মঙ্গলবার, আগস্ট ০৭, ২০১৮

টি–টোয়েন্টির রাস্তা খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ

সাকিব আল হাসানের অধিনায়কত্ব ও লিটন দাসের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। দুশ্চিন্তা কেবল সৌম্য সরকারের পারফরম্যান্স নিয়ে।

এমন নয় যে বিদেশবিভুঁইয়ে জেতে না বাংলাদেশ। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় বলে কথা। ওয়ানডেতে যেমন-তেমন, সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে এলে বরাবরই নড়বড়ে লাগে বাংলাদেশকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে সর্বশেষ সিরিজটার কথাই ভাবুন না। দেরাদুনে আফগানিস্তানের কাছে রীতিমতো ধরাশায়ী হওয়ার সেই স্মৃতি তো এখনো টাটকা।
মার্কিন মুলুকে এই টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় এমনিতেই তাই বিশেষ কিছু। সেটিও আবার টি-টোয়েন্টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে। স্বস্তির ঠান্ডা হাওয়া তো বইবেই! ঢাকায় বসে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন কাল নিজ বাসভবনে সংবাদমাধ্যমকে বলছিলেন, এই সিরিজ নিয়ে কতটা দুশ্চিন্তায় ছিল ক্রিকেট মহল, ‘এই ফরম্যাটে সব সময় আমরা ব্যাকফুটে ছিলাম। গত আফগানিস্তান সিরিজের পর থেকেই আমাদের মাথায় এটা কাজ করছিল, কীভাবে এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো যায়। মাথায় অনেক চিন্তাই ছিল। এরপর যখন আমরা ক্যারিবিয়ানে ওয়ানডে জিতলাম এবং এরপর প্রথম টি-টোয়েন্টি হেরে গেলাম, তখন কিন্তু আবারও ওই বিষয়টি মাথায় চলে এসেছিল। আবার এই ফরম্যাট নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছিল।’

দুশ্চিন্তা তো শুধু টি-টোয়েন্টি নিয়ে ছিল না। ছিল সাকিব আল হাসানের অধিনায়কত্ব নিয়েও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই হওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজেও ভরাডুবি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছিল অধিনায়কত্বের দ্বিতীয় দফা অভিষেককেই। সেই সাকিব প্রমাণ করে দিয়েছেন, কীভাবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হয়। মিনহাজুলও স্বীকৃতি দিচ্ছেন এটিকে, ‘একজন অধিনায়ক যখন দল নিয়ে একটা ফরম্যাটে ভালো করতে পারে না, তখন আপনা-আপনি তার ভেতরে অন্য ফরম্যাটে ভালো করার ইচ্ছাটা চলে আসে। কীভাবে দলকে অনুপ্রাণিত করা যায়, দলকে পরিচালনা করা যায়। হয়তো (সাকিবের ভেতর) এই ব্যাপারটাই কাজ করেছে। আগে কিন্তু ওর মধ্যে এটা দেখা যায়নি। সাকিব দলের ফ্রন্টলাইন বোলার, সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে। দলকে দারুণভাবে পরিচালনা করেছে। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে, আমি মনে করি, ভালো করার রাস্তা খুঁজে পেয়েছি আমরা।’

কালকের ম্যাচে রাস্তা খুঁজে পেয়েছেন আরেকজন। তিনি লিটন দাস। তাঁর ৩২ বলে ৬১ রানের ইনিংসটি মুগ্ধ করেছে প্রধান নির্বাচককে। মিনহাজুল বললেন, ‘আমার আস্থা আছে যে এই ছেলেটা একটা সময়ে গিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারবে। স্কয়ার দ্য উইকেটে ভালো খেলে, সোজা ভালো খেলে। পরিপূর্ণ একটা ব্যাটসম্যানের যা দরকার, সেটা লিটনের মধ্যে আছে। দীর্ঘ পরিসরের বলেন আর সীমিত ওভারের ম্যাচ বলেন, সবখানেই ভালো করার ক্ষমতা ওর আছে।’

লিটনের মতো মোস্তাফিজুর রহমানও নিজেকে ফিরে পাওয়ায় দারুণ খুশি মিনহাজুল আবেদীন। তবে এত প্রাপ্তির বিপরীতে কপালে ভাঁজ ফেলছেন একজন-সৌম্য সরকার। অধিনায়ক সাকিব চেয়েছিলেন বলেই ‘এ’ দলের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডে যাওয়ার বদলে টি-টোয়েন্টি দলে যোগ হয়েছিলেন। প্রথম দুটি ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ ম্যাচে তাঁকে বাদ দিয়ে সাব্বিরকে নেওয়ার চিন্তাভাবনাও হয়েছিল। সাকিবই তাঁকে আরেকটি সুযোগ দিতে চেয়েছেন বলে জানালেন মিনহাজুল। সঙ্গে এটাও জানিয়ে দিলেন, ‘এ’ দল ও ঘরোয়া লিগে ভালো করলে তবেই আবার ফিরতে পারবেন জাতীয় দলে, ‘সৌম্য সরকারের ফর্ম নিয়ে শুরু থেকেই আমরা চিন্তিত ছিলাম। এ কারণে “এ” দলে আমরা তাকে নিয়েছি। তার আগের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কারণ আগে সে ভালো করেছে। সব মিলিয়ে আমি মনে করি, ওর বয়স কম। ওর মধ্যে প্রতিভা আছে। আশা করি, খুব দ্রুতই সে জাতীয় দলে ফর্ম ফিরে পাবে।’

শেয়ার করুন

0 comments: