বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩০, ২০১৮

ক্রিকেটে সৌন্দর্য ছাপিয়ে অর্থের ঝনঝনানি কষ্ট দেয় কোহলিকে

আটটি দল নিয়ে ১০০ বলের ক্রিকেট লিগের আয়োজন করতে চলেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। বিরাট কোহলি জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই পরীক্ষামূলক ক্রিকেটের ‘গিনিপিগ’ হতে চান না। আর্থিক বিষয়টি যে ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য ছাপিয়ে যাচ্ছে, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক।

ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ছবি: টুইটার

দিন যত গেছে, ক্রিকেটের তত বিবর্তন হয়েছে, আর হয়েছে বিস্তার। সাদা পোশাকের টেস্ট থেকে সীমিত ওভারের এক দিনের ম্যাচ। সেখান থেকে ২০ ওভারের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাট। দৈর্ঘ্যে ছোট হয়ে আসা ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে অর্থের ঝনঝনানিও। হালের ক্রিকেটে সবচেয়ে জনপ্রিয় সংস্করণ টি-টোয়েন্টি, স্পষ্ট করে বললে বিশ্বজুড়ে নানা টি-টোয়েন্টি লিগ। পয়সা উড়ছে বিস্তর, দর্শক-সমর্থকদের ভিড়ও সেদিকেই।

এখন আবার নতুন আরেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে পড়েছে ক্রিকেট। খেলা হবে ১০০ বলের, ১৫টি সাধারণ ৬ বলের ওভার। শেষ ওভারটি ১০ বলের। নতুন এই ফরম্যাট নিয়ে মাতামাতিও শুরু হয়ে গেছে। আটটি দল নিয়ে ১০০ বলের ক্রিকেট লিগের আয়োজন করতে চলেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। ক্রিকেটারদেরও নিশ্চয়ই আগ্রহ থাকার কথা। তবে এ মুহূর্তে তর্কযোগ্যভাবে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার গিনিপিগ হতে চান না।

উইজডেন ক্রিকেট মান্থলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতীয় অধিনায়ক জানিয়েছেন, ‘সত্যি বলতে, কোনো নতুন ফরম্যাটের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ হওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। বিশ্ব একাদশের অংশ হয়ে ১০০ বলের ফরম্যাটের শুরু করতে যাবে, এমন ক্রিকেটার হতে চাই না আমি। আমি আইপিএল খেলতে, বিগ ব্যাশ দেখতে ভালোবাসি। কারণ, সেখানে মানসম্পন্ন দলের মধ্যে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আবহ থাকে। লিগের জন্য আমি আছি, কিন্তু কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নেই।’

ক্রিকেটে প্রতিনিয়ত এত সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার পেছনে আর্থিক লাভটাই বড় বিবেচনা হয়ে থাকছে। বিষয়টি আহত করেছে কোহলিকে, ‘আমার মনে হয়, আর্থিক বিষয়টি ক্রিকেটের যে আসল সৌন্দর্য, সেটিকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। আর সেটাই আমাকে কষ্ট দেয়।’

বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগের যে বাড়বাড়ন্ত, তাতে ক্রিকেটের দৃশ্যপটটাই যেন বদলে যাচ্ছে। কোহলি কিন্তু ক্রিকেটের মূল সুরটার কথা ভুলে যাননি, ‘আপনি যদি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে গুরুত্ব না দেন তো খেলোয়াড়েরা দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের সব ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্বও বেড়েছে। কারণ, সুযোগ-সুবিধা আর মান বাড়লে এই ফরম্যাটে খেলোয়াড়দের আগ্রহ এমনিতেই বাড়বে। আপনি নিশ্চয়ই এমন খেলোয়াড়দের চাইবেন না, যারা সহজেই উন্নতির পথ খুঁজবে।’

২০১৯ সালের জুলাইয়ে অ্যাশেজ, ভারতের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর ও নিউজিল্যান্ডের শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। এতে টেস্ট ক্রিকেট নতুন সঞ্জীবনী সুধা পাবে বলে আশা কোহলির, ‘আমার মনে হয়, টেস্ট ক্রিকেটকে অনেকটাই এগিয়ে দিতে যাচ্ছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। এর মধ্য দিয়ে প্রতিটি সিরিজ আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে। চ্যাম্পিয়নশিপ জুড়েই উত্থান-পতন থাকবে, আমি সেটার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।’

শেয়ার করুন

0 comments: