শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৭

বাংলাদেশিদের বিদেশ যেতে এত টাকা লাগে কেন


বাংলাদেশ সরকারের প্রতি বছরের বাজেটে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স বিশেষ ভুমিকা রাখে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না । প্রত্যেক প্রবাসী চেস্টা করে তার সাধ্যানুযায়ী পরিশ্রম করে সেই টাকা নিরাপদে দেশে পাঠাতে। তার পাঠানো টাকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে দেশের উপকার হচ্ছে তা অনেকে জানলে ও অনেকে জানেন না ।এই ক্ষেত্রে সচেতনার অভাবকেই দায়ী বলা যায়।দিনে দিনে আমাদের দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে । সেই জনসংখ্যা আমাদের জন্য যেন অভিশাপ না হয়ে আশীর্বাদ হয় ,তা আমরা সকলে চাই । তাই সবার আগে প্রয়োজন এই জনসংখ্যাকে দক্ষ করে গড়ে তোলা ।সেটা পুরুপুরি সম্ভব না হলে চেষ্টা করতে হবে সাধ্যমত । সেক্ষেত্রে সরকারের যেমন এগিয়ে আসা উচিত তেমনি বিভিন্ন সংস্থাকে ও এগিয়ে আসতে হবে ।
এবার আসি এই প্রতিবেদনের মুল কথায় । একজন বাংলাদেশী মধ্যপ্রাচ্যে আসতে যে পরিমান খরচ গুনতে হয় সেই তুলনায় অন্য দেশী একজন অনেক কম পয়সায় আসতে পারে। উদাহরন স্বরূপ একজন বাংলাদেশী সৌদি আরব আসতে হলে তাকে কমপক্ষে সাড়ে চার লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হয়। এই পুরু টাকা কিন্তু আসলে লাগার কথা নয় । এখানে বিভিন্ন মধ্যস্বত্ব ভোগী ফায়দা লুটে নেয় ,আর সেই কারনেই একজন লোককে সৌদি আরব আসতে হলে মোটা অংকের টাকা গুনতে হয়। অন্য দিকে ভারত, শ্রীলংকা , পাকিস্তান, নেপাল এসব প্রতিবেশী দেশের লোকেরা নামমাত্র খরচে বিদেশে আসে । সরাসরি কথা বলে জানা যায়, ভারত থেকে সত্তর হাজার রুপি থেকে শুরু করে একলক্ষ রুপি দিয়ে সৌদি আরব আসা যায় অনায়াসে।এবার হিসেব করে দেখুন সত্তর হাজার রুপিতে বাংলাদেশী কত টাকা হয় । অন্য দিকে নেপাল থেকে মাত্র একলক্ষ কিংবা একলক্ষ বিশ হাজার নেপালি রুপি (যার মুল্যমান আমাদের দেশের সমান) লাগে । ভেবে দেখুন তাদের তুলনায় আমাদের কেন এত বেশী টাকা লাগে । এবার আসুন কেন বেশী টাকা লাগে সেই হিসাবে ।
সৌদি আরবে ভিসা দুই ভাবে পাওয়া যায় । এক কোন কোম্পানি থেকে ফ্রি অথবা কিনে নিতে হয় । একটি ভিসা বাহির করতে হলে খরচ পড়ে ২২০০ সৌদি রিয়াল । এরপর এটাকে ওকালা (আরবি ভাষা) করে বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সিতে পাঠাতে হয়। সেখান থেকে প্রার্থীকে মেডিকেল এবং বিমানের টিকেট কিনে এরপর আসতে হয় । এখন প্রশ্ন এতটাকা কেন লাগে ।সেই হিসাবে দেড় লক্ষ থেকে একলাখ সত্তর হাজার টাকা লাগার কথা । হ্যাঁ আপনি যদি ভিসাটি নিজে না পান তাহলে যে পেয়েছে তার কাছ থেকে কমপক্ষে ছয় থেকে সাত হাজার রিয়ালে কিনতে হয় । ক্ষেত্র বিশেষে দশ বারো হাজার রিয়াল ও লাগে । এখানে আপনি নিজের সুবিধার জন্য একজনের ক্ষতি করলেন । ব্যাপারটা এমন ।
স্বার্থের উদ্ধে থেকে যে ভিসা পায় সে যদি সামান্য লাভে ভিসা দেয় তাহলে এত খরচ হয় না । এরপর ট্রাভেল এজেন্সি সেখানে তারা প্রায় প্রতিটি ভিসা থেকে কমকরে হলেও পঞ্চাশ হাজার টাকা থেকে একলক্ষ লাভ করে । এখানে সামান্য কয়েকটি প্রক্রিয়ার কথা বললাম । এসব প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে ভিসার দাম গিয়ে পড়ে সেই চড়া মুল্যে। তখন একজন শ্রমিক কিংবা বিদেশে কাজ করতে ইচ্ছুক একজন ইচ্ছে করলেই আর বিদেশে আসতে পারে না। আর একজন লোক সহজে দেশের বাইরে না আসতে পারা মানেই ধীরে ধীরে দেশের বোঝা হয়ে দাঁড়ানো ।
কিন্ত পার্শ্ববর্তী দেশ গুলোর শ্রম কল্যান পরিষদ এসব ব্যাপারে বেশ সচেতন বিধায় সেই সব দেশের মানুষ নামমাত্র পয়সা খরচ করে বিদেশ পাড়ি দিয়ে কাড়ি কাড়ি রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে অনায়াসে । আমাদের দেশের শ্রম কল্যান মন্ত্রনালয় এসব দিকে খেয়াল রাখলে দেশের সাধারন মানুষের যেমন উপকার হত , স্বল্প টাকা খরচ করে তখন অনেকে বিদেশে পাড়ি জমাতেন অনায়াসে । তখন দেশ রেমিটেন্সের বাড়তি টাকা পেত।তখন দেশে এত বেকার জনগোষ্ঠী থাকত না , সেই জনগোষ্ঠী উপার্জনক্ষম হয়ে দেশের অর্থনীতিতে সক্রিয় ভুমিকা রাখতে পারত ।
আসুন নিজের লাভের চেয়ে অন্যের উপকারের দিকে খেয়াল করি , সমৃদ্ধি শীল দেশ গড়ায় নিজেকে সামিল করি । দেশ বাচলে আমি বাঁচব , আমি বাঁচলে আমার সন্তান বাঁচবে ।

শেয়ার করুন

0 comments: