বুধবার, আগস্ট ২৯, ২০১৮

কয়লা চুরি : বড়পুকুরিয়ার আরও ৮ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ

কয়লা চুরির ঘটনায় দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) আট কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২৯ আগস্ট, বুধবার সকাল সোয়া ৯টা থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

প্রণব কুমার জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে বড়পুকুরিয়া খনির এই কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের কমিশনের উপ-পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সামছুল আলম।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ে খনির যে আট কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদ চলছে তারা হলেন- সদ্য সাবেক এমডি হাবিব উদ্দিন আহমদ, সাবেক দুই কোম্পানি সচিব আবুল কাশেম প্রধানীয়া ও মোশারফ হোসেন সরকার, মহাব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার, ব্যবস্থাপক (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কন্সট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) জাহিদুল ইসলাম ও উপব্যবস্থাপক (সেফটি ম্যানেজমেন্ট) একরামুল হক।

এর আগে ২৮ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পেট্রোবাংলার আট কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা হলেন- মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) আবু তাহের মো. নুরুজ্জামান চৌধুরী, উপ-মহাব্যবস্থাপক এ কে এম খালেদুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) মোরশেদুজ্জামান, উপ-ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) জাহেদুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন্দ্র নাথ বর্মণ, ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) সৈয়দ ইমাম হাসান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্ল্যানিং অপারেশন) জোবায়ের আলী।

একই ঘটনায় গত ১৬ আগস্ট বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। তারা হলেন- খনির মেনটেইন্যান্স অ্যান্ড কনট্রাক্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক নাজমুল হক, কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপক শোয়েবুর রহমান ও সহকারী ব্যবস্থাপক মাহবুব রশিদ, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্টের উপ-ব্যবস্থপক সাঈদ মাসুদ ও সহকারী ব্যবস্থাপক মো. মনিরুজ্জামান, মেনটেইন্যান্স অ্যান্ড অপারেশনের উপ-ব্যবস্থাপক মাহাবুব হোসেন ও ব্যবস্থাপক (স্টোর) দিদারুল কবির।

গত ১৪ আগস্ট কয়লা খনির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিনুজ্জামান, প্রকৌশলী খুরশিদ হাসান, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান ও সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম-মাইনিং) মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এ ছাড়া গত ১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এমডি এসএম নুরুল আওরঙ্গজেবকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা যায়, আগামী ৩০ আগস্ট আরও ৯ জনকে দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে বিপুল পরিমাণ কয়লা গায়েব হওয়ার পর জ্বালানি সংকটের কারণে ২২ জুলাই, রবিবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে ৫২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রাথমিক তদন্তে এক লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লার ঘাটতি পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ২৪ জুলাই, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা করেছেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান।

মামলায় প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ ছাড়াও সাময়িক বরখাস্তকৃত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুর-উজ-জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) একেএম খালেদুল ইসলাম, সদ্য বিদায়ী কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানীয়াসহ তৎকালীন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অনুমিত ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, মজুদকৃত কয়লার হিসাবের গড়মিলের বিষয়টি দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) এবং ৪০৯ ধারা অনুযায়ী এজাহারভুক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হচ্ছে।

মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ৩২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে তলব করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক।

শেয়ার করুন

0 comments: