শনিবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৭

রেমিটেন্স সৈনিকের গল্প

মুসাফির জাকারিয়া বাহরাইন



কাজের ভিতরে ক্লান্ত শরীর টা নিয়ে একটু চোখ বুঝানোর চেষ্টা । কিন্তু আমরা যে প্রবাসী সত্যিকারের ঘুম তো আমাদের চোখে মানাই না, আমরা ঘুমের ঘরে ও স্বপ্ন দেখি দেশে বাবা মা ভাই বোন বউ ছেলে মেয়ে কে নিয়ে । তাদের সুখের জন্যই তো আমাদের এই জীবন যুদ্ধ তাই না ? কিন্তু মাঝে মাঝে আমাদের এই স্বপ্ন কে মূল্য দিতে ভুলে যাই সেই রক্তের ভাই বোন আদরের বউ কলিজার সন্তানেরা কিছু সময় বাবা মা ও কম যাইনা । তাদের কাছে আমাদের এই রক্ত পানি করা টাকা গুলা খুব সামান্য কিছু মনে হয়, ভাবতে থাকে ছেলে আমার বিদেশে ভাই আমার বিদেশে স্বামী আমার বিদেশে বাবা আমার বিদেশে মাস গেলেই তো ব্যাংকে টাকা জমা হয় তাহলে খুব ভালোই আছে আমরা একটু বিলাসিতা করে নেই । 



ভাইয়া জানো আমার বন্ধু না কত দামি মোবাইল ব্যবহার করে আর আমার কম দামি ১টা ভাংরি মোবাইল কল আসলে বন্ধুদের সামনে বাহির করতে খুব লজ্জা করে, কিছু সময় ওপাশ থেকে ভাই চুপ করে থেকে উত্তর দেই আচ্ছা সামনের মাসে বেতন পাইলে সামসুং গ্যালাক্সি না হয় সনি এক্সপেরিয়া পাঠাই দিবানে আনন্দে ২২ খানা । কিন্তু ওপাশ থেকে যে বলে অনেক আশা নিয়ে তাদের কি কোন সময় একটু ভাবনা হয়না যে আমার ভাই কত না কষ্ট করে ইনকাম করে সংসার সবকিছু দেখতাছে নিজের স্বপ্ন জীবনের আশা সব কিছু ধ্বংস করে দিয়ে আমাদের জন্য প্রবাসে যেয়ে পড়ে আছে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে যেয়ে তারপর ও আমরা কিভাবে তার কাছে এতো আশা করি ? এমন আবদার হাজার ও করে থাকে ফ্যামিলি থেকে কিন্তু সব আশা তো আর আমাদের পক্ষে পূরণ করার ক্ষমতা থাকেনা যখনি আমরা তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনা তক্ষনি হাজার টা কথা শুনে মুখ বুঝে ২ চোখের পানি দিয়ে রাতের আধারে বালিশ ভিজাইতে থাকি অহহহহহহহহ কি সুখের আমাদের প্রবাস জীবন । 

প্রবাস জীবন নিয়ে এভাবে লিখতে থাকি তাহলে কোনদিন ও লেখা শেষ হবেনা এই জন্য সকল প্রবাসী ভাই কে বলি জীবনে যা চলে গিয়েছে সেটা নিয়ে না ভেবে সামনের দিকে যাইতে থাকেন ফ্যামিলির জন্য যতটুকু পারতাছেন দিয়ে যাচ্ছেন এবং দিয়ে যাবেন অবশ্যয় কিন্তু তাদের কিছু কিছু কোথাই কান না দিয়ে বালিশ না ভিজিয়ে শুকনা চোখে সামনের দিকে এগিয়ে যান.....যদি লক্ষ্য থাকে অটুট দেখা হবে বিজয়ে ইনশাআল্লাহ ...

শেয়ার করুন

0 comments: