বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২০

বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম, ৩৬ দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে

বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। এর প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, বিনোদন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যাংক ও বিমা খাত এবং কলকারখানার উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিঘাত হিসেবে প্রতিদিন লাখ লাখ কর্মী বেকার হয়ে পড়ছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাত্তোর বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাপক মন্দা দেখা দিতে পারে। কেউ কেউ একে আবার ‘মহামন্দা’ও বলছেন। কোনো কোনো দেশে দুর্ভিক্ষও দেখা দেবে। কারণ ইতোমধ্যে কিছু দেশে পঙ্গপালের আক্রমণও হচ্ছে। অদৃশ্য করোনার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও দৃশ্যমান হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প ও প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো অর্থে নেতিবাচক প্রভাব এখন স্পষ্ট। পাশাপাশি অনলাইনে আউটসোর্সিংয়ের আয়ও মুখ থুবড়ে পড়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের ৩৬টি দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেসলি।মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছেন, প্রাণঘাতি এ মহামারীর কারণে ইতিমধ্যেই ১০টি দেশের ১০ লাখ মানুষ এখনই অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। খবর বিবিসির

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিশ্বে বেড়েই চলেছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। এ মুহূর্তে তীব্র ক্ষুধার যন্ত্রণা ভোগ করছেন অন্তত ২৬ দশমিক ৫ কোটি মানুষ।দেশে দেশে লকডাউনের কারণে এ সংখ্যা শিগগিরই দ্বিগুণ হতে পারে। এমনটাই হুশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ। সেই সঙ্গে ঝুঁকি মোকাবেলায় শিগগিরই ত্রাণ তহবিল গঠনের জন্য দাতা গোষ্ঠীগুলোর কাছে জরুরি আবেদন জানিয়েছেন সংস্থার কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা বলছেন, ক্রমবর্ধমান ক্ষুধার সংকট ঠেকাতে এ মুহূর্তে ৩৫ দশমিক ৫ কোটি ডলার সহায়তা প্রয়োজন। রোববার দ্য গার্ডিয়ানে লেখা এক খোলা চিঠিতে দাতাগোষ্ঠীগুলোর কাছে এ আহ্বান জানানো হয়।

এতে স্বাক্ষর করেছেন জাতিসংঘের বিভিন্ন এজেন্সির প্রধান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম, কোঅর্ডিনেশন অব হিউম্যান অ্যাফেয়ার প্রভৃতির কর্মকর্তারা।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ভার্চুয়াল সেশনে বেসলি বলেন, করোনাভাইরাসের সবচেয়ে খারাপ প্রভাব হিসেবে বিশ্বের তিন ডজন দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসতে পারে। ইতিমধ্যে ১০টি দেশে প্রায় ১ মিলিয়ন লোক অনাহারে দিন কাটানোর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। অনেক দেশে এই মানবিক সমস্যাটার কারণে নানাধরনের সহিংসতা, দ্বন্দ্ব ও বিবাদ সৃষ্টি হতে পারে।

করোনাভাইরাস বিশ্বের সব মহাদেশের সব দেশে এমনকি আমাজনের প্রত্যন্ত ও গহীন অরণ্যেও আঘাত হেনেছে। প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে দেশ, শহর, বন্দর ও নগর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

কোথাও কোথাও ৩ মাসের বেশি সময় ধরে ঘরবন্দি মানুষ। চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাদের খাদ্য ব্যবস্থা। বিমান, রেলসহ সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সরবরাহও থমকে গেছে। এ অবস্থায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে কোটি কোটি মানুষের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আরিফ হুসেইন বলেন, কোভিড-১৯ সম্ভবত কোটি কোটি মানুষের জন্য একটা বিপর্যয় ডেকে এনেছে।’

সারা বিশ্বে মহামারী করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২৫ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।আর এ ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৮৫৬৩ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন সাড়ে ৭ লাখের বেশি মানুষ।








বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভাইরাসের মরণ ছোবলে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে মারা গেছেন বিশ্বের পৌনে দুই লাখ মানুষ। দিন দিন সংক্রমণ ও প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। মহামারিতে মানুষের জীবনের আশঙ্কার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আর দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের আরো কিছু দেশে একই সঙ্গে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কাও করেছে জাতিসংঘ। করোনার ছোবলে শুধু মানুষের মৃত্যুই হচ্ছে না, এই পরিস্থিতি পড়েছে।






এই অর্থনৈতিক দুরাবস্থায় বাংলাদেশ আপাতত দুর্ভিক্ষে না পড়লেও সেই অবস্থায় যে পাল্লা ভারী হচ্ছে তা হাওরে ধান তোলার অব্যবস্থাপনাতেই ধরা পড়ছে। কারণ সেখানে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট।






জাতিসংঘ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলছে, করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্ব বড় রকমের দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও দারিদ্র বেড়ে যাবে। এই মন্দায় ১৩৫ থেকে ২৫০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ভুগবে।






বিশ্ব খাদ্য সংস্থা বলছে, বিভিন্ন যুদ্ধ-সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ দেশ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। সংস্থাটি তাদের চতুর্থ বার্ষিক গ্লোবাল প্রতিবেদনে ইয়েমেন, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, আফগানিস্তান, ভেনেজুয়েলা, ইথিওপিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, নাইজেরিয়া এবং হাইতির নাম উল্লেখ করেছে।

শেয়ার করুন

0 comments: