রবিবার, নভেম্বর ২৬, ২০১৭

বেড়েছে জনশক্তি রপ্তানি সরকারের উদ্যোগ ইতিবাচক

যতই দিন যাচ্ছে ততই সম্প্রসারিত হচ্ছে দেশের শ্রম বাজার। বাজার সম্প্রসারিত হওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতির গতিপ্রবাহ ও বাড়ছে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

যার কারণে নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিদেশে এক কোটির বেশি মানুষ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছে- যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক।

দেশের দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে যেসব খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এর মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা অন্যতম। সর্বাধিকসংখ্যক শ্রমিক থাকে মধ্যপ্রাচ্যে। সৌদি আরব হচ্ছে অন্যতম প্রধান শ্রমের বাজার। বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে আমাদের নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে দালালদের হয়রানির শিকার হচ্ছে এ দেশের শ্রমিকরা। অনেক সময়ে তারা নানা ধরনের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, এমনকি তাদের জীবন ও চলে যাচ্ছে। আবার তারা শ্রমিকদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিচ্ছে। এর চেয়ে অমানবিক আর কী হতে পারে। যে করেই হোক এটা বন্ধ করতে হবে।

আশার কথা, বর্তমান সরকারের আমলে প্রতিবছরই জনশক্তি রপ্তানি বাড়ছে। এই মুহূর্তে বিশ্বের ১৬৫টি দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। ২০১৫ সালে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৫৫ হাজার। ২০১৬ সালে তা বেড়ে ৭ লাখ ৫৭ হাজার হয়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১০ মাসেই ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭৩ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। প্রধান প্রধান শ্রম বাজার সৌদি আরব, ওমান, কাতার, বাহরাইন, লেবানন, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, জর্ডান প্রভৃতি দেশের সঙ্গে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ চুক্তি/সমঝোতা স্মারক সই করেছে। সরকারের গৃহীত নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়ছে।

এটা সত্য, বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। সে কারণেই প্রচুর লোক প্রতিবছর বিদেশে পাড়ি জমায়। কাজের সন্ধানে বিদেশে যাওয়া এই শ্রমিকদের অনেকে দক্ষ, অনেকে অদক্ষ। অনেকে আবার তেমন লেখাপড়া জানেন না। প্রতারকচক্র এই অদক্ষতা ও শিক্ষাগত দুর্বলতার সুযোগ নেয়। এই সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করে বিদেশগামী শ্রমিকদের সঙ্গে। নানা ছুতোয় অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ঘটনা তো অহরহই ঘটে। পাশাপাশি এক কাজের কথা বলে শ্রমিকদের অন্য কাজ দেয়া হয়। যে সুযোগ-সুবিধা ও বেতনের কথা বলা হয় বা চুক্তি হয়, সেখানে ও প্রতারণার শিকার হতে হয় শ্রমিকদের। 


দেশের সাধারণ মানুষ তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য গাঁটের টাকা খরচ করে অথবা ঋণ করে বিদেশে যাবে আর সর্বস্ব খুঁইয়ে ফকির হবে এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এমনিতেই দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই, তার মধ্যে যদি নিজের পরিবারের সুখ ও সচ্ছলতা আনয়নের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে কেউ প্রতারণার শিকার হলে তা খুবই দুঃজনক। যেসব দেশে শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে কিংবা বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছে ওই সব দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উচিত কার্যকর ভূমিকা পালন করা। মনে রাখতে হবে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় কিংবা কোনো জটিলতার সম্মুখীন হয়ে অস্তিত্ব সংকটে না পড়ে- সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। এই দায়িত্ব সরকারের। আমরা আশা করব সরকার শ্রমবাজার বৃদ্ধির পাশাপাশি এ ব্যাপারেও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।


শেয়ার করুন

0 comments: