শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭

জেরুজালেম থেকে দৃষ্টি ফেরাতে গল্প সাজাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: হুথি মুখপাত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃইরান থেকে ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ নিয়ে করা মার্কিন অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অভিযোগের পক্ষে যে প্রমাণ হাজির করেছে তা মিথ্যা। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতিজনিত বিতর্ক থেকে সবার মনোযোগ ভিন্ন খাতে নিতে যুক্তরাষ্ট্র এমন অভিযোগ করছে।
ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অভিযান চালাচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। আর এ সামরিক অভিযানের জবাবে গত ২২ জুলাই ও ৪ নভেম্বর সৌদি আরব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে হুথিরা। অবশ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই তারা আকাশে থাকতে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশটির অভিযোগ, ইরান থেকেই ইয়েমেনের হুথিদেরকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরবরাহ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেরও অভিযোগ, সৌদি আরবে গত মাসে ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরান সরবরাহ করেছে। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রমাণ হাজিরেরও দাবি করে দেশটি।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থাপনকৃত ওই প্রমাণগুলোকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছে হুথিরা। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখপাত্র আবদেল মালেক আল ইজরি এক টুইটে বলেন, ‘তিন বছরের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে হুথিদের প্রতি ইরানের সমর্থনের প্রমাণ পেলো! যুক্তরাষ্ট্র আসলে এখন পর্যন্ত ইযেমেন থেকে ছোড়া সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে কোনও প্রমাণ পায়নি। গল্পটি খুব পরিষ্কার। তারা আরব রাষ্ট্রগুলোকে এমন এক গল্প শোনাতে চাইছে যার মধ্য দিয়ে জেরুজালেম থেকে মনোযোগ সরানো যাবে। ইসরায়েলের প্রতি ক্ষুব্ধ হওয়ার বদলে তারা ইরানের ছায়ামূর্তি নিয়ে টানাটানি করছে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কিছু পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ উপস্থাপন করা হয়। পেন্টাগনের দাবি, এগুলো ৪ নভেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ বিমানবন্দরে ইযেমেন থেকে ছোড়া ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ। স্বল্প পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের তৈরি বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি ইয়েমেন থেকে সৌদি সরকারের উদ্ধার করা একটি ড্রোন ও একটি ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্রও উপস্থাপন করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে, কখন অস্ত্রগুলো হুথিদের হাতে পৌঁছানো হয়েছে এবং কখন তা ব্যবহার করা হয়েছে তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোথায় অস্ত্রগুলো তৈরি হয়েছে তার সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি।




শেয়ার করুন

0 comments: