বুধবার, মে ২৪, ২০১৭

প্রবাসীদের আইনি সহায়তা দিতে হটলাইন সার্ভিস চালু

প্রবাসীদের আইনি সহায়তা দিতে সম্প্রতি হটলাইন সার্ভিস চালু করেছে সরকার। এ সার্ভিসের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা দুটো নম্বরে ফোন করে আইনি তথ্য, পরামর্শ ও কাউন্সেলিং সহায়তা নিতে পারবেন। প্রবাসীদের আইনি সহায়তা দিতে সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সার্ভিসটি যথাযথভাবে কার্যকর থাকা এবং এ থেকে প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সুবিধা পাওয়ার মাধ্যমেই এ উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিত হবে।

প্রবাসীদের আইনি সহায়তা প্রাপ্তির হটলাইন নম্বর দুটি হলো : 
০১৭৯৯০৯০০১১ এবং ০১৭৯৯০৯০০২২। 

দেশে এ সেবা পাবেন নিচের নম্বরে
১৬৪৩০ 

ইতোমধ্যেই জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার আওতায় ‘প্রবাসী আইনগত সহায়তা ইউনিটে’ একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই হটলাইন সার্ভিসের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ও দেশে-বিদেশে অবস্থানরত তাদের পরিবারের সদস্যদের আইনগত অধিকার রক্ষার মধ্য দিয়ে তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য, জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। মন্ত্রী আরো বলেন, যে প্রবাসীরা প্রতি বছর ১৪.১ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স দেশে পাঠান, তাদের বড় অংশই নিরক্ষর বা স্বল্প অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন। আইনগত সচেতনতা তো দূরের কথা, নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও তারা সচেতন নন। এ কারণে অধিকাংশ সময়ই তারা আইনগত তথ্যপ্রাপ্তি ও সেবা থেকে বঞ্চিত হন। বাংলাদেশের অভিবাসীরা কার্যত যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তার অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট দেশের আইনে অথবা বাংলাদেশের আইনে প্রতিকারযোগ্য। কিন্তু অধিকাংশ অভিবাসী এসব আইনকানুন সম্পর্কে জানেন না। আবার কেউ জানলেও প্রতিকারের জন্য কোথায় কিভাবে আইনগত আশ্রয় চাইতে হবে- তা বুঝতে পারেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে প্রবাসে থাকার কারণে দেশে তাদের পরিবারের সদস্যরা অসহায় এবং অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন। পারিবারিক বিষয়ে বা সম্পত্তির জটিলতা বা দুর্ভোগের সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও প্রবাসীদের পরিবার আইনগত তথ্য ও পরামর্শের অভাবে কাক্সিক্ষত প্রতিকারের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে পারেন না। অথচ একটি আইনগত তথ্য বা পরামর্শ বহু সমস্যা সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে। প্রবাসী ও তাদের স্বজনদের সঠিক তথ্য ও আইনি পরামর্শ দিতেই এই বিশেষ তথ্য সেবা কার্যক্রম বা হটলাইন সার্ভিস।

প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারি কার্যক্রম এখন আগের চেয়ে অনেক জোরালো হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলেই প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখান থেকে বিদেশে যাবার জন্য বা বিদেশ ফেরতদের কর্মসংস্থানের জন্য স্বল্পসুদে ঋণদানের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রবাসীদের জরুরি সহায়তায় প্রবাসী কল্যাণ তহবিল রয়েছে। ‘ঢাকাস্থ প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক’ নামে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সেরও একটি সেবা রয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো প্রবাসী বা তাদের স্বজনরা এসব ব্যবস্থা থেকে কতোটা সেবা গ্রহণ করতে পারছেন? এখানেও যে বিষয়টি সামনে আসে তা হলো তথ্য জানা। দেশের গরিব ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদানের উদ্দেশে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০’ এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা। যার কমিটি রয়েছে ৬৪টি জেলায়। এই সেবা বিস্তৃত উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যন্ত। অথচ এসব সম্পর্কে খুব কম লোকই অবগত। প্রবাসীদের আইনি তথ্য ও পরামর্শ দিতে সরকার যে টেলিফেন সেবা চালু করেছে তার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হলে তার তথ্যও প্রত্যন্ত জনপদে টার্গেট লোকজনের কাছে পৌঁছাতে হবে। হটলাইন যেন সার্বক্ষণিক সচল থাকে, সেখানে ফোন করে যেন প্রয়োজনীয় তথ্য-পরামর্শ পাওয়া যায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ার করুন

0 comments: