিপার স্টেগেন। টেলিভিশন ধারাভাষ্যকারেরা বলছিলেন ‘হ্যান্ডবল’ গোলকিপারের মতো সেভ ছিল ওটা। ৫৫ মিনিটে রাকিতিচের পাস থেকে পাকো আলকাসার আরও একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।

সুয়ারেজ একটি গোল পেতে পারতেন। যদি ৫৭ মিনিটে মেসির থ্রো ঠিকমতো ধরতে পারতেন। ৬৬ ও ৬৭ মিনিটে রোনালদো পরপর দুটি সুযোগ নষ্ট করেন। এর মধ্যে ৬৭ মিনিটে এসেনসিওর পাস থেকে রোনালদো যে মিসটি করেন, সেটি হয়ত তিনি খুব শিগগিরই ভুলে যেতে চাইবেন।

সুয়ারেজ পরের মিনিটেই দুর্দান্ত এক শট নিয়েছিলেন। তবে নাভাসের সেভটি ছিল আরও আসাধারণ। ৭১ মিনিটে এসেনসিও নিজের ‘ক্লাস’ আবার প্রমাণ করেন দুর্দান্ত এক শটে। গ্যারেথ বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে এসেননিও গোটা ম্যাচেই এমন করেই বার্সার রক্ষণভাগের পরীক্ষা নিয়েছেন।

৭২ মিনিটে দারুণ এক গোলে বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন রাকিতিচ। বক্সের বাইরে প্রথমে বল নিয়ে ডান পায়ের ঝটকায় বোকা বানান ক্রুসকে। এরপর বাম পায়ের শটে দুর্দান্ত গোলটি করেন এই ক্রোয়াট ফুটবলার।

পিছিয়ে পড়ে মাথা গরম করেই ৭৭ মিনিটে লালকার্ড দেখেন রামোস। সাইড লাইনের অনেকটা কাছে মেসিকে অহেতুক জোড়া পায়ে ট্যাকল করেন রিয়াল অধিনায়ক। তাঁকে লাল কার্ড দেখানো ছাড়া রেফারির আর কোনোই উপায় ছিল না।

৭৯ মিনিটেই খেলাটা ‘ শেষ ’ করে দিতে পারত বার্সেলোনা। আন্দ্রে গোমেজের কর্নার থেকে জেরার্ড পিকের দারুণ এক হেড দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন নাভাস।

ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট দারুণ খেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কোচ জিদান বেনজেমার জায়গায় হামেস রদ্রিগেজকে নামালে দারুণ গতি পায় গোটা দল। ৮৬ মিনিটে পুরো ম্যাচেই দুর্দান্ত ফুটবল খেলা মার্সেলোর ক্রস থেকে জাদুকরি ছোঁয়ায় বার্সেলোনা গোলকিপার টের স্টেগেনকে বোকা বানান রদ্রিগেজ। পরাজয় থেকে রক্ষা পাওয়ার স্বস্তি যখন গোটা বার্নাব্যুতে ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই সার্জি রবার্তোর সেই দুর্দান্ত দৌড়। গোমেজ-আলবার বল চালাচালি, সেখান থেকে মেসির পা ঘুরে বল রিয়ালের জালে।

শেয়ার করুন

0 comments: