শুক্রবার, ডিসেম্বর ০১, ২০১৭

ঘন কুয়াশায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ দেশের ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে

ফেরি ও ঘাট সংকটের পাশাপাশি ঘন কুয়াশার কারণে দেশের ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে গাড়ি পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঘন কুয়াশা পড়ায় ওই নৌপথে টানা সাড়ে ৫ ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এসময় চারটি ফেরি মাঝ নদীতে আটকা পড়ে। এদিকে ফেরি পারাপার ব্যাহত হওয়ায় দৌলতদিয়া ঘাটে আটকা পড়ে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ সহস্রাধিক বিভিন্ন গাড়ি। এর মধ্যে বুধবারের শতাধিক নৈশকোচও রয়েছে। এতে ছয় কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ায় বাসের যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
গতকাল দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাট টার্মিনালের বিশাল পার্কিং ইয়ার্ড লোকাল বাস ও ট্রাকে পরিপূর্ণ। ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাজার পদ্মার মোড় পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তার একপাশে ঢাকামুখি যাত্রীবাহী বাস, অপর পাশে পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের দীর্ঘ সারি। এসময় বিভিন্ন গাড়ির চালক ও ঘাটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলাচলকারী ফেরিগুলো ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়ায় এই নৌপথে ফেরির সংকট লেগেই আছে। এছাড়া চারটি ফেরিঘাটের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১ নম্বর ঘাটটি গত এক মাস যাবত বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।

এসপি গোল্ডেন লাইন পরিবহন কোম্পানির এক নৈশকোচের যাত্রী সাতক্ষীরার স্কুল শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বুধবার রাত আড়াইটা থেকে এখন (বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টা) পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাটেই আটকা পড়ে আছি। আমাদের নাইট কোচটি কখন ফেরির নাগাল পাবে তা কেউ বলতে পারছেন না।’

এদিকে বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, ঘন কুয়াশার কারণে নৌ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় গতকাল ভোর ৩টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে টানা সাড়ে ৫ ঘন্টা সকল ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এসময় বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন, চন্দ্রমল্লিকা, হাসনাহেনা ও ঢাকা নামের চারটি ফেরি মাঝ নদীতে আটকে ছিল।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘাটের যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দৌলতদিয়াগামী তিন শতাধিক ট্রাক রাজবাড়ী সদর থানার আহলাদীপুর এলাকায় আটকে রেখেছে হাইওয়ে পুলিশ।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বর্তমানে এই নৌরুটে ছোট-বড় মোট ১৪টি ফেরি সার্বক্ষণিক সচল রেখে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

0 comments: