সোমবার, মে ১৫, ২০১৭

রাজধানীর অভিজাত এলাকা - রাতে তার অন্য রঙ

সম্প্রতি রেইন ট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় আলোচনায় এসেছে বনানীর মতো অভিজাত এলাকার রেস্ট হাউস, গেস্ট হাউস ও আবাসিক হোটেলের কার্যাক্রম নিয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দিনের বেলায় যেমন তেমন রাত হলেই অভিজাত এলাকার পরিবেশ হয়ে যায় অন্যরকম। সব রোডেই দ্রুত বেগে গাড়ির ছুটে চলা। দেখে যে কারোই মনে হতে পারে দ্রুত কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ছুটে চলা। কিন্তু আদৌ তা নয়। সব গাড়ি মিশছে কোনো না কোনো ক্লাব বা রেস্ট হাউসে। সেখানে চলছে যত অপকর্ম। ভদ্রতার মুখোশের আড়ালটা কুরুচিপূর্ণের বহিপ্রকাশ। মদ, জুয়া সেই সঙ্গে উর্বশী নারীদের সঙ্গে বেহায়পনা সবই চলছে এখানে। দেখে মনে হয় প্রশাসনের কোনো নিয়ন্ত্রণই নেই এখানে। অথচ সম্পূর্ণ অনুমোদনহীনভাবে এসব এলাকার ক্লাব, রেস্টুরেন্ট এবং রেস্ট হাউসে প্রকাশ্যেই চলছে এসব। এমনকি গত বছরের ১ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত এ বিষয়ে নিষোধাজ্ঞা জারি করলেও কে শোনে কার কথা। প্রশাসেনর এক শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ম্যানেজের বিনিময়ে সব চলছে এখানে।

আলোচিত ৭ ক্লাব : গুলশান -২ এর ক্যাপিটাল ক্লাব। অনুমোদনহীনভাবে মদ বিক্রির অভিযোগ অনেক পুরনো। র‌্যাব-১ এর একটি দল অভিযান চালায় সেখানে। উদ্ধার হয় কোটি কোটি টাকার মদ বিয়ার। এরপর কিছুদিন থামে। কিন্তু আবারো সেই আগের অবস্থা। প্রকাশ্যেই মদ বিক্রি চলছে এখানে। অল কমিউিনিটি ক্লাব (এসিসিএল)। এখানেও একই অবস্থা।

সব-পেশার মানুষের রিক্রিয়েশনের জন্য এটি তৈরি হলেও কি রিক্রিয়েশন হচ্ছে এখানে। সন্ধ্যার পর জমজমাট মদের আসর। সেই সঙ্গে বাইরেও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও কোর্নিয়া ক্লাব, লেক ভিউ, লেক ডিপ্লোমা, ফু-ওয়াং, কোরিয়ান ক্লাব এবং কেএনবি। কি হয় না এখানে। ক্লাবের আড়ালে সবকিছুই মেলে এখানে। ক্লাবের সদস্য ছাড়াও স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের থেকে শুরু করে সববয়সী মানুষের আনাগোনা দেখা গেছে। মদ বিক্রির অনুমোদন না থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে এখানে।

রেস্ট হাউস নয়, মিনি পতিতালয় : গুলশানের অন্তত অর্ধশতাধিক রেস্ট হাউস রয়েছে। এ সকল রেস্ট হাউসের আড়ালে চলছে নানা ধরনের অপকর্ম। হলিডে ইন, লিভার ডোর, কোয়ালিটি ইন, গার্ডেন ইন, বোনভিটা ইন, ইষ্টার্ন রেসিডেন্স, ডি ক্যাসল, স্কাই পার্ক, ম্যারিনো, লোরেল, ফুজি ইন, পিনাকল। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কি হচ্ছে। রেস্ট হাউস ভেবে কেউ যদি সেখানে যান তবে তাকে পড়তে চরম বিড়ম্বনায়।
টিএনজ তরুণী দিয়ে গেস্ট নামের খদ্দেরদের মনোরঞ্জণের জন্য ব্যবস্থা এখানে। আসলে এখানে রেস্ট হাউসের কোন বিষয় নয়। মিনি পতিতালয়। একেকটি গেষ্ট হাউসে ৪০/৫০ জন তরুণী রয়েছে। স্বল্প সময়ের জন্য আসছেন খদ্দেরও। তাদের মনোরঞ্জন শেষে তারা চলেও যাচ্ছেন। এই রেস্ট হাউসগুলো যে এই কাজ তা নয়, এখানে মদ বিয়ারসহ রাতের বেলায় আরো জমজমাট আসর জমে। বিশেষ করে পিনাকল রেস্টুরেন্টে প্রকাশ্যই সবকিছু হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাকবাসীর। বেশ কয়েকবার থানায় তারা এ বিসয়ে অভিযোগও দিয়েছেন।

এদিকে গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ বলেন, মাদক প্রতিরোধে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা মঝে মধ্যেই অভিযান পরিচালনা করে থাকি। নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) খন্দকার তৌফিক আহমেদ বলেন, আমরা নতুন এক তালিকা তৈরি করেছি। এই তালিকা ধরে অভিযানের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। শিগগিরই যে সকল বার, ক্লাব, রেষ্টুরেন্ট এমনকি রেষ্ট হাউসের নামে মদ বিয়ারসহ মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

0 comments: