বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭

একজন জীবন্ত কিংবদন্তি, সফল অধিনায়ক, নেতা, দেশপ্রেমিক, অদম্য লড়াকুর নাম মাশরাফি,যেভাবে পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে মাঠে নামেন মাশরাফি!


স্পোর্টস ডেস্কঃনড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফি বিন মর্তুজা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এক আদর্শের নাম। একজন জীবন্ত কিংবদন্তি, সফল অধিনায়ক, নেতা, দেশপ্রেমিক, অদম্য লড়াকুর নাম মাশরাফি। যদিও কোনো বিশেষণ দিয়েই তার বর্ণনা সম্ভব নয়।
ছয় কিংবা সাতবার পাঁয়ে অস্ত্রোপচার হওয়ার পরও দমে না গিয়ে এ দেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। বীরোচিত ভূমিকা আর সঠিক নেতৃত্বে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে মজবুত একটা অবস্থানে নিয়ে গেছেন। দেখিয়েছেন কেবল তীব্র ইচ্ছেশক্তি থাকলেই, দেশের প্রতি প্রচণ্ড ভালোবাসা থাকলে- অনেক কিছুই সম্ভব।
খুড়িয়ে খুড়িয়ে বোলিংয়ের রানআপের জন্য যাচ্ছেন। হাঁটু থেকে সরে যাওয়া ব্যান্ডেজটাকে টেনে টেনে ঠিক করছেন। তবু চেহারায় নেই কষ্টের ছাপ। পায়ের ব্যথা নিয়ে নির্লিপ্ত মাশরাফির জন্য এটা অতিপরিচিত দৃশ্য। বলতে গেলে, ক্রিকেটার মাশরাফির সবচেয়ে কাছের 'বন্ধু' এই ইনজুরি।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই যেটি কখনোই তাকে ছেড়ে যায়নি। তবে কেড়ে নিয়েছে অনেক কিছু। ক্যারিয়ারের স্বর্ণালী সময়টাতে রেখেছে মাঠের বাইরে। সাদা পোশাকটাকে তো বিদায়ই বলে দিতে হলো অসময়ে। তারপরেও আহত বাঘের মতো লড়ে যাচ্ছেন বাইশ গজে।
একের পর এক অস্ত্রোপচারের পর ক্রিকেট ছাড়তে বলেছেন অনেকেই। খোদ তার চিকিৎসকরাও বলেছেন, খেলা চালিয়ে গেলে আছে পঙ্গুত্বের ঝুঁকি। তবে চিত্রা নদীর উজানে সাঁতার কাটা ছেলেটি কোনমতেই দমে যাবার নয়। আজও অদম্য। বয়স হয়েছে ৩৪। চালচলনেও এসেছে ভারাত্মকতা। কাটছাঁট কথাতেও আছে নমনীয়তা। দেশের মানুষের দেয়া মর্যাদার আসনের ভারটাও তিনি বোঝেন।
এ 'পরশ পাথর'র ছোঁয়ায় সোনা ফলছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। এর পেছনে মাশরাফির ত্যাগের গল্প সবারই জানা। মাঠে নামার আগে ঘন্টা খানেক লাগে তার দুই হাঁটুর ব্যান্ডেজ বাঁধতে। সে গল্পও জানেন অনেকে। কিন্তু সেই ব্যান্ডেজ বাঁধার দৃশ্য কি কখনো দেখেছেন। ক্যাপ্টেন ম্যাশের পায়ে ব্যান্ডেজ বাধার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
দূরদর্শী অধিনায়কত্বের পাশাপাশি ব্যাটে-বলে অনন্য নৈপুণ্য প্রদর্শন করে এবার উত্তরবঙ্গের দল রংপুর রাইডার্সকে শিরোপা তুলে দিয়েছেন মাশরাফি। ১২ ম্যাচে ৬ জয়ে টেনেহিঁচড়ে শেষ চারে জায়গা পাওয়া রংপুরই এখন চ্যাম্পিয়ন। এর কারিগর মূলত মাশরাফির নেতৃত্ব।

শেয়ার করুন

0 comments: