বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩০, ২০১৮

কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচনী জোটের রাস্তা খুলল সিপিএম


পশ্চিমবঙ্গে হঠাৎ করে যেন বিজেপির উত্থান! বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না পশ্চিমবঙ্গের অন্য দুটি দল জাতীয় কংগ্রেস আর সিপিএম। রাজ্যে বিজেপির আরও উত্থান চাইছে না তারা। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি ঘটাতে চাইছে তারা। একটি ধর্মনিরপেক্ষ ‘জোট’ গড়তে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সিপিএম ভাবছে, কংগ্রেসের সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষ জোট গড়া হলে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে অন্তত কয়েকটি আসন জুততে পারে জোট প্রার্থীদের। কংগ্রেস আর সিপিএম পৃথকভাবে নির্বাচন করলে এ রাজ্যের আসন জেতা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

সিপিএম এখন কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে আগামী বছরের লোকসভা নির্বাচনের পথে পা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল বুধবার ছিল সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির বিশেষ বৈঠক। বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে যাওয়ার প্রস্তাব গৃহীত হয়। বৈঠকে সিপিএমের কয়েকজন কট্টরপন্থী নেতা জোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠরা ছিল জোটের পক্ষে।

২০১৪ সালের সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছিল ৩৪টি আসন, কংগ্রেস ৪টি, বিজেপি ২টি এবং সিপিএম পেয়েছিল ২টি আসন।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচনী জোট হলেও সেই জোট স্বল্প সময়ের কারণে দানা বাঁধতে পারেনি। যৌথ প্রচারে অংশ নিতে পারেনি। এবার সিপিএম মনে করছে, নির্বাচনের আগে জোট হলে যৌথভাবে প্রচারে সুফল পাওয়া যেতে পারে। এর আগে অন্ধ্র প্রদেশের হায়দরাবাদে সিপিএমের পার্টি কংগ্রেসেও সিপিএম কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যাওয়ার দরজা খুলে দিয়েছিল।

সিপিএম মনে করছে, কংগ্রেস জোটে শামিল হলে দুই দল ৪২টি আসনের মধ্যে কোন কোন আসনে বাম দল এবং কোন কোন আসনে কংগ্রেস প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে পারেন, তা যৌথভাবে বৈঠক করে নির্ধারণ করতে পারবে। কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্বের একটা অংশ চাইছে সিপিএমের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়তে। নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরী এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস বিধায়ক আবদুল মান্নান।

শেয়ার করুন

0 comments: