সোমবার, আগস্ট ১৩, ২০১৮

কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌপথে ১৯টি ফেরির মধ্যে থেমে থেমে চলছে মাত্র ৩টি


পদ্মা নদীতে হঠাৎ কমে গেছে পানি। চ্যানেলের মুখে পলি জমে দেখে দিয়েছে নাব্যতা সংকট। এ অবস্থায় কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌপথে ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। এখন এই পরিস্থিতিতে নৌপথটি কোনো রকম সচল রাখতে ১৯টি ফেরির মধ্যে থেমে থেমে চলছে মাত্র ৩টি।

এদিকে এ নৌপথ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প নৌপথ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। কাঁঠালবাড়ি ঘাটে আটকা থাকা পাঁচ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্য যানবাহনের যাত্রী ও চালকদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ি ঘাট সূত্র জানায়, পদ্মা নদীর কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌপথের লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে নাব্যতা সংকট দেখা হয়। নাব্য সংকট দূর করতে নদীতে একাধিক ড্রেজার দিয়ে বালু অপসারণের কাজ শুরু করে বিআইডব্লিউটিএ। ড্রেজিং কাজ চলমান থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। এই পরিস্থিতি নৌপথটি কোনো রকম সচল রাখতে ১৯টি ফেরির মধ্যে মাঝে মাঝে বিকল্প নৌপথ ব্যবহার করে দু-তিনটি ফেরি দিয়ে ছোট ছোট যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ঘাটের উভয় পারে আটকা পড়েছে ছয় শতাধিক যানবাহন।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ দেশের খবরকে বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছি। আজ সকালে কিশোরী, কুমিল্লা ও কাকলি নামের মাঝারি তিনটি ফেরি লোড করে কাঁঠালবাড়ি ঘাটের পথে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ফেরি তিনটি ঘাটে পৌঁছাতে পারেনি। চ্যানেলের মুখে কিছু সময় আটকে থাকার পরে শিমুলিয়া ফিরে এসেছে। চ্যানেলে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে ড্রেজিং করে পলি অপসারণের কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু তাতে তেমন কাজ হচ্ছে না।’

শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, ‘আমরা লৌহজং টার্নিং পয়েন্টটি ব্যবহার না করে নৌপথের অন্য একটি চ্যানেল ঘুরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি। কুমিল্লা নামের একটি ফেরি সেখানে পাঠাব। যদি এই চ্যানেল ঘুরে ওই ঘাটে যেতে পারে, তবে আমরা এই পথে কে-টাইপ ও মাঝারি সাইজের ফেরি চলাতে পারব।’

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসি মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাম হোসেন মিয়া বলেন, ‘আমাদের এখান থেকে কে-টাইপ ও মাঝারি সাইজের ফেরিগুলোয় ওই ঘাটে যেতে তেমন সমস্যা হয় না। ওই ঘাটের এই ফেরিগুলো চ্যানেলে আটকে যাচ্ছে। তাই যানবাহন পারাপারে আমাদের সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। তবে ড্রেজিং করে পলি সম্পূর্ণ অপসারণ করা হলে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হবে।’

কাঁঠালবাড়ি ঘাটের ট্রাফিক পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কুশল কুমার সাহা বলেন, ‘ঘাটে তো কোনো ফেরিই চলছে না। পরিবহনের যাত্রীরা নেমে লঞ্চ বা স্পিডবোটে পারাপার হচ্ছে। তবে ঘাটের টার্মিনালে ও রাস্তার ওপরে আটকা পড়েছে পণ্যবাহী পাঁচ শতাধিক ট্রাক। যানবাহনগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের পুলিশের একাধিক সদস্য কাজ করে যাচ্ছে। ফেরি ঠিকমতো চলাচল না করা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।’

শেয়ার করুন

0 comments: