বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৬, ২০১৭

সৌদি আরবে অবস্থানরত পরিবারগুলোর সদস্য প্রতি মাসিক ১০০ রিয়াল করে ট্যাক্স দিতে হবে জুলাই -২০১৭ থেকে।

এই ট্যাক্স আদায় করা হবে পরিবারের কর্তার প্রতি বছর ইক্বামা নবায়ন কিংবা নিজ দেশে আসা যাওয়ার সময় ভিসা গ্রহণ করার সময়। ২০১৮ সালের জুলাই হতে এই ট্যাক্স হবে ডবল অর্থাৎ প্রতি সদস্য ২০০ রিয়াল, ২০১৯ সালে ৩০০ রিয়াল এবং ২০২০ সাল হতে ৪০০ রিয়াল দিতে হবে জনপ্রতি।


সৌদি আরবে যারা বিভিন্ন পেশায় চাকুরি করছেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকছেন তারাই কেবল এই ফ্যামিলি ট্যাক্স দিবেন। এমনকি যারা শুধু ড্রাইভার হিসেবে এসে কোনো কফিলের অধীনে গাড়ি চালিয়ে রুজি করছেন এবং পরিবার নিয়ে থাকছেন।

যারা সৌদিদের বাসা-বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে আছেন তারা এই ট্যাক্সের আওতার বাহিরে।এই নতুন ফর্মূলার ট্যাক্সের কারনে প্রবাসে অবস্থানরত পরিবারগুলো নতুন নতুন বিপাকে পড়েছেন।

পরিবারগুলো এখন অনেকটা বাধ্য হয়ে দেশে ফাইনাল এক্সিট নিয়ে ফিরে যেতে হবে। কেননা ইক্বামা চালু রেখে সৌদি থাকলে ট্যাক্স আর নিজ দেশে থাকলে ডাবল ট্যাক্স (দেশে যত মাস থাকবে তার জন্যও মাসিক ২০০ রিয়াল গুণতে হবে)। এই ট্যাক্স থেকে বাচার একমাত্র উপায় হচ্ছে চূড়ান্তভাবে সৌদি ছেড়ে দেশে চলে যাওয়া।

এই নতুন নিয়মের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবগুলো হচ্ছে:

১. বিভিন্ন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌছানো।
২. কোনোমতে টিকে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা ফি বেড়ে যাবে। লস ঠেকানোর জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর শিক্ষা ফি বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না।
৩. শিক্ষার্থী সংকটে শিক্ষক ছাটাই ও শিক্ষার মানও পড়ে যেতে পারে।
৪. বিভিন্ন কমিউনিটি কেন্দ্রিক ব্যবসায় ধস নামতে পারে। যেমন বাংলাদেশিরা বাংলাদেশি অনেক পন্যই কেনেন বাংলাদেশি দোকান ও বাজার থেকে। ইনডিয়ান ও পাকিস্তানিরাও অনুরূপ। প্রত্যেক দেশের নাগরিকদের জন্য গড়ে উঠা দোকান, বাজার, রেস্তোঁরা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কাষ্টমার হারিয়ে ব্যবসা ঝুকিতে পড়বে।
৫. সৌদি সরকার হিসাব করেছে যে, তারা এই নতুন ট্যাক্সের মাধ্যমে প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন রিয়াল আয় করবে। তাদের এই হিসাব সম্ভবত ভুল প্রমাণিত হবে। কারন- প্রবাসীরা তাদের ফ্যামিলি সৌদিতে রাখার কারনে সৌদির টাকা সৌদিতেই খরচ করতে হত যা সৌদি সরকারের জন্য ভাল ছিল। এখন থেকে প্রবাসীরা তাদের ফ্যামিলি দেশে পাঠিয়ে আয় করা প্রায় সব টাকাই নিজ দেশে পাঠিয়ে দিবেন যা সৌদি সরকারের জন্য মঙ্গলজনক নয়। এতে না হবে ট্যাক্স আদায় উল্টো সৌদি রিয়াল পাচারের হার বেড়ে যাবে বহুগুণে।
৬. সৌদির হাউজিং ব্যবসায় ধস নামবে। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি আবাসিক ভবনে সৌদিদের পাশাপাশি বিদেশীরা তাদের পরিবার নিয়ে থাকছেন। নতুন ফি’র কারনে অনেকেই এইসব বাসা ত্যাগ করবেন। এতে করে বাসার মালিকগণ বিশাল লসের মুখোমুখি হবেন। ভাড়াটিয়া না পাওয়ার কারনে অনেকের বাসা বানানোর খরচও উঠবে না।
৭. সৌদি আরবের অন্যান্য ব্যবসায়ও মন্দা ভাব দেখা দিবে। সৌদি আরবের জনসংখ্যা যদি ৩ কোটি হয় তাহলে বিদেশীদের সংখ্যাও প্রায় ৩ কোটি। ৬ কোটি জনগণের ১ কোটি যদি সৌদি ছাড়ে তাহলে নিশ্চয়ই এর প্রভাব সকল সেক্টরে পড়বে।
৮. নতুন নিয়মে চারিত্রিক ও সামাজিক প্রভাবও পড়বে। প্রবাসী ভাইদের বিশাল অংশ যারা ফ্যামেলি সদস্যদের দেশে রেখে বিদেশ করেন তারা বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন। যেমন- স্ত্রীদের পরকীয়া, ছেলে-মেয়েদের চারিত্রিক অধ:পতন, তাদেরকে পাশে থেকে সঠিকভাবে পালন করতে না পারা, মা-বাবার হক আদায় করতে না পারা, স্ত্রী বিনে প্রবাস জীবনে নিজের চরিত্র ধরে রাখতে না পারা ইত্যাদি। যারা নিজ ফ্যামেলি কাছে রাখার কারনে এইসব বালা থেকে নিজেকে হেফাজত করতে পেরেছেন তারাও এখন নতুন ঝুকিতে পড়বেন।

সৌদি সরকারের উচিত বাস্তব অবস্থা উপলব্ধি করে এমনভাবে ট্যাক্স নির্ধারন করা যাতে হিতে বিপরীত না হয়। যেমন- প্রবাসীদের জন্য তাদের ফ্যামেলি সদস্যদের সৌদিতে আনার নিয়ম সহজ করা। ফ্যামিলি সদস্যদের বাৎসরিক ট্যাক্স ১০০ অথবা ২০০ রিয়াল করা। এই ট্যাক্সের পরিমাণ আপাত দৃষ্টিতে কম হলেও এর প্রভাব আগে উল্লেখিত প্রতি মাসে ৪০০ রিয়ালের চেয়েও অনেক বেশী। এতে কোনরূপ বিরূপ প্রভাব পড়বে না। সবাই ফ্যামিলি নিয়ে এখানে থাকবেন এবং সৌদির প্রবৃদ্ধি দিন দিন বাড়তে থাকবে।

শেয়ার করুন

0 comments: