বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮

মোসাদ্দেক আলী ফালুর অবৈধ সম্পদ’ হস্তান্তরে সহযোগিতা,বাংলাদেশ ক্যন্সুলেট দুবাই ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দুদকের তলব ।

দেশের খবর নিউজ ডেস্কঃ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বসে সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য আমমোক্তারনামা করেছেন সাবেক সাংসদ মোসাদ্দেক আলী ফালু। তাঁর এই কাজে সহায়তা করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। দুদক সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা বিষয়ে ইতিমধ্যে ব্যাখ্যা চেয়েছে তারা।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য অনুসন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মোসাদ্দেক আলী ফালুর দুই আত্মীয়ের অনুকূলে রেজিস্ট্রি করা ওই আমমোক্তারনামা এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গোয়েন্দাদের হাতে। এসব তথ্য নিয়ে আজ মঙ্গলবার থেকে অনুসন্ধানে নেমেছে সংস্থাটি। সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, মোসাদ্দেক আলী দুবাইয়ে অবস্থান করা অবস্থাতেই তাঁর বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি তাঁর ভাইয়ের ছেলেদের নামে আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) করে দিয়েছেন। মো. আশফাক উদ্দিন আহমেদ এবং রোজা প্রোপার্টিজের পক্ষে পরিচালক নাঈম উদ্দীন আহমেদ দলিল গ্রহীতা হিসেবে ওই সম্পদের আমমোক্তার।

রাজধানীর তেজগাঁও, ধানমন্ডি, উত্তরা ও গুলশান সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এসব অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামা দলিল করা হয়। 

যেসব সম্পদের আমমোক্তারনামা করা হয় তার মধ্যে রয়েছে তেজগাঁও শিল্প এলাকা মৌজায় অবস্থিত রোজাগ্রীণ নামের প্রকল্পে অচিহ্নিতভাবে বাড়ি ৪১৫ দশমিক .৮৩৩ অজুতাংশ । পাঁচটি ফ্ল্যাট ও পাঁচটি কার পার্কিংয়ের মোট আয়তন ৯ হাজার ৬৫১ দশমিক ৫৫ বর্গফুট এবং একই মৌজার ৬৬০ অজুতাংশ বাড়ি ভূমি ও ওই ভূমির ওপর নির্মিত ভবন। উত্তর খান মৌজার ৩৪ শতাংশ ভিটা ভূমি এবং সেখানে নির্মিত কাঁচা পাকা ৬৪টি দোকান এবং জোয়ার সাহারা মৌজার স্থাপনা ২৪৭ দশমিক ৫০ অজুতাংশ ভিটা ভূমি।

অভিযোগে বলা হয়, মোসাদ্দেক আলী তাঁর অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে আত্মীয়দের নামে হস্তান্তর করছেন। ওই আমমোক্তারনামা করতে তাঁকে সহায়তা করেছেন দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভাইস কনস্যুলার মো. মেহেদুল ইসলাম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মাসুদ পারভেজ। আরও অভিযোগ করা হয়, সরকারি কর্মকর্তাদের সহায়তায় দুবাইয়ে বসে করা আমমোক্তারনামা ঢাকায় রেজিস্ট্রি করা হয়। সরকারি কর্মকর্তারা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ফালুকে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

নথিপত্র পর্যালোচনা করে দুদক দেখেছে, ফালুর এসব কর্মকাণ্ডে সাক্ষী হিসেবে সহায়তা করেছেন মো.নূরুদ্দিন আহমেদ, মো. আশরাফুল হক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মাহতাব উদ্দিন। দলিল সম্পাদনে শনাক্তকারী হিসেবে ছিলেন মো. শাহাব উদ্দিন, এন টিভির আমিরাত প্রতিনিধি মোহাম্মদ শিবলী আল সাদিক ও মুহিবুল করিম আশিক।

এছাড়াও সরকার আমিরাতের বাংলাদেশ দুতাবাস ও ক্যন্সুলেটের বিভিন্ন কর্মকর্তারা সম্পকে খোজখবর নেওয়া শুরু করেছে ইতিমধ্যে।

শেয়ার করুন

0 comments: