শুক্রবার, আগস্ট ১৭, ২০১৮

রাশিয়ার রহস্যময় স্যাটেলাইট নিয়ে ‘সন্দেহ’ যুক্তরাষ্ট্রের


রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন এক মাত্রা পেয়েছে। রহস্যময় একটি কৃত্রিম উপগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। উপগ্রহটি গত বছরের অক্টোবরে মহাকাশে পাঠিয়েছে রাশিয়া। এটি কি আদৌ স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ, নাকি কোনো নতুন অস্ত্র? এ প্রশ্নের কূলকিনারা করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়ার রহস্যময় ওই স্যাটেলাইট অস্বাভাবিক আচরণ দেখাতে শুরু করেছে। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

১৪ আগস্ট সুইজারল্যান্ডে এক সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ওয়াইলিয়েম পবলিট বলেন, রাশিয়ার তৈরি বস্তুটি আসলে কী, আমরা তা নিশ্চিত নই এবং তা পরীক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। এটি কোনো অস্ত্র হওয়াও অসম্ভব কিছু না।

অবশ্য রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাঁর এ মন্তব্য উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, সন্দেহবশত অনুমান করে ভিত্তিহীন ও অপমানজনক অভিযোগ করা হয়েছে।

পবলিট বলেছেন, ওই কৃত্রিম উপগ্রহের আচরণ স্বাভাবিক মনে হয়নি। রাশিয়ার অন্যান্য পরিদর্শন উপগ্রহ কার্যকলাপের সঙ্গে নতুন এ স্যাটেলাইটের কক্ষপথের আচরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়। এটি স্পষ্টত একটি খুব উদ্ভট উন্নয়ন।

রাশিয়ার স্পেস ফোর্সেসের কমান্ডারের একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে পবলেট বলেন, তিনি বলেছিলেন, নতুন অস্ত্রের নমুনা তাঁরা গ্রহণ করছেন।

পবলেট বলেন, রাশিয়ার অ্যান্টি-স্যাটেলাইট যুদ্ধাস্ত্র তৈরি নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক অ্যালেক্সজান্ডার ডেনেকো তাঁর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে একে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়া-চীনের মধ্যকার মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকানোর চুক্তিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

মহাকাশে কি ধরনের অস্ত্র ব্যবহার হতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের রিসার্চ অ্যানালিস্ট অ্যালেক্সজান্ডার স্টিকিংসের মতে, মহাকাশে ব্যবহারের জন্য যেসব অস্ত্রের নকশা করা হতে পারে, তার কার্যক্রম প্রচলিত বন্দুক বা অন্যান্য অস্ত্রের চেয়ে আলাদা। এ ধরনের অস্ত্র কক্ষপথে নানা আবর্জনা তৈরি করতে পারে।

মহাকাশ বিশেষজ্ঞের মতে, মহাকাশে ব্যবহৃত অস্ত্রে লেজার বা মাইক্রোওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সি যুক্ত থাকতে পারে, যা অন্য কোনো উপগ্রহের কাজ কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে দিতে পারে বা কোনো স্যাটেলাইটকে ধ্বংস না করেও অকার্যকর করে তুলতে পারে। এ ছাড়া স্যাটেলাইটের কার্যক্রমে বাধা বা জ্যামিং সৃষ্টি করতে পারে।

স্টিকিংস বলেন, মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহের সক্ষমতার বিষয়টি ক্লাসিফায়েড তথ্য হিসেবে সংরক্ষিত থাকে বলে কোন স্যাটেলাইটে কি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, তা জানা কঠিন।

কোন দেশ শত্রুতাবশত কোনো স্যাটেলাইট অকার্যকর করেছে বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু করেছে, তা প্রমাণ করা কঠিন।

এদিকে রাশিয়ার স্যাটেলাইটের ওপর নজরদারির কথা যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। অবশ্য বিষয়টি তারা অস্বীকারও করেনি।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, মহাকাশে ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও মহাকাশের ক্ষমতা বৃদ্ধি হুমকি এবং বিপদের কারণ হতে পারে। এ হুমকির ফলে অন্য দেশও মহাকাশে যুদ্ধাস্ত্র ঠেকাতে পাল্টা ব্যবস্থা তৈরি করবে। যুক্তরাজ্য তাদের আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছে।

শেয়ার করুন

0 comments: