বুধবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭

ফের আলোচনায় সোহেল তাজ

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের ছেলে তানজীম আহমেদ সোহেল তাজ ফের আলোচনায়। আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ মনে করছে, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে সোহেল তাজ হতে পারেন উইনেবল ক্যান্ডিডেট (জয়ী হওয়ার যোগ্য প্রার্থী)।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওই অংশের মতে, সর্বমহলে সৎ ও নিষ্ঠাবান হিসেবে সোহেল তাজের যে গ্রহণযোগ্যতা সেটাকে কাজিয়ে লাগিয়ে মেয়র হতে পারবেন তিনি। যে কারণে মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে চলে গেছেন, সে কারণের পুনরাবৃত্তি এখানে হবে না। মেয়র হলে স্বাচ্ছন্দ্যেই কাজ করতে পারবেন তিনি।

নানান সময়ে আলোচনায় ছিলেন সোহেল তাজ। বিরোধী দলে থাকতে রাজপথের সাহসী কণ্ঠস্বর হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ছিলেন প্রিয়ভাজন। সেসময় কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের মার হজম করার দৃশ্য সবাই দেখেছেন, দলেও বেশ নন্দিত হয়েছেন।

দল ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিত্ব পেয়েও ‘অজ্ঞাত কারণে’ ছেড়ে দিয়ে হয়েছেন আরও সমাদৃত। পদ ছেড়ে দেয়ার পরও এমপির বেতন-ভাতা অ্যাকাউন্টে যাওয়ার বিরুদ্ধাচারণ করেছেন তিনি। এভাবেই নানা সময়ে অন্যায়ের কাছে আপোস না করে আলোচিত ছিলেন সোহেল তাজ।
এরপর থেকে দলের সংকটের সময় নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়টি আসলেই তার নাম উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী স্নেহধন্য সোহেল তাজ শুধু আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছেই বিশ্বস্ত নয়, দলের নেতাকর্মীদের একটা বড় অংশও তার ভক্ত।

তারা মনে করেন, যেকোনো চ্যালেঞ্জিং কাজ সোহেল তাজকে দিয়ে হবে। এজন্য তারা এখন জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকা উত্তর সিটির উপ-নির্বাচনে সোহেল তাজকেই যুৎসই প্রার্থী মনে করেন।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগের এই উপ-নির্বাচন আসলেই চ্যালেঞ্জের। এখানে যেমন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। তেমনি ভালো প্রার্থী দিয়ে ফল ঘরে তুলতে হবে। অন্যথা, এর প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে। এজন্য তারা উইনেবল ক্যান্ডিডেট খুঁজছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের অনেক চয়েজের মধ্যে সোহেল তাজ শীর্ষে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকে আমাদের এ নির্বাচন দিতে হবে। তবে দলে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নের বিষয়ে এখানো কোনো কথা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন শিডিউল ঘোষণা করলে সে অনুযায়ী হয়ত মনোনয়নের দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। সাধারণ মানুষের কাছে যার গ্রহণযোগ্যতা আছে, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের মত মানুষ যাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেবে এমন প্রার্থী আমরা চাই।’
খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সোহেল তাজ বেশ শক্তিশালি প্রার্থী। তার জনপ্রিয়তা আছে। তিনি আসলে এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারবেন।’
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ বর্তমানের দেশের বাইরে আছেন। আগামী ২৪ ডিসেম্বর তার দেশে ফেরার কথা আছে।

অবশ্য একটি মাধ্যমে এ প্রতিবেদককে সোহেল তাজ জানিয়েছেন, তিনি এখনই রাজনীতিতে ফিরছেন না। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।

শেয়ার করুন

0 comments: