সোমবার, এপ্রিল ১৭, ২০১৭

পরিবহন জঠিলতায় চট্রগ্রাম প্রবাসীদের কোন লাশ হিম ঘরে পড়ে থাকবে না- আকতার হোসেন (সি.আই.পি)


মোহাম্মদ আবু মুছা -

বেঁচে থাকার জন্য অর্থের প্রয়োজন। আর সকল মানুষের এ অর্থ আয়ের উৎস ভিন্ন কিন্তু অভ্যাসে বেশীরভাগ মানুষেরই রয়েছে অনেকটুকু মিল। প্রাথমিক চাহিদা মেঠানো, বিলাসদ্রব্যের চাহিদা, নিজেকে আরো উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় অর্থ আয়টা অভ্যাসে পরিণত হতে হতে এক সময় তা পরিণত হয় নেশায়। এ দীর্ঘ যাত্রা পথে অর্থ আয়ের নেশায় বেশিরভাগ মানুষই অনেকটা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে আর নিজেকে প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। আবার কিছু মানুষ নিজেকে শীর্ষ আরোহণে নিয়ে যাওয়ার পর নিজের অর্থের প্রায় সবটুকুই বিলিয়ে দেন অন্য মানুষের মাঝে। তৈরি করেন নিজস্ব দাতব্য প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে কয়েকজন লোক পৃথিবীর অর্ধেক সম্পদের মালিক আর তাদের বেশিরভাগই তাদের সম্পদের সিংহভাগ দান করেছেন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে। শীর্ষ সম্পদশালী এ মানুষগুলো গুটিকয়েক দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের প্রায় সকল সম্পদ দান করলেও বিতরণ এবং যাচাই প্রক্রিয়া কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান কিংবা লোকের মাধ্যমে হওয়ায় সকল প্রকৃত অভাবী মানুষগুলোর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

অন্যদিকে সমাজে ভালভাবে প্রতিষ্ঠিত মানুষগুলো তাদের পথ চলায় অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি আত্মকেন্দ্রিক না হয়ে যদি তাদের পাশের জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়া কিংবা হতাশাচ্ছন্ন মানুষগুলোর প্রতি একটু সদয় হন তাহলে সমাজ হতো আরো বেশী সুন্দর আর মানবিক। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত চট্রগ্রাম প্রবাসীদের লাশ সরাসরি বিমানের মাধ্যমে পরিবহনের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় দেশের খবর এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর আমিরাত থেকে সি আই পি প্রাপ্ত জনাব আকতার হোসেন ঘোষণা দেন, পরিবহন জঠিলতায় চট্রগ্রাম প্রবাসীদের কোন লাশ হিম ঘরে পড়ে থাকবে না। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট থাকলে একদিনের মধ্যে আমি লাশ চট্রগ্রাম পৌঁছানোর ব্যবস্থা করব। ধন্যবাদ, আকতার হোসেন সিআইপি । আপনার এ উদ্যোগের জন্য।

প্রতিষ্ঠিত মানুষগুলোর এ ধরনের সেবামুলক কর্মকান্ড অন্যদেরকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আত্মতৃপ্তি প্রদান করে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ সমুহের প্রবাসী নাগরিকদের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে বা বেশকিছু সংগঠনের মাধ্যমে এ ধরনের সেবামুলক কাজগুলো করে থাকে।

উল্লেখ্য পৃথিবীর সকল দেশই তাদের প্রবাস থেকে নাগরিকদের লাশ পরিবহনের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। একমাত্র ব্যতিক্রম আমরা। যাদের ঘাম আর শ্রমের টাকায় দেশের অর্থনীতি অন্য উচ্চতায় এই সকল রেমিটেন্স সৈনিকদের প্রতি এমন অবহেলা সত্যিই দুঃখজনক। বিশেষ করে চট্রগ্রাম এর প্রবাসীদের লাশ পরিবহনে প্রায়ই অবহেলা এবং অসহযোগিতার অভিযোগ উঠছে গত বেশ কয়েক বছর ধরে। প্রবাসে এসে লাশ হয়ে ফিরে যেতে জীবনের শেষ কটি দিন দেশ তথা দেশের মানুষের কাছ থেকে কিছু বিশেষ সুবিধা পাবে না এট সত্যি দুর্ভাগ্যজনক, মানা যায় না। যেভাবেই হোক অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়া এ মানুষগুলোর।

প্রবাসে জীবন যুদ্ধে সফল মোহাম্মদ আকতার হোসেন, সি.আই.পি

অনেক আমিরাত প্রবাসী বাংলাদেশী সংযুক্ত আরব আমিরাতে অর্থনৈতিকভাবে সফল হলেও মানবিক সহযোগিতা আর ত্যাগী মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন। আর তাদের মধ্যে একজন মোহাম্মদ আকতার হোসেন সি.আই.পি অন্যতম।

১৯৮৩ সনের জানুয়ারীতে জীবন ও জীবিকার তাগিদে এক বুক রঙ্গিন স্বপ্ন নিয়ে স্বদেশ এর মায়া ছেড়ে এসেছিলেন আমিরাতের হিল সিটি রাস আল খাইমাহ প্রদেশে। প্রবাসে এসে মাত্র ছয়শ দিরহাম বেতনে বাগানের চাকুরীতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। শত প্রতিকুলতার মাঝে জীবনে সফলতা লাভের আসায় কর্মকে প্রধান্য দিয়ে অতিবাহিত করেছেন কয়েকটি বছর। এরই মাঝে ছোট খাট ব্যাবসায় জড়িয়ে তেমন লাভবান না হয়ে নিজের মেধা আর ধৈর্য শক্তিকে পূজি করে এগিয়ে যেতে থাকেন। এই সুযোগে স্হানীয় আমিরাতিদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে ভূল করেননি তিনি। সেই সুবাদে আরবী উচ্চরণ লেখা পড়া আয়ত্বে আনতে তেমন বেগ পেতে হয়নি যা তার সফলতায় কাজে এসেছে মূল সহায়ক হিসাবে। এরই মাঝে পতিত জায়গা, জমি বিক্রী সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি হয়। আল্লাহ'র রহমত, সততা আর প্রচেষ্টা এক হলে সফলতা অনিবার্য। সে সফলতায় প্রথম পালক যোগ হয় ১৯৯৪ সনে একক প্রচেষ্টায় গঙঐঅগগঅউ অকঞঊজ জঊঅখ ঊঝঞঅঞঊ ঝঊজঠওঈঊ খখঈ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, ভাগ্যের দুয়ার খুলে যায় এই ব্যবসায়।

চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলার চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া নিবাসী আলহাজ্ব রমিজ সাহেবের প্রথম সন্তান মোহাম্মদ আকতার হোসেন। গত কয় বছরে প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত সম্মননা রেমিটেন্স এওয়ার্ড এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক দু'বার সি আই পি পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন। পরদেশে সফলতার পিছনে মূল মন্ত্র হিসেবে তিনি দৃঢ়তার সাথে মনে করেন জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে হলে চাই অধ্যবসায়। হতাশা মানুষকে ঠেলে দেয় অন্ধকারের দিকে। অবস্হানরত দেশের আইনের প্রতি যথাযত সম্মান রেখে মেধা আর পরিশ্রম এর সমন্বয়ে সফল হওয়া সম্ভব। শত ব্যাস্ততার মাঝে তিনি দুঃস্ত মানবতার সেবায় মুক্ত হস্ত। প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি ঘুরে আসেন বিভিন্ন হাসপাতাল। সাধ্যমত চেষ্টা করেন প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহয়তার। এ পর্যন্ত কাউকে নিরাস করেননি, সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন সার্বিক সহযোগীতার।

ভিনদেশীদের ও সহযোগীতা করতে কোন দ্বিধা করেননা তিনি । রাক রেড়িও পরিচালিত একটি মানবিক সহয়তা অনুষ্টানে তিনি সহযোগীতা করেছেন, বিশেষ করে গন বিয়ে অনুষ্ঠানও অনুষ্টিত হয়েছে তার আর্থিক অনুদানে। ব্যাক্তিগত জীবনে মোহাম্মদ আকতার হোসেন চার ছেলে চার মেয়ের জনক। তিনি দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশী প্রবাসীদের একমাত্র সংগঠন বাংলাদেশ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং স্কুলের সিনিয়ার সহসভাপতি হিসাবে।




শেয়ার করুন

0 comments: