মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৭

কৃষি উন্নয়নে প্রয়োজন গ্রামমুখি বিনিয়োগ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বাস করতেন, গ্রামের উন্নতির মধ্যেই সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভরশীল। কেননা, আমাদের শহুরে জীবনের  উপভোগ্য অধিকাংশই গ্রাম থেকে আসে। তাহলে গ্রামের কৃষকদের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারলেই সার্বিকভাবে দেশের উন্নয়ন ঘটবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বুঝতে পেরেছিলেন যে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য কৃষিকে বহুমুখী করার কোনো বিকল্প নেই। তাই তিনি কি করে কৃষককে আত্মশক্তিতে বলীয়ান করা যায়, উৎপাদন বাড়াতে কিভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো যায়, কৃষকের সন্তানকে কি করে শিক্ষা দেয়া যায়..এসব নিয়ে ভেবেছেন এবং কাজ করেছেন।
তিনি নোবেল পুরস্কারের ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন কৃষি ব্যাংক। কৃষির উন্নয়নে তিনি নিজের সন্তান, জামাতা এবং বন্ধু পুত্রকে অক্সরেফার্ড বা ক্যামব্রিজে না পাঠিয়ে ইলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য পাঠান। উচ্চশিক্ষায় উন্নত ভদ্রলোক হওয়ার চেয়ে উন্নত কৃষক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তিনি বহু আগেই উপলব্দি করতে পেরেছিলেন। কৃষিভিত্তিক শিক্ষা বা উচ্চশিক্ষাকে খাটো করে দেখার দিন শেষ। এখন প্রয়োজন তরুণ ও উচ্চ শিক্ষিত কৃষক। যারা তাদের মেধা, মনন ও গণজারণের মাধ্যমে পাল্টে দিবে আমাদের কৃষি ব্যবস্থার অবকাঠামো। এখন কৃষি বলতে আর শুধু ধান বা ফসল ফলানোকে বোঝায়না।
জনৈক শিক্ষক শিশু শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করলেন- বলতো দেখি মাছ কোথায় থাকে। শিক্ষার্থী যথার্থই জবাব দিলো- মাছ থাকে ফ্রিজে! এই শিশুটির জ্ঞান সমীকরণ থেকে স্পষ্টই বোঝা যায় আমরা প্রজন্মকে প্রকৃতি থেকে কত দূরে সরে গেছি। আজকালকার শহুরে শিশু-কিশোর বা তরুণেরাও অনেকে মাছ, ফল-ফুল এবং গাছ পালার নাম জানেনা। তারা সাঁতার জানেনা, গাছে কিভাবে চড়তে হয় তাও জানেনা। প্রতিদিন যে ভাত খায় সে ভাতের চালের বা ধানের নাম জানেনা। ধান বা ফসল উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। ষড়ঋতুর বৈচিত্র সম্পকের তাদের কোনো ধারণা নেই।
এজন্য ঠিক তারা দায়ী নয়। পরম্পরায় আমরাই তাদেরকে গ্রামের নারীর বাঁধন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছি। আমরা গ্রাম থেকে এসে বড্ড বেশি শহুরে আধুনিক হয়ে গেছি। যান্ত্রিক জীবনের যাতনায় পড়ে আমরা যেন ভুলতে বসেছি আমাদের শেকড়ের কথা। এভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজনামান্তরে গ্রামের সাথে আমাদের মানবীয় সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ছে। এখন সময় এসেছে শেকড়ের সন্ধানে ঘুড়ে দাঁড়াবার। নিজেদের অস্তিত্বের প্রয়োজনেই আমাদেরকে গ্রামমুখি হতে হবে। আমাদের মোট জনসংখ্যার সিংহভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। সেখানে যে বিপুল তরুণ সমাজ রয়েছে তাদেরকে ঠিকমতো কাজে লাগানোর উপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।
গ্রামীণ জীবন সম্পর্কে ধারণা নিতে এবং জীবনযাত্রার পার্থক্য অনুধাবনের জন্য চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় চংকিং শহর কতৃপক্ষ শহরের শিক্ষার্থীদের গ্রামে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের মতে, এরফলে প্রজন্মগত ও ভৌগলিক দূরত্ব কমানো সম্ভব হবে। তরুণ বয়সেই তারা ব্যয়বহুল-অভিজাত জীবন-যাপনের পাশাপাশি গ্রামীণ জীবন সংগ্রাম এবং তাদের পিতা-মাতা-স্বজন-সহোদর ও পূর্বপুরুষদের জীবনযুদ্ধ সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা পাবে। চকিং পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গ্রামে অবস্থানের সময় চকিং অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৭ লাখ শিক্ষার্থীর প্রত্যেককেই ১০০টি করে চারা গাছ রোপন করতে হয়। এক মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। কারখানায় কাজ করতে হয়। চীনে এই প্রক্রিয়ায় স্নাতক পড়া প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থীকে গ্রাম কর্মকর্তা হিসেবে ভাড়া করা হয়েছে। এরফলে তারা ধারণা করছে- এসব শিক্ষার্থীদের জীবনবোধ হবে মানবীয়। তারা জীবনের কঠিন সংগ্রামকে শক্তি ও বুদ্ধি দিয়ে পরিশ্রম করে জয় করতে সমর্থ হবে।
বাংলাদেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চীনের মতো একটি উদ্যোগ গৃহীত হলে কৃষিক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তন আসবে। জীবন বোধ, পারিবারিক সম্পর্ক ও দেশীয় সংস্কৃতিতে উজ্জীবিত হয়ে উঠবে আমাদের তরুণ প্রজন্ম।
এখন অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগ। তথ্যই বদলে দিতে পারে গ্রামীণ চেহারা, গতি-প্রকৃতি, সূচনা করতে পারে আর্থিক সমৃদ্ধির নবদিগন্ত। চীনের কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে তথ্য প্রকাশ- এ মহুর্তে চীনের ৯৯ ভাগ শহরে ইন্টারনেট সংযোগ আছে। অপরদিকে তাদের  প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধাসহ তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের ফলে কৃষকরা অনলাইনের মাধ্যমে পণ্য বিক্রিতে ছয় গুণ বেশি লাভ করতে পারছে।
অবাধ তথ্যপ্রবাহের এ সুযোগটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে সম্ভব হতে পারে। এরফলে কৃষক ন্যায্যমূল্যের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়েও সমৃদ্ধ ও সচেতন হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটলে তরুণরাও হয়ে উঠবে কর্মোদ্দীপক। ২-৫ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে গিয়ে মেধা, শ্রম, পুঁজি ও সময় খাটিয়ে যতটুকু লাভবান হবে- তারচেয়ে বহুগুণে দেশের মাটিতে কম টাকা বিনিয়োগ করে গ্রামীণ এলাকা থেকেও বিপুল আয় করা সম্ভব।
কৃষিজ গবেষণা : বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট নতুন নতুন উন্নত জাতের ধান বাজারে উন্মুক্ত করেছে। ইতোমধ্যে খরা, বন্যা ও লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধান উৎভাবিত হয়েছে। চাষাবাদও শুরু হয়েছে। সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের জিনোম আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম ও তার সহযোগিরা। আবারো ফিওে আসবে পাট। চালু হবে পাটকল, সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান। বাড়বে রফতানি আয়।
জানাগেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হাইব্রিডসহ ৫৫টি উচ্চ ফলনশীল ধান উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। ধান উৎপাদনে বৃহত্তম দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। তবে চীন, জাপান, কোরিয়ায় যেখানে ফলনের পরিমাণ হেক্টরপ্রতি পাঁচ হতে ছয় টন, সেখানে বাংলাদেশে চার দশমিক শূন্য এক টন। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের দেশের পরিবর্তিত জলবায়ু উপযোগী আধুনিক জাতের ধান উদ্ভাবনে অগ্রণী ভমিকা রাখাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। ফসলের আগাছা নির্মূল, ধান কাটা, মাড়াই ও ঝাড়ার কাজ, বীজ বপন, সার ও কীটনাশক ছিটানো প্রভৃতি কাজের জন্য বিজ্ঞান গবেষণা বিভাগের নেতৃত্বে প্রায় ২০ প্রকার আধুনিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কৃত হয়েছে। শস্য, সবজি, ডাল, মসলা, ফলসহ বিভিন্ন ফসলের ২৬০টি জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।
প্রতিষ্ঠানটি ধান ছাড়া অন্য ১০৩টি ফসলের উন্নত জাত উদ্ভাবন, মৌলবীজ উৎপাদন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও হস্তান্তর করে থাকে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ২৯৩টি কৃষিপ্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করেছে। পরীামূলক পর্যবেণে দেখা যায়, এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে পূর্বের সনাতনী যন্ত্রপাতির চেয়ে হেক্টর প্রতি প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা কম খরচ হয়। বাংলাদেশে কৃষিপণ্যের চেয়ে কৃষি উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় সেচ ব্যয় ও উৎপাদন খরচ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এই খরচ ১৩ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৮ শতাংশ ও ভিয়েতনামে ৬ শতাংশ। অথচ আমাদের দেশে এই খরচ ২৭ শতাংশ। কৃষি গবেষণা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। কৃষিকে লাভজনক করতে হবে। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মাঠের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে হবে।
উন্য়নশীল দেশের জন্য যুব সমাজ : বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিপুল সংখ্যাক যুবক থাকা উন্য়নশীল দেশের জন্য একটা বিরাট সুযোগ।  বাংলাদেশে ১৫ বছর থেকে শুরু করে যুবকের সংখ্যা … ৮ কোটি ৮ লাখ ৪৩ হাজার।  এরমধ্যে ৪ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার যুবক কমবেশি অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। নিরেট বেকার যুবকের সংখ্যা… ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৩ হাজার (সূত্র ইত্তেৎফাক)।  যুবকরাই উন্নয়নের চাবিকাঠি। যুব সমাজের অধিকাংশের অবস্থান গ্রামাঞ্চলে। তাদের মেধা ও শ্রমকে যথাযথ ভাবে কাজে লাগাতে পারলেই খুলে যাবে উন্নয়নের দুয়ার। সফল আবাদের পাশাপাশি এখন হাস, মুরগী, গরু মোটাতাজা করণ, মৎস্য, দুগ্ধ খামারের দিকে তাদেরকে আগ্রহী করে তোলতে হবে। তাদের সামনে এসব ক্ষেত্রের সাফল্য সম্ভাবনাগুলোর তথ্য তুলে ধরতে হবে। তাহলে তরুণরা চাকুরি নির্ভর না হয়ে আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প স্থাপনে আগ্রহী হয়ে উঠবে।
তরুণদের উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের তিন তরুণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাবা ইসলাম, সিফাত সারোয়ার ও সাজ্জাদুর রহমান মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এইচএসবিসি ইয়াং এন্ট্রিপেনিউর অ্যাওয়ার্ড ২০১০-এর দ্বিতীয় সেরার পুরস্কার অর্জন করে। তাদের বিষয় ছিলো- ইউরিয়া সারের অপচয় রোধে কাঁচাবাজারের পরিত্যক্ত শাকসবজি সীমিত অক্সিজেনে পুড়িয়ে পরিবেশবান্ধব সার ‘বায়োচার’ তৈরি করা। তরুণ প্রজন্মের এসব ভাবনাকে দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
বাড়াতে হবে গ্রামীণ বিবিয়োগ :  গ্রামের মানুষদের উপেক্ষা করে প্রকৃত উন্নয়ন অসম্ভব। ক্রমাগত উপেক্ষার কারণেই কৃষকের মাঝে হতাশার তৈরি হয়েছে। কৃষক যথাসময়ে পায়না ভুর্তুকি, সার, বিষ, তেল, উন্নত বীজ, সেচ সুবিধা, ফসল ঘরে তুলার গ্যারান্টি এবং ন্যায্যমূল্য। বছরকে বছর হাওরের ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। কৃষক ও দেশের খাদ্যের বিরাট হুমকী জেনেও যথা সময়ে এবং স্থায়ী পরিকল্পনায় বাঁধ নির্মান হয়না।  এসব সমস্যার সমাধানে দ্রুত, স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
গ্রামীণ বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। গ্রাম এলাকায় অন্তত উপজেলা পর্যায়ে শিল্প, কারখানা, গার্মেন্টস, কুটির শিল্প স্থাপনে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। বেসরকারি উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে জায়গা, ব্যাংক লোন, পরামর্শ ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামীণ বিনিয়োগ বাড়লেই ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।  এলাকায় কাজ পেলে মানুষ আর শহরমুখি হবেনা। শহরে মানুষের অযাচিত চাপ কমবে।
কৃষি উন্নয়নে কিছু অভিমত : ১. ব্যবহারের সুযোগ না থাকা, ক্ষেত্র না জানা এবং সচেতনতার অভাবে প্রচুর মূল্যবান অর্থনৈতিক সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। সেসব জমিকে উপযোগী করে ফসল, সবজি, ফল বাগান, নার্সারি প্রভৃতি ও পাশাপাশি ক্ষুদ্র এবং কুটির শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে পল্লী উন্নয়ন সম্ভব। পল্লী উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আবশ্যক। কৃষক সমবায় সমিতি করে দল ভিত্তিক উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। গ্রামের শিক্ষিত ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে কৃষকের জন্য গ্রামে গ্রামে কৃষি পাঠাগার স্থাপন করা যেতে পারে। যেখানে কৃষি বিষয়ক পত্রিকা, ম্যাগাজিন, বই সংগ্রহ করা হবে। প্রতিদিন সন্ধার পর ১ ঘন্টার পাঠচক্র করা যেতে পারে। এর ফলে কৃষক নতুন নতুন তথ্য জানতে পারবে। উন্মুক্ত আলোচনায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সবাই সমৃদ্ধ হবে।
প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষন : কৃষকের জন্য শিক্ষার্থীদের গ্রুপ ভিত্তিক ক্যাম্পেইন করা যেতে পারে। পরিবেশ-পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, মৌসুমি চাষাবাদ, বৃক্ষরোপন এবং বিভিন্ন দিবস সম্পর্কে এসব ক্যাম্পেইনে ছান্দসিক তথ্য প্রচার করা যেতে পারে। পাঠাগার ও সমিতির মাধ্যমে কৃষকের জন্য বিনোদন ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যেখানে পুঁথি পাঠ, গল্পের আসর, কৌতুক, ধাঁধাঁ প্রভৃতির আয়োজন হতে পারে। কৃষি কর্মীদের উন্নত ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষন দিতে হবে।  কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে কৃষকের সহজ প্রবেশাধিকার থাকতে হবে। কৃষি কর্মকর্তাদের নামে অভিযোগ আছে তারা মাঠে যায়না। বাধ্যতামূলকভাবে তাদেরকে মাঠ ও কৃষকের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন জোড়দার করতে হবে।
বীজ ব্যবসয়ীদের প্রশিক্ষণ : দেশের প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা প্রয়োজন। বীজ ব্যবসয়ীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রশিক্ষন ও সচেতনতার আওতায় বিশেষ করে মহিলাদের ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। দেশে ১৩ হাজার নার্সারি রয়েছে, তাদেরকে প্রশিক্ষন দিয়ে উন্নত ও মানসম্মত জাতে বীজ তৈরিতে দক্ষতা বাড়াতে হবে। স্বচ্ছ প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সুষ্ঠু শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক পরিবারের সদস্যদের কুটির শিল্প স্থাপনে সহায়তা দিতে হবে। ব্যাংকঋণ সুবিধা এবং কৃষিতথ্য সরবরাহ সহজীকরণ করতে হবে।  কৃষিঋণ পেতে হলে ব্যাংক কর্মকর্তা এবং ইউপি চেয়ারম্যানদের যোগসাযজে বিপুল পরিমাণ ঘুষের খেলা চলে। হাজারে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ দিলে যে কৃষক না সে ও লোন পায় কিন্তু অনেক কৃষক প্রকৃত প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়। সরকারের একটি বাড়ি একটি খামাড় প্রকল্পপ, কৃষি ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিসিক, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, বেসরকারি উদ্যোক্তা সবাই মিলে একযোগে টার্গেট ভিত্তিক কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ার করুন

0 comments: