রবিবার, জুলাই ০৯, ২০১৭

কার্গো ভিলেজ পরিদর্শনে জার্মান ও ইতিহাদ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিদল ঢাকায়

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরাসরি কার্গো নিরাপত্তাব্যবস্থার কতটুকু উন্নতি হয়েছে তা পর্যবেক্ষণে জার্মানির লুফথানসা ও ইতিহাদ এয়ারলাইন্সের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল গতকাল দুই দিনের এক সফরে ঢাকায় এসেছে। 
আজ রোববার সকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা পৃথকভাবে কার্গো ভিলেজ (এক্সপোর্ট) এলাকার সার্বিক নিরাপত্তাকার্যক্রম পরিদর্শন করবেন বলে বিমানবন্দর ও সিভিল এভিয়েশনের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানা গেছে।  তবে গত রাত পর্যন্ত সিভিল এভিয়েশনের মেম্বার অপারেশন থেকে শুরু করে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালকসহ অনেকের সাথে কথা বললেও তারা কেউ বিষয়টি স্বীকার করেননি। সূত্র মোতাবেক, বাংলাদেশ থেকে লুফথানসা ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজে সরাসরি কার্গো পরিবহন করতে পারবে কি না বিষয়টি যাচাই এবং কার্গো ভিলেজের সার্বিক নিরাপত্তা সরেজমিন পরিদর্শন করার জন্য প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দুই দিনের সফরে এসেছেন। 

প্রতিনিধিদলটি ৯ এবং ১০ জুলাই ঢাকায় অবস্থান করে প্রতিবেদন পেশ করবে। এর আগে প্রতিনিধিদলের সফর উপলক্ষে গতকাল বিকেলে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি কার্যালয়ে মেম্বার (অপারেশন) এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কাজী ইকবাল করিম, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাশিদা সুলতানাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও সিভিল এভিয়েশন অথরিটির নিরাপত্তা কনসালট্যান্ট উইং কমান্ডার (অব:) সহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। 
গত রাতে সিভিল এভিয়েশনের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, লুফথানসা থেকে সিনিয়র এডিশন সিকিউরিটি ম্যানেজার এবং একজন ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার ভেলিডেটর ম্যানেজার এসেছেন। তারা সকাল ১০টায় কার্গো ভিলেজ এলাকা পরিদর্শন করবেন। তারা যেটা দেখবেন সেটি হচ্ছে ওনাদের স্টেশনের লোকেশনে কী কী আছে আর আমাদের এখানকার কী অবস্থা সেটি পরিদর্শন শেষে তারা অ্যাডভাইস করে যাবেন। এরপর দুপুর ১২টায় ভিজিট করবে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের রিজিওনাল এয়ার কার্গো ম্যানেজারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। এক প্রশ্নের উত্তরে ওই কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, মেইনলি তারা কার্গো এলাকায় যে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন সেটি হচ্ছে এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেকশন (ইটিডি) বোমা শনাক্তকরণ মেশিনের কার্যক্রম ও কার্গো মালামাল পরীক্ষায় কিভাবে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে সেটি। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট নিয়মনীতি কী আছে সেগুলো তারা দেখবেন। গতকাল বিমানবন্দরের একাধিক কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে নিরাপত্তা ঘাটতির কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ। এরপর তারা কার্গো নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নয়নে সরকারকে বেশ কিছু শর্ত দেয়। এরপর থেকেই বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় সিভিল এভিয়েশন অথরিটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অচলাবস্থা থেকে বের হতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের মতে, এর আগে ১৩ জুন কার্গো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জার্মান সিভিল এভিয়েশনের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা এসে ঘুরে গেছে। এবার জার্মানির লুফথানসা ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজের প্রতিনিধিদল এসেছে। আশা করছি কার্গো ভিলেজের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রতিনিধিদলটি সন্তুষ্ট প্রকাশ করবে। 
গত রাতে এ ব্যাপারে জানতে সিভিল এভিয়েশনের মেম্বার এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেলিফোন ধরেননি। গতকাল সন্ধ্যার পর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কাজী ইকবাল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে জানান। তবে তিনি এ ব্যাপারে সিভিল এভিয়েশনের মেম্বারের (অবস) সাথে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেন। 

শনিবার রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোশারফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের কার্গো এলাকা ভিজিট করার কথা জানেন না জানিয়ে নয়া দিগন্তকে বলেন, পুরো বিষয়টি মেম্বার (অবস) স্যার দেখছেন। তিনি বলেন, তা ছাড়া কার্গোর বিষয়টি খুবই সেনসিটিভ। তাই আমাদের না ডাকলে আমরা যাই না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের ডাকা হলে অবশ্যই যাবো। 
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৯ মার্চ থেকে নিরাপত্তার অজুহাতে সব ধরনের কর্গো চলাচল বন্ধ করে দেয় যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ।

শেয়ার করুন

0 comments: