শনিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৭

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবপাচার চক্র বেপরোয়া

উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে মানবপাচারকারী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সেখানে ১২ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা তরুণী ও শিশুরাই তাদের প্রধান টার্গেট। শিশুদের লালন পালনের নামে, তরুণীদের বিয়ের নামে ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হচ্ছে। পাচারকারীদের খপ্পরে পড়া তরুণী, শিশুদের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কি ঘটছে সে ব্যাপারে রোহিঙ্গা অভিভাবকরা মোটেও নিশ্চিত নন। তাছাড়া রোহিঙ্গা তরুণদের সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের কথাও শোনা যাচ্ছে।
 
গত ১২ ডিসেম্বর এনজিও কর্মী পরিচয়ে শিশু পাচারকালে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার করে ৮ বছরের এক রোহিঙ্গা শিশু কন্যাকে। পরে তাকে ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চেকপোস্টে যাত্রীবাহী গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় নয় শতাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ শিশুকে উদ্ধার করে ক্যাম্প পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় আটক শতাধিক পাচারকারীকে উখিয়া পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সূত্র জানায়, রোহিঙ্গারা খুবই অসহায়, যে কারণে তারা যেকোনো লোভনীয় প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। তাদের এই অসহায় অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে পাচারকারীরা।
 
অন্যদিকে পুলিশ জানায়, সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে ৩ সহস্রাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। দেড় শতাধিক পাচারকারীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে।
 
কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক (৬০) জানান, উখিয়া-টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্প কেন্দ্রিক গড়ে উঠা প্রায় অর্ধশতাধিক পাচারকারী চক্রের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মানবপাচার করছে। এরা বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে সাগরপথে মানবপাচার অব্যাহত রেখেছে।
 
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, মানবপাচার প্রতিরোধে কুতুপালং, মরিচ্যা বাজার ও মেরিন ড্রাইভ পয়েন্টেসহ ৩টি চেকপোস্টে ২৪ ঘন্টা যানবাহন তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর ন্যাশনাল কমিউনিকেশন কর্মকর্তা শিরীন আক্তার রোহিঙ্গা নারী, শিশু পাচারের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ পর্যন্ত কতজন রোহিঙ্গা পাচার হয়েছে তা জানা নেই। তবে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের আইওএম দেখভাল করছে।
 
টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাঈন উদ্দিন জানিয়েছেন, গত বুধবার গভীর রাতে টেকনাফের বটডেইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য অপেক্ষমাণ দুইজন রোহিঙ্গাসহ ৬জন আটক করা হয়েছে। এসময় পাচারকারীদের একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
 
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে ১৫ দেশের ১৯ দূত
 
বাংলাদেশে আবাসিক মিশন নাই এমন ১৫ দেশের ১৯ দূত কাল রবিবার উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে আসছেন। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান জানান, অনাবাসী দূতরা রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন।

শেয়ার করুন

0 comments: