বুধবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৭

ঢাকা উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক

আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কে হবেন নতুন মেয়র, কে শেষ করবেন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজগুলো, সেসব নিয়ে আলোচনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়সহ সর্বত্র।
তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে হচ্ছেন এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, উত্তর সিটিতে মেয়র পদে উপনির্বাচনে উইনেবল প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ।
জানা গেছে, দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও শুরু হয়ে গেছে নানা হিসাব-নিকাশ; চলছে নানামুখী তদবির। এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ এখনি মন্তব্য না করলেও ঘুরে ফিরে আসছে কয়েকটি নাম। এমন আলোচনার মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নারায়ণগঞ্জের প্রাক্তন এমপি ও চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী।
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান সারাহ বেগম কবরী। কবরীর প্রবেশের আগেই কেন্দ্রীয় নেতারা সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে বসে ছিলেন। পরে নির্ধারিত বৈঠক শুরু হয়। তবে বৈঠকে উপস্থিত নেতারা কবরীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় নেতা দেলোয়ার হোসেন, আফজাল হোসেন, আমিরুল আলম মিলন, এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কবরীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে এক নেতা বলেন, তার সঙ্গে এ ব্যাপারে (উপ-নির্বাচন) কোনো আলোচনা হয়নি। অন্য ব্যাপারে তিনি পার্টি অফিসে এসেছিলেন। সেই বিষয়টি কী সেটি জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সারাহ বেগম কবরী জানান, ‘পার্টি অফিসে যাব না কেন? আমি আওয়ামী লীগের এমপি ছিলাম। ওসবের (ডিএনসিসির উপ-নির্বাচন) কিচ্ছু না। এগুলো প্রধানমন্ত্রী সব জানেন- তিনি কী করবেন, না করবেন। এগুলো নিয়ে আমার কথা বলা মানে বেকার কথা বলা। ’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতারা জানান, সারাহ বেগম কবরী গত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। সেবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সরে দাঁড়ান। এবারও উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে ওনার আগ্রহ আছে। তবে এবারও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকেই মেনে নেবেন বলে আমাদের অবহিত করেছেন।

শেয়ার করুন

0 comments: