বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৭

যেসব খাবার রক্ত পরিশোধন করে বিশুদ্ধ করে


রক্ত পরিশোধন করে – দেহ নামের গাড়িটি সর্বক্ষণ সচল রাখতে শরীরে যে ‘ফুয়েল’ নি:শব্দে কাজ করে যাচ্ছে, তা হলো আমাদের রক্ত। তবে এই রক্তকে বিশুদ্ধ রাখতে, দূষণমুক্ত রাখতে আমরা কিন্তু কোনো পদক্ষেপই নেই না। মাঝে মাঝে শরীরে কিছু লক্ষণ দেখা যায়, যা থেকে বোঝা যায় যে আমাদের রক্ত আসলে ক্ষতিকর টক্সিন বয়ে বেড়াচ্ছে।
সেসব লক্ষণ হেলাফেলা করা ঠিক না। রক্তকে টক্সিন বা ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত করে বিশুদ্ধ করা একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেহেতু শরীরে সঠিকভাবে রক্ত পরিবহন করার মাধ্যমেই আপনি সুস্থ থাকেন, তাই এই রক্ত পরিশোধন জরুরি। যখন রক্ত পরিশুদ্ধ হয়, তখন পুরো শরীরই সুন্দরভাবে কাজ করতে পারে। এতে করে কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি কমে। রক্ত টক্সিন মুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ হলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে মাথা ব্যথা, ক্লান্তি, চুলকানি সহ বিভিন্ন চর্মরোগ থেকে মুক্তি পাবেন আপনি। তাই কোন ধরণের সুপার ফুড আপনার রক্ত পরিশোধন করতে পারে, তা জেনে নেই চলুন-
রসুন: প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও খনিজ পদার্থ থাকায় রসুন খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে রক্ত বিশুদ্ধ হতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন রসুন খেলে উপকার পাবেন।
হলুদ: ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করা, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা কমানোর মতো বেশ কিছু উপকারিতা আছে হলুদের। এই মসলা রক্ত পরিশোধনে বেশ কার্যকর।
ধনিয়া ও ধনেপাতা: কোলেস্টেরল কমিয়ে রক্ত বিশুদ্ধ রাখতে ধনিয়া ও ধনেপাতা বেশ উপকারি। ধনিয়া ও ধনেপাতায় ভিটামিন এ, সি, কে, বি থাকে। এরা রক্ত পরিশোধনে ভালো ভূমিকা রাখে।
পুদিনা পাতা: অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সমৃদ্ধ পুদিনা পাতা প্রতিদিন নিয়মিত খেলে রক্ত পরিশোধিত হয় কার্যকরভাবে। তাই সব সময় পুদিনা পাতা খাওয়ার চেষ্টা করুন।
লাল মরিচ: ভিটামিন এ, বি, সি, ই , কে যেমন আছে প্রচুর, তেমনি এই মরিচে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামও আছে। এসব উপাদান রক্ত পরিশোধন করে কার্যকরভাবে।
গাজর: রক্ত পরিশোধনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো এক সবজি গাজর। এটি ত্বক, চুল ও চোখের জন্যও খুব উপকারী।
করল্যা: এই সবজি রক্ত পরিশোধনে আশ্চর্যজনক কাজ করে। এছাড়া ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখা ও খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করে এটি।
বিট: ভিটামিন এ ,বি,সি, কে, ফলিক এসিড ও প্রচুর আঁশ আছে এই সবজিতে। এটি খুব ভালো রক্ত পরিশোধক।
 মুলাঃ মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না।অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়।
সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম।
বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।
পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।
এসব উপাদান আপনার সুস্থতায় কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে তা জেনে নেয়া যাকঃ
মুলার হজমকারী ক্ষমতা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পাইলস রোগে আরাম হয়। পাইলসের কারণে রক্ত পড়া পর্যন্ত বন্ধ হয়। মুলা রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। লিভার এবং পাকস্থলীর সমস্ত দুষণ এবং বর্জ্য পরিস্কার করে থাকে। মুলা কিডনি রোগসহ মূত্রনালির অন্যান্য রোগে উপকারী। কাঁচা মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হজম হয় দ্রুত এবং রুচি বাড়ে। কচি মুলার সালাদ ক্ষুধা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। জ্বরে ভুগলে বা মুখের রুচি নষ্ট হয়ে গেলে মুলা কুচি করে কেটে চিবিয়ে খেলে উপকার পাবেন। জ্বর কমবে, মুখের রুচিও বাড়বে। পেটে ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা হলে মুলার রসের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন।
শ্বেত রোগের চিকিৎসায় মুলা দারুণ উপকারী। এন্টি কারসেনোজিনিক উপাদান সমৃদ্ধ মুলার বীজ আদার রস এবং ভিনেগার একসঙ্গে ভিজিয়ে রেখে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। কাঁচা মুলা চিবিয়ে খেলেও কাজ দেবে। ত্বক পরিচর্যায়ও মুলা ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। কাঁচা মুলার পাতলা টুকরা ত্বকে লাগিয়ে রাখলে ব্রণ নিরাময় হয়। এছাড়া কাঁচা মুলা প্যাক এবং ক্লিনজার হিসেবেও দারুন উপকারী নিয়মিত মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ পাবে।

তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই।

শেয়ার করুন

0 comments: