বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৬, ২০১৭

'মা অসুস্থ, স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছে ৮ বছর আগে, দেশে যেতে চাই'

অবৈধভাবে ইউরোপ যাবার আশায় তুরস্কে আটকে পড়েছে ২ হাজারের মতো বাংলাদেশি।
এদের মধ্যে কয়েকশ ব্যক্তিকে আটক করেছে তুরস্কের পুলিশ। কিন্তু কাগজপত্রবিহীন এই অভিবাসীদের অনেকে বাংলাদেশে ফেরত যেতে চাইলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তারা পড়েছেন উল্টো সংকটে।
প্রায় পাঁচ বছর আগে ইউরোপে যাবার আশায় দুবাইয়ের বৈধ চাকরি ছেড়ে কোন কাগজপত্র ছাড়া তুরস্কে আসেন রাইসুল ইসলাম। এরপর এখানেই আটকে পড়েন। তুরস্কের একটি ছোট শহরে এখন শ্রমিক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।
রাইসুল ইসলাম বলছেন, ''বাড়িতে মা অসুস্থ, আমার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছে আট বছর আগে। এখন দেশে যেতে চাই। কিন্তু দূতাবাস কাগজপত্র দিচ্ছে না। তারা বলছে, যাচাই করার জন্য আমার তথ্য সব দেশে পাঠানো হয়েছে। এনএসআইয়ের রিপোর্ট এসেছে, কিন্তু এসবির রিপোর্ট আসেনি। "
"পুলিশের লোকজন আমার বাড়িতে গিয়ে কয়েক দফায় টাকা নিয়ে এসেছে, এই ঈদের আগেও গেছে। কিন্তু ছয়মাস হয়ে গেলো, তাদের রিপোর্টের জন্য আমার দেশে যাবার কাগজপত্র হচ্ছে না। ''
তিনি বলছেন, তার শহরেই এরকম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন আরো ১৭জন বাংলাদেশি। তারাও কাগজের আশায় আশায় মাসের পর মাস ঘুরছেন।
প্রত্যাবাসনে শ্লথগতির কারণে তুরস্কে মানবিক সংকটের আশঙ্কা করছে বাংলাদেশের দূতাবাস কর্মকর্তারা।
দূতাবাস সূত্র বলছে, অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য বাংলাদেশে পাঠানোর পরেও, মাসের পর মাস চলে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের যাচাইকরণ তথ্য দূতাবাসে আসছে না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিবাসন বিষয়ক অতিরিক্ত সচিব রাখাল চন্দ্র বর্মণ বলছেন, ''তাই এটা পুরনো একটি পদ্ধতি যে, বিদেশে আটকে পড়া কোন বাংলাদেশির বিষয়টি যাচাই করে দেখা যে, সে বাংলাদেশি কিনা। বাংলা তো অনেক দেশের লোক বলে। তাদের মধ্যে ভারতীয় বা মিয়ানমারের লোকজনও থাকতে পারে। তাদের তো আর আমরা ফেরত আনবো না। ''
তিনি বলছেন, ''ওরা (দূতাবাস) তালিকা পাঠায়, সেই তালিকা এসবি-এনএসআইয়ের মাধ্যমে যাচাই করে দেখা হয় যে তারা বাংলাদেশের নাগরিক কিনা। তারা বাংলাদেশের নাগরিক হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলে দেয়া হয়। আমরা সাথে সাথেই অ্যাকশন নিয়ে থাকি। ''
কিন্তু যে জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে তিনি বলছেন, ''এরকম কোন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। লিখিত কোন অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই দেখবো। ''
তবে আঙ্কারার দূতাবাস সূত্র বলছে, এই সমস্যার বিষয়ে ঢাকায় কয়েক দফা চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, কিন্তু তাতে পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হয়নি। ফলে আমলাতান্ত্রিক এই জটিলতায় মাসের পর মাস বিদেশের মাটিতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন অসংখ্য ভাগ্যান্নেষী বাংলাদেশি।

শেয়ার করুন

0 comments: