শনিবার, আগস্ট ১১, ২০১৮

এনআরসিতে বাঙালির অন্তর্ভুক্তি চান কলকাতার বুদ্ধিজীবীরা


আসামের বাঙালি বিতাড়নের ইস্যুতে মুখ খুললেন কলকাতার বিভিন্ন স্তরের তৃণমূল-সমর্থিত বিশিষ্টজনেরা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে কলকাতা প্রেসক্লাবে ‘আসামের পাশে বাংলা শীর্ষক’ এই বৈঠকে হাজির হন কয়েকজন বুদ্ধিজীবী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কবি সুবোধ সরকার, নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তী, সংগীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়, লেখক আবুল বাশার, চিত্রকর শুভাপ্রসন্ন, নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্র, অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার প্রমুখ।

তাঁরা বলছেন, আসাম থেকে বাঙালি বিতাড়নের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না বাংলার বুদ্ধিজীবীরা। তাঁরা চাইছেন, যে ৪০ লাখ বাঙালির নাম তালিকায় বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এনআরসি বা আসামের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত বদল করা হোক।

বৈঠকে আসতে পারেননি সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও সংগীতশিল্পী কবির সুমন। সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের পাঠানো একটি লেখায় তিনি বলেছেন, ‘নাগরিক পঞ্জির অছিলায় আসামের বৈধ নাগরিকদের উৎখাতের চেষ্টা দুর্ভাগ্যজনক। এটা উদ্বেগের বিষয়।’

বৈঠকে কবির সুমনের লেখা একটি কবিতা পাঠ করে শোনান সাহিত্যিক ও সাহিত্য গবেষক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী।

সাহিত্যিক আবুল বাশার বলেন, ‘আসামে নাগরিক পঞ্জির নামে কুৎসিত রাজনীতি শুরু হয়েছে। এর প্রতিবাদ হওয়া উচিত।’

গায়ক প্রতুল মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমি বাংলার গান গাই, এবার আমি অসমিয়াওতে গান গাইতে চাই।’

কবি সুবোধ সরকার বলেন, ‘বাঙালি দিয়ে বাঙালিদের মধ্যে ভাগ করার চক্রান্ত চলছে। বাংলা আসামের পাশে আছে।’

নাট্যকার বিভাস চক্রবর্তী বলেছেন, ‘আসামের বাঙালি বিতাড়নের ঘোষণার বিরুদ্ধে আমাদের এক হতে হবে।’

অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার প্রশ্ন তোলেন, যাঁদের এখন অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে, কেন সেদিন এই অনুপ্রবেশকারীদের আটকায়নি আসাম সরকার বা আসাম পুলিশ?

চিত্রকর শুভা প্রসন্ন বলেছেন, ‘আমাদের বাঙালিদের ঐতিহ্য রক্ষা করার জন্য এগিয়ে যাব আমরা। এই ঐতিহ্যকে ভূলুণ্ঠিত হতে দেব না।’

কল্যাণ রুদ্র বলেছেন, ‘আসামে আজ যাদের কথা বলা হচ্ছে, তারাই একসময় কিন্তু আসামের অর্থনীতির চেহারাটাই বদলে দিয়েছিল। চা-শিল্পের জন্য আনা হয়েছিল তাদের। তারাই আসামের অর্থনীতিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। আজ তাদের উত্তরসূরিদের বলা হচ্ছে, তোমরা থাকতে পারবে না আসামে।’

বৈঠকে বিশিষ্টজনেরা একযোগে বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা ছুটে যাব আসামের মানুষের কাছে। তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করব। সহমর্মিতা প্রকাশ করব। এনআরসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ব।’

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য গতকাল শুক্রবার নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে এক সভায় বলেছেন, আসাম নিয়ে এখন প্রাদেশিকতা জাগিয়ে তোলা হচ্ছে। এটা অনভিপ্রেত। আসামের এনআরসি নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। অসমিয়া-বাঙালি বিবাদ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আসামে বাঙালি যাঁরা আছেন বা ধর্মরক্ষার তাগিদে যেসব বাঙালি পূর্ববঙ্গ বা অধুনা বাংলাদেশ থেকে আসামে এসেছেন, তাঁদের সরানো যাবে না। এমনকি যেসব মুসলিম বা খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী দেশভাগের পর এ দেশকেই নিজের দেশ ভেবে থেকে গেছেন, তাঁদেরও কেউ স্পর্শ করতে পারবে না।’

শেয়ার করুন

0 comments: