শুক্রবার, ডিসেম্বর ০১, ২০১৭

হেমন্ত সে তো শীতেরই পূর্বাভাস

বড় হচ্ছে রাত, দিন ছোট হচ্ছে। কমছে তাপমাত্রা। কুয়াশার চাদরে মোড়ানো ভোরের প্রকৃতি। শিশির ভেজা কোমল ঘাসের ওপর পা দিলে পায়ের তলা শিরশির করে ওঠে। পুকুরগুলো যেন বলক দেয়া ভাতের পাতিল। সেখান থেকে ধবধবে সাদা ভাপ উঠছে। দূরে দেখা যায় ঘন খেজুর বাগান। ইতিমধ্যেই গাছি গাছে ভাঁড় ঝুলিয়ে দিয়েছে। রাতভর সেই ভাঁড়ে জমা হবে খেজুরের রস। ভোর সকালে সেই রস যখন বাড়িতে আনা হবে তখন সমগ্র বাড়িটাই ভুরভুর গন্ধে ভরে যাবে।

এক সময় কুয়াশার আস্তরণ ভেদ করে দেখা যায় মাঠের শেষ প্রান্তে ডগমগে লাল সূর্য। সপষ্ট থেকে সপষ্টতর হয়ে ওঠে মাঠের সবুজ ধানের খেত। ধানের খেতের ওপর দিয়ে ঝিরঝির বয়ে যায় বাতাস। হালকা বাতাসে দোল খায় ধানের শিষ। সেই বাতাস গায়ে লাগতেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। রোদে ঝিলিক দিয়ে ওঠে ঘাসের ডগায় জড়িয়ে থাকা রুপালি শিশির। বেলা বাড়তে থাকে। চলে রৌদ্র-ছায়ার খেলা। চকমকে নীল আকাশে উড়ে যায় পেঁজাতুলোর মতো হালকা মেঘ। নরম রোদে জেগে ওঠে খাল, বিল, পুকুর, দিঘি। দিঘির বুকে চমত্কার রঙে ফুটে উঠেছে পদ্মফুল। বিল-বাঁওড়েও পদ্মের পশরা। আর কলমিলতার বাহার!

ফোটে কামিনী, গন্ধরাজ, মল্লি­কা, শিউলি, গাঁদা সেইসঙ্গে নাম না জানা কত রকমের মেঠো ফুল, বনফুল। ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা চারপাশ। তাই তো চারপাশে কত রঙিন প্রজাপতি! ডালিম গাছটিতেও এখন ডালে-ডালে ডালিম ফুলের রাঙা পাপড়ি। ঘন সবুজ মটরশুটি, খেসারি, মাশকালাই, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুনের খেত আপন মনেই রং ছড়াচ্ছে। মাঠে-ঘাটে-গাছে, হাওড়-বাঁওড়, বিলে-ঝিলে বাবুই, শালিক, দোয়েল, ঘুঘু, অতিথি পাখিসহ কত যে পাখির মধুর তান। মুখরিত করে তোলে পাড়া-গ্রাম। বিকেলে রোদের তেজ কমে আসে। পড়ন্ত বিকেলের রোদটা মায়া ধরিয়ে দেয়। চোখ ফেরানো যায় না। যেদিকেই তাকানো যায় কেবল সুন্দর আর সুন্দর, মায়াবী হাতছানি। প্রকৃতি যেন রঙের মেলা বসিয়েছে। গোধূলি বেলা গড়িয়ে নামে অন্ধকার। রাতে হালকা কুয়াশার চাদরে মোড়ানো জোছনার আলো। দূরে শেয়ালের ডাকে সবকিছু কেমন রহস্যময় হয়ে ওঠে। চারিদিকে কত পরিবর্তন! আর এত পরিবর্তনের একটাই কারণ, সেটা হলো হেমন্ত। এটা তো শীতেরই পূর্বাভাস।

শেয়ার করুন

0 comments: