বুধবার, জুলাই ২৫, ২০১৮

পাকিস্তানে ভোট গ্রহণ শেষ, ফলের অপেক্ষা


পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ বুধবার নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট দেয় দেশটির জনগণ। স্থানীয় সময় সকাল আটটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে কোনো বিরতি ছাড়াই সন্ধ্যা ছয়টায় শেষ হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে যে ভোটাররা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পেরেছেন, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।

ভোট গ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের কোয়েটা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ হামলায় ৩১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন বলেছে, দুটি নির্বাচনী এলাকায় ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে।

নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বৃদ্ধি করার জন্য আজ প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলই নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানায়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সময় না বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পেরেছেন—তাঁদের ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাধারণত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বুথের ভেতরে পৌঁছানো ভোটারের ভোট নেওয়া হয়ে থাকে।

দেশটির নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই জাতীয় পরিষদে (এনএ) ৩ হাজার ৪৫৯ জন প্রার্থী হয়েছেন। জাতীয় পরিষদের পাশাপাশি প্রাদেশিক পরিষদেও আজ ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদে দাঁড়িয়েছেন ১ হাজার ৬২৩ জন। সিন্ধু থেকে প্রার্থী হয়েছেন ৮২৪ জন, খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে দাঁড়িয়েছেন ৭২৫ জন। অন্যদিকে বেলুচিস্তান থেকে প্রার্থী হয়েছেন সবচেয়ে কম—২৮৭ জন।

এই জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ২৭২টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। সরকার গঠন করতে প্রয়োজন হবে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ১৩৭টি আসন। তবে কোনো রাজনৈতিক দলই যদি এই পরিমাণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে গঠিত হবে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট। সে ক্ষেত্রে জোট সরকার আসবে পাকিস্তানে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, প্রথমে বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোট হাতে গোনা হবে। পরে তা নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

এবারের নির্বাচনে পাকিস্তানজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেকর্ডসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সংখ্যাটি প্রায় আট লাখ। ৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৮৮ জন সেনাসদস্যকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন করা হয়েছে। বাদবাকিরা হলেন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।

বুধবার পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতারা ভোট দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লিগের (নওয়াজ) প্রধান শাহবাজ শরিফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শহিদ খাকান আব্বাসি, পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ইমরান খান, বিলাওয়াল ভুট্টো প্রমুখ।

ভোটের দিন পাকিস্তানজুড়ে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। কোয়েটা, লারকানা, খোজদার, সোয়াবি ও কোহিস্তানে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। কোয়েটায় হয়েছে আত্মঘাতী হামলা। বেলুচিস্তানে ভোটকেন্দ্রে হয়েছে গ্রেনেড হামলা। বার্তা সংস্থা খবর অনুযায়ী, সেখানে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। হামলা ও দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

0 comments: