সোমবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৭

দেশে এখন ১৬ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে এখন ১৬ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন হচ্ছে। বিএনপি দিয়েছিল ১৬শ’ আর আমরা দিচ্ছি ১৬ হাজার। এছাড়া এখন থেকে জাতীয় গ্রিডে সোলার বিদ্যুত যোগ হয়েছে। যদিও এটা খুব ব্যয়বহুল তারপরও ভবিষ্যতে এই সোলার বিদ্যুতের যে উৎপাদন হবে সেখানে ব্যবহারের অতিরিক্তটা আমাদের জাতীয় গ্রীডে চলে আসবে। প্রতিটি ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশে এখন ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুত সুবিধা পাচ্ছে। প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালানোই আমাদের লক্ষ্য।
গতকাল রবিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চারটি নতুন বিদ্যুত্ কেন্দ্র এবং ১০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। চারটি নতুন বিদ্যুত্ কেন্দ্র হচ্ছে শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকল পাওয়ার প্লান্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট, শাল্লা ৪০০ কিলোওয়াট সোলার পাওয়ার প্লান্ট এবং সরিষাবাড়ি ৩ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্লান্ট। শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা ১০টি হচ্ছে- ফরিদপুর সদর, রাজৈর, নওগাঁ সদর, কামারখন্দ, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, শালিখা, মেহেরপুর সদর, মদন ও বেলাবো। এ ১০টিসহ এ পর্যন্ত ৩৬টি উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দেশের উন্নয়নে বিদ্যুত্ অপরিহার্য। আমরা দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। কাজেই আমাদের লক্ষ্য শুধু শহরেই নয় তৃণমূলের গ্রাম-গঞ্জের ঘরে ঘরে বিদ্যুতের সেবা পৌঁছে দেয়া।’ বিদ্যুত্ খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। বিদ্যুতের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যেমন সোলার পাওয়ার প্লান্ট করছি, তেমনি পরামাণু ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রও করছি। তেলভিত্তিক বিদ্যুত্ উৎপাদন করছি আবার ভারতের থেকেও বিদ্যুত্ কিনে নিয়ে আসছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই আজকে বিজয়ের মাসে এই যে সুযোগটুকু আমরা মানুষের জন্য করে দিতে পারছি সেজন্য আমি জনগণের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমাদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন বলেই আমরা আজকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আর সুযোগ পেয়েছি বলেই আজকে এই উন্নয়ন আমরা করতে পারছি এবং এর ফলে মানুষ গ্রামে বসে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লুটপাট, মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি, ঘুষ, অত্যাচার, নির্যাতন ছিল বিএনপির কাজ। তাদের কাছে ক্ষমতা মানেই ভোগ-বিলাসে গা ভাসানো। ক্ষমতায় থাকতে তারা দেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল। জঙ্গিবাদ ও বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন, আমার ওপর গ্রেনেড হামলাই ছিল তাদের কাজ। মানুষের উন্নয়নে তারা কোনো কাজ করেনি।’
প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং বিদ্যুত্ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নসরুল হামিদ বিপু গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানে বক্তিতা করেন। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ এইচ এম মুতাইরি, কুয়েতের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল হায়াত্ এবং সৌদি এক্সপোর্টের প্রোগ্রাম ও সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক উদ্বোধন
দেশের আইসিটি সেক্টরের বিকাশে যশোরে যাত্রা শুরু করেছে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। গতকাল রবিবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই আইটি পার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে দেশের আইসিটি সেক্টরে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এর মাধ্যমে দেশে মেধাভিত্তিক অর্থনীতির দ্বার উন্মোচিত হলো।
পার্ক উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই শিক্ষার্থী, একজন শিক্ষক, দুই জন আইটি প্রফেশনাল এবং হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে আইসিটি খাতই দেশের রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৯ সালের ১৭ জুলাই আমাদের বিনিয়োগ বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম আমরা একটা হাইটেক পার্ক করবো। কালিয়াকৈরে বিশাল জায়গা থাকাতে সেখানেই এই পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলো। জয়ই (প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এবং আইসিটি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়) আমাকে পরামর্শ দিল। সেখানে একটি হাইটেক পার্ক করলে আমাদের কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, রপ্তানি বৃদ্ধিসহ অনেক কাজ আমরা করতে পারবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু সেই সময় আমাদের এত আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও আমাদের সীমিত ছিল। তাই চিন্তা করলাম সেখানে কেউ বিনিয়োগ করতে এলে তাকে আমরা সুযোগ দেব বা কারো সাথে যৌথভাবে এটা আমরা করবো। দুর্ভাগ্যটা হলো ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। বিএনপি ক্ষমতায় আসলো এবং যথারীতি অন্যান্য কাজের মত এই কাজটিও পরিত্যক্ত পড়ে থাকলো।
প্রধানমন্ত্রী বিএনপি’র প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে কেউ আর ঠাট্টা বিদ্রুপ করতে পারবে না। কারণ, তখন বিদ্যুত্ সংকটের জন্য বিদ্যুত্ চলে গেলে আমাদের প্রতিপক্ষ (বিএনপি) বলে উঠতো, ঐতো ডিজিটাল বিদ্যুত্ গেল। এখন আর কেউ ঠাট্টা-তামাশা করে না, সবাই অন্তত ব্যবহার করে ।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গতকাল রবিবার শিকলবাহার নির্মিত ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুত্ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।
হাওরের মানুষের জন্য আমরা সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছি- প্রধানমন্ত্রী
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুত্ সংযোগ দিতে সোলার প্যানেল দিচ্ছি। আমরা প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ দিচ্ছি। দুর্গম, চরাঞ্চল ও হাওর এলাকায় সোলার প্যানেল মাধ্যমে আমরা বিদ্যুত্ দিচ্ছি।’
গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে সুনামগঞ্জের হাওরের উপজেলা শালায় ৪০০ কিলোওয়াট সোলার বিদ্যুত্ কেন্দ্রের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল রবিবার বেলা ১১টা ৪৬ মিনিটে ৪০০ কিলোওয়াট সোলার বিদ্যুত্ কেন্দ্রের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেয়ার করুন

0 comments: