শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭

লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে

দেশের খবর ডেস্কঃহানাদার পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধে সাহস, শৌর্য ও প্রতিরোধের পথ বেয়ে জাতি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে আজকের এই দিনে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। পাকিস্তানি শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালির চরম ত্যাগ ও পরম বীরত্বের স্মারক বিজয় দিবসে আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন পূরণে এখনও যে প্রতিবন্ধকতাগুলো আছে, তা ফিরে দেখতে চেয়েছি।

ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্র তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে ঠেলে দেয় আবারও বৈষম্য ও অন্তহীন নিপীড়নের দিকে। কেবল ধর্ম যে একটি রাষ্ট্রের ভিত্তি হতে পারে না- তা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই এ অঞ্চলের মানুষ বুঝে ওঠে; আর তাই যখন উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করে পশ্চিম পাকিস্তানিরা; তখন প্রবল প্রতিবাদে গর্জে ওঠে বাঙালি। তার ফল: বায়ান্নর রাষ্ট্র্রভাষা আন্দোলন। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সেই আন্দোলনেরই ধারাবাহিকতা ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। জাতির জনক, মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিরাপস সাহস, অতুলনীয় বিবেচনাবোধ ও নেতৃত্বগুণে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালিরা প্রবল যুদ্ধে লিপ্ত হয়_ নির্মম নির্যাতন আর রক্তসাগর পেরিয়ে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বিজয়চিহ্ন বুকে ধারণ করে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়।
অসাম্প্রদায়িক, উদারনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও সকল মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার যে স্বপ্ন মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে; স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পরও সেই স্বপ্ন আমরা কতখানি পূরণ করতে পেরেছি, তা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণের সময় সমাহত। যদিও দেশ ও জাতি হিসেবে এই সময়কালে আমাদের অর্জন কম নয়; মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন পূরণেও আমরা অনেকটা পথ এগিয়েছি; তার পরও নানান সামাজিক-রাজনৈতিক ঘটনাক্রম আমাদের চলার পথকে কণ্টকাকীর্ণ করে প্রায়ই। মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার পাকিস্তানিদের দোসর এদেশীয় যুদ্ধাপরাধী রাজাকার-আলবদরদের বিচার হচ্ছে_ সুদীর্ঘকালের এই দাবি যখন বাস্তবে পরিণত তখন আমাদের বিশ্বাস করতে হয়_ আমরা সঠিক পথেই আছি। তবে নাগিণীরা এখনও বিষাক্ত নিঃশ্বাস ফেলছে। নতুন এক মুক্তিযুদ্ধ শুরু করতে হবে। এ যুদ্ধে নতুন প্রজন্মই থাকবে সামনের সারিতে।

দেশের মুক্তির জন্য আত্মত্যাগকারী অগণিত মানুষের বুকের তাজা রক্ত বৃথা যেতে পারে না; মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন_ একটি অসাম্প্রদায়িক, সুষম রাষ্ট্র্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে চিরকাল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে প্রজন্ম-পরম্পরায় শহীদদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে যাবে_ আজকের বিজয় দিবসে এই আমাদের প্রার্থনা।

সবার জন্য মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

শেয়ার করুন

0 comments: