সোমবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭

২২ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে চায় বাংলাদেশ

দেশের খবর,নিউজ ডেস্কঃমিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করার কথা৷ আর সেই চুক্তি অনুযায়ী ২২শে জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো শুরু করতে চায় বাংলাদেশ৷ চুক্তি হয়েছিল গত ২৩শে নভেম্বর৷

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সই হয় গত ২৩শে নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপোদিতে৷ সেই চুক্তিতে বলা হয়, তিন সপ্তাহের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন এবং দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া শুরু করবে মিয়ানমার৷ তবে তারা কত দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করবে তা বলা হয়নি চুক্তিতে৷ শুধু বলা হয়েছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফেরত নেয়া হবে৷
তিন সপ্তাহের মধ্যে যৌথ ওয়াকিং কমিটি গঠন করার কথা হলেও তা হয়নি৷ কমিটি'র তালিকা হস্তান্তর হয়েছে মাত্র৷ তাদের ‘টার্মস অব রেফারেন্স'  চূড়ান্ত হয়নি৷ ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় আসছেন মিয়ানমারে পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থো৷ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক এবং মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব বৈঠকে বসে কমিটি এবং টার্মস অব রেফারেন্স চূড়ান্ত করবেন৷

এ নিয়ে রবিবার বিকেলে ঢাকায় পরারাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের টার্গেট হল চুক্তি অনুযায়ী দুই মাসের মধ্যেই অর্থাৎ ২২শে জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো শুরু করা৷ আর যেহেতু বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ‘ফোর্সড রিপ্যাট্রিয়েশন' এর বিরোধী , এই এই সময়ের আগেই মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা এবং অধিকারের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে হবে৷''

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের খোঁজ রাখছেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ প্রতিনিধি ও কূটনৈতিক প্রতিবেদক শেখ শাহরিয়ার জামান৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের টার্মস অব রেফারেন্সে অনেক খুঁটিনাটি বিষয় আছে৷ তবে একটি বিষয় চূড়ান্ত যে, ওয়ার্কিং গ্রুপে দুই দেশ থেকেই সচিব পদমর্যাদার একজন করে কর্মকর্তা নেতৃত্ব দেবে৷ এছাড়া এই কমিটি কোথায় যাবে, কোন সীমান্ত দিয়ে যাবে, কতদিনে তাদের কাজ শেষ হবে এসব কিছু চূড়ান্ত হবে৷ তবে বাংলাদেশ জোর দিচ্ছে নির্ধারিত দুই মাসের মধ্যেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে৷''

এদিকে অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এক্সচেঞ্জের জরিপ থেকে জানা গেছে, রাখাইনে পরিস্থিতির উন্নতি হলে ৭৮ শতাংশ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়৷ শতকরা ১৬ ভাগ রোহিঙ্গা ফেরত যাওয়ার বিপক্ষে৷ আর শতকরা ৬ ভাগ রোহিঙ্গা কোনো শর্ত ছাড়াই মিয়ানমারে ফেরত যেতে চায়৷

মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক ডিফেন্স এটাশে মেজর জেনারেল (অব.) শহীদুল হক বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মত মিয়ানমারও দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায়৷ দু'দিন আগে মিয়ানমারে এক মন্ত্রী একথা বলেছেনও৷  কিন্তু রোহিঙ্গাদের নিয়ে কোথায় রাখা হবে? তাদের ঘরবাড়িতো পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে৷ ১২টি আন্তর্জাতিক এনজিও বলেছে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে তারা নেই৷ তারা চুক্তি রিভাইস করার কথা বলছে৷ তারা এখানে অর্থ দেবে না৷ তাহলে টাকা আসবে কোথা থেকে? আর সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা কে দেবে?''

গত ২৩শে নভেম্বর মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে ১৯৯২ সালের চুক্তির আলোকে৷ ১৯৯২ সালের চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের নাগরিক মর্যাদা দেয়ার বিষয়টি নেই৷ ওই চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের স্থায়ী অধিবাসী হিসেবে সেখানকার সমাজে অন্তর্ভুক্তির কথা ছিল৷ রোহিঙ্গাদের অধিকারসহ মিয়ানমারের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের উল্লেখ ছিল না৷

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মিয়ানমার ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরের পর ও এ বছরের ২৫ আগস্টের পরে যারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে তাদের ফেরত নেবে৷ এই শর্ত মানা হলে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের সাত লাখের মত রোহিঙ্গা ফেরত নেয়া উচিত৷ কিন্তু বাংলাদেশে এখন রোহিঙ্গা শরণার্থী আছে সাড়ে ১০ লাখ৷ ২৫ শে আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ছয় লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে মিয়ানমার থেকে৷

২০১৬ সালের আগে আসা তিন লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেয়ার কথা চুক্তিতে নেই৷ এবারের চুক্তিতে ফেরত নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রথমে অস্থায়ী পুনর্বাসন ক্যাম্পে রাখার কথা বলা হয়েছে৷ এরপর তাদের ফেলে আসা ঘড়বাড়ি বা অন্যকোথাও পুনর্বাসন করা হবে৷ কিন্তু নাগরিকত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি৷

১৯৯২ সালে দু'দেশের মধ্যে যে সমঝোতা হয় তার অধীনে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে মাত্র দুই লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নেয় মিয়ানমার৷ তবে ১৯৭৮ সালে যে চুক্তি হয়েছিল, তার অধীনে ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিয়েছিল মিয়ানমার৷

শেয়ার করুন

0 comments: