বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৬, ২০১৮

নভেম্বরের শুরুতেই সংসদ নির্বাচনের তফসিল!


চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে (২৬ বা ২৭ ডিসেম্বর) একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর নভেম্বরের ৭ বা ৮ তারিখে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। এ লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নির্বাচনে ৬০০ কোটি টাকা বাজেট রাখা হয়েছে। আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নতুন সরকারের শপথ নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ জন্য নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে। ইসির একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে চায় ইসি। এ তিন সিটিতে আগামী ৩০ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমানে এ তিন সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু করে জাতীয় নির্বাচনে সব দলের আস্থাভাজন হতে চায় এ সাংবিধানিক সংস্থাটি।
সংবিধান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই হিসাবে এ বছরের ৩১ অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ২৭ জাুনয়ারির মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। এ বিষয়ে ইসি সচিব মোহম্মদ হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, অক্টোবরের ৩১ তারিখ থেকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ শুরু হবে। সে জন্য আমরা অক্টোবরেই তফসিলের জন্য টার্গেট করেছিলাম। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল দেয়া যাবে না। এটা নভেম্বরের ৭ বা ৮ তারিখে হতে পারে। ৩ সিটি নির্বাচন শেষ হলে বৈঠক করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করবে ইসি। তবে ডিসেম্বরের শেষে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে এটা নিশ্চিত। সেটি ২৫ বা ২৬ ডিসেম্বর হতে পারে।

তিনি বলেন, ভোটের দিনক্ষণ হিসাব করে তফসিল ঘোষণা আর ভোট নেয়ার মধ্যে ৪৫/৫০ দিনের ব্যবধান ধরলে তফসিল ঘোষণার সময় পড়ে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। এ ক্ষেত্রে মনোনয়ন দাখিল ১০-১২ দিন, যাচাই-বাছাই দুই দিন করে চার দিন, প্রত্যাহারের সময় সাত দিন এবং প্রচারণার জন্য ২০-২৫ দিন সময় দেয় ইসি।

জানা গেছে, ডিসেম্বরের শেষভাগে সরকার সংসদ নির্বাচন করতে চায়। সুনির্দিষ্টভাবে সময় না জানালেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে বলে একাধিকবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন। সরকারি দলের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২৫ ডিসেম্বরের পরে যে কোনো দিন তারা ভোট চায়।

ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, অক্টোবর বা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার লক্ষ্য নিয়ে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ডিসেম্বরের শেষ ভাগে ভোট সম্পন্ন করতে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত, ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনীসামগ্রী সংগ্রহ এবং ৭ লক্ষাধিক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যালট পেপার মুদ্রণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ ক্রয় ও ছাপাখানার সঙ্গে আলোচনা চলছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মালামাল ক্রয়ের জন্য এরই মধ্যে দরপত্র আহŸান করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নবম সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৭৮ দিন আগে ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচনকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। ওই সরকার দায়িত্ব নেয়ার সপ্তাহখানেক পর ২৫ নভেম্বর দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। তফসিলে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি।

এ ছাড়া বিগত কয়েকটি সংসদ নির্বাচন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তফসিল ঘোষণা থেকে ভোট নেয়া পর্যন্ত ৪০ দিনের বেশি ও ৫০ দিনের কম সময়ের ব্যবধান রাখা হয়েছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভোট নেয়ার দিন ঠিক করে তারও আগে ২৩ নভেম্বর যে তফসিল দেয়া হয় তাতে ব্যবধান ছিল ৪৭ দিন। এর আগে পঞ্চম থেকে অষ্টম সংসদের ৪২ থেকে ৪৭ দিনের মধ্যে ব্যবধান দেখা গেছে।

শেয়ার করুন

0 comments: