বুধবার, মে ২৪, ২০১৭

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়িয়ে কি পায় প্রবাসীরা ???

সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এক হাজার ৪৯২ কোটি ৬২ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে; যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৯ কোটি ৭ লাখ ডলার বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম।
জ্বালানি তেলের দাম কম, ডলারের বিপরীতে বিভিন্ন মুদ্রার মান কমে যাওয়া এবং জনশক্তি রফতানি কমে যাওয়ার কারণে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
.
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। এর বিপরীতে সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯২ কোটি ৬২ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যারা এই রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখছেন, সেই প্রবাসীদের জন্য কি করছে রাষ্ট্র? প্রয়োজনে তারা কি যথাযথ সহায়তা পান সরকারের কাছ থেকে?

প্রবাসীদের গুরুত্ব না দেয়ার চিত্র আবার সব দেশে এক রকম নয়৷ উত্তর অ্যামেরিকা-ইউরোপ-অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসীরা তুলনামূলকভাবে দূতাবাসে গুরুত্ব পেয়ে থাকেন৷ আসলে এসব দেশের প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়ন জাতীয় কাজ ছাড়া, অন্য তেমন কোনো কাজ থাকে না৷ দূতাবাসের নানা রকমের সহায়তার প্রয়োজন হয় মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়ার মতো দেশে থাকা প্রবাসীদের৷ এ সব দেশেই প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি নাজেহাল হয়ে থাকেন ৷

সরকারের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ছয় লাখের বেশি শ্রমিক বিভিন্ন দেশে কাজ করতে যায়, যাদের বেশিরভাগই স্বল্প দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক।

অভিবাসন বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সি আর আবরার মনে করেন, বিদেশ যাত্রা, কাজের সুযোগ ও যাতায়াত ব্যয় ইত্যাদি সংক্রান্ত যথাযথ তথ্যের অভাবেই মূলত প্রতারিত হন বিদেশ যাওয়া এইসব মানুষেরা।

তিনি বলেন, “এ সংক্রান্ত সেবা দেবার ক্ষেত্রে অনেক সময় মন্ত্রণালয় ও বিদেশী মিশনগুলোয় যারা কাজ করেন তারা ব্যর্থ হন। কারণ, তাদের সেই অভিজ্ঞতা নেই।”

অভিবাসী সংক্রান্ত একটি আলাদা ক্যাডার সার্ভিস এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মি. আবরার মত দেন।

বিদেশ যাওয়ার পর বিরূপ প্রকৃতি, অমানুষিক পরিশ্রম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবনযাপন এসব সহ্য করে এই শ্রমিকেরা আয় করে দেশে টাকা পাঠান।

"এ সংক্রান্ত সেবা দেবার ক্ষেত্রে অনেক সময় মন্ত্রণালয় ও বিদেশী মিশনগুলোয় যারা কাজ করেন তারা ব্যর্থ হন। কারণ, তাদের সেই অভিজ্ঞতা নেই"

কিন্তু দূতাবাসগুলোতে গেলে তাঁদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয় না -- এ অভিযোগ অধিকাংশ প্রবাসীদেরই।

বিদেশ ফেরত অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, সরকার মুখেই কেবল প্রবাসীদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলছে। কিন্তু বাস্তবে বিদেশে যেতে-আসতে যে ভোগান্তি হয়, তা দূর করার কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব  জানান, সরকার আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের আইনি সহায়তা বিভিন্ন বাংলাদেশী মিশনে লেবার এ্যাটাশের পদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাসগুলোতে কেন প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যায়না প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এটা সরাসরি জবাব দেয়া খুব কঠিন। কারণ, একটা দূতাবাসে শুধু লেবার এ্যাটাশের লোকই থাকে না, তার বাইরেও অনেক উইং থাকে।”

তবে তিনি দাবি করেন এ অভিযোগ এখন অনেক কমে এসেছে, কারণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লোকজন এসব বিষয়ে ‘আগের চেয়ে সেনসেটিভ’ হয়েছে।

প্রবাসী শ্রমিকেরা বলছেন যথাযথ সহযোগিতা পেলে রেমিট্যান্সের হার যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি।

শেয়ার করুন

0 comments: