মঙ্গলবার, জুলাই ১১, ২০১৭

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা জোরালো ভূমিকা রাখছে ॥ মার্শা বার্নিকাট

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের অবদান প্রমাণ করে যে আরও অনেক ক্ষেত্রের মতো বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনী তাদের এই অবদান আরও জোরালোভাবে অব্যাহত রাখবে। শনিবার গাজীপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর পিস সাপোর্ট অপারেশন্সে (বিপসট) এ বহুমুখী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গাজীপুরে বিপসট বহুমুখী কর্মশালা কেন্দ্র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহাম্মদ শফিউল হক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের (ইউএসপেকম) কমান্ডার এ্যাডমিরাল হ্যারি বি হ্যারিস জুনিয়র প্রমুখ।
বিপসট-এর নতুন এই ছত্রিশ লাখ ডলারের বহুমুখী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রয়েছে ৭৫০ আসনের মিলনায়তন ও আনুষঙ্গিক প্রশিক্ষণ কক্ষ। এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রায় পঞ্চাশ লাখ ডলারের সহযোগিতার অংশ। এটা জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক শান্তিরক্ষা অভিযানে কার্যকরভাবে প্রশিক্ষণ এবং পরিচালনা করার জন্য বাংলাদেশের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।
বিপসটে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্র প্যাসিফিক কমান্ডের যৌথ অর্থায়নে বহুজাতিক শান্তিরক্ষা অনুশীলন ‘শান্তিদূত-৪’। ২০১৮ সাল জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার ত্রিশ বছর পূর্তি হবে। সর্বোচ্চ অবদানের ক্ষেত্রে বর্তমানে বাংলাদেশ চতুর্থ স্থানে রয়েছে যেখানে ৬ হাজার ৯০০ এর বেশি সৈন্য এবং পুলিশ তেরোটি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযানে কাজ করছে।
এ্যাডমিরাল হ্যারি বি হ্যারিস জুনিয়র শনিবার বাংলাদেশে এসেছেন। বাংলাদেশ সফরকালে, এ্যাডমিরাল হ্যারিস বাংলাদেশের সরকারী এবং সামরিক উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর পিস সাপোর্ট অপারেশন্সে (বিপসট) বহুমুখী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ইউএসপেকমের কর্ম-পরিধি ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় অর্ধেক অঞ্চলব্যাপী, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত ও এন্টার্কটিকা থেকে উত্তর মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত। ইউএসপেকম যুক্তরাষ্ট্রের আর্মড ফোর্সের ছয়টি ভৌগোলিক ‘ইউনিফায়েড কম্ব্যাটেন্ট কমান্ডের’ একটি।
এ্যাডমিরাল হ্যারিস যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের উর্ধতন সামরিক কর্মকর্তা। তিনি সেক্রেটারি অব ডিফেন্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে রিপোর্ট করেন। ইউএসপেকম চারটি কমান্ডের সহযোগিতা নিয়ে গঠিত ইউএস প্যাসিফিক ফ্লীট, ইউএস প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সেস, ইউএস আর্মি এ্যান্ড প্যাসিফিক এবং ইউএস মেরিন কোর ফোর্সেস, প্যাসিফিক। এই কমান্ডগুলোর হেডকোয়ার্টার হাওয়াইতে অবস্থিত। পুরো অঞ্চলে এর কর্মস্থল রয়েছে। সেখানে এর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়ে থাকে।

শেয়ার করুন

0 comments: