বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২০

ঢাকা, না.গঞ্জ, গাজীপুরে কারফিউ চান বিশেষজ্ঞরা ।



করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর এলাকায়। সারাদেশে ৩ হাজার ৭৭২ জন মোট আক্রান্তের মধ্যে প্রায় ৮৩ শতাংশই ঢাকা বিভাগের। এর মধ্যে ৪১ শতাংশ ঢাকার, ৪২ শতাংশ ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার। ঢাকা বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৫১০ জন।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২৭৭ জন ঢাকায় আক্রান্ত এবং মারা যায় তিন জন। নারায়ণগঞ্জে ৪৯৯ জন আক্রান্ত ও মারা গেছে ৩৫ জন এবং গাজীপুরে ২৬৯ জন আক্রান্ত এবং মারা গেছেন দুই জন। আক্রান্তদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ। কিন্তু এই তিন এলাকায় লকডাউন মানছেন না কেউই। প্রধান সড়ক কিছুটা ফাঁকা থাকলেও অলিগলির চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। সেখানে মানা হচ্ছে না ‘সামাজিক দূরত্ব’ বজায়ের কোনো পরামর্শ-নির্দেশনা।

কিশোর ও উঠতি বয়সি তরুণরা আড্ডা দিচ্ছেন যত্রতত্র। কোথাও কোথাও আবার যানবাহনের চাপ তো আছেই, জ্যামও পড়ছে। এর সঙ্গে রিকশা ও অটোরিকশা চলছে দেদারসে। এমন অবস্থার মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলায় কারফিউ জারি করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, দীর্ঘ সময়ের দুর্ভোগের চেয়ে স্বল্পসময়ের কষ্ট সহনশীল। তাই এখনো সময় আছে।
করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে করোনার খনি হিসেবে চিহ্নিত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কারফিউ জারি বা ফিলিপাইনের মতো ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এতে দেশ ও জাতি রক্ষা পাবে। প্রসঙ্গত, ফিলিপাইনে মানুষকে ঘরে রাখতে কঠোর হয়েছে দেশটির সরকার। দেখামাত্র গুলি করা হচ্ছে সেখানে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর এলাকায় মানুষকে ঘরে রাখতে কঠোর থেকে কঠোরতর হতে হবে। সার্বিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এটা প্রয়োজন। এতে মানুষ বাঁচবে, দেশ বাঁচবে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর হলো করোনার খনি।
সেখান থেকে কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রয়োজনে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ ঘরে থাকলে কিছুই হবে না। কিন্তু ঘরে না থাকলে চিকিত্সা ব্যবস্থা, অর্থনীতিসহ সব কিছু ভেঙে পড়বে। তাই এখন থেকেই সতর্ক থাকতে হবে।

শেয়ার করুন

0 comments: