বৃহস্পতিবার, মে ০৭, ২০২০

বিপণিবিতান ও শপিং মল খোলার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করুন

ঈদের আগে বিপণিবিতান ও শপিং মল খুলে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ সিদ্ধান্ত বেসামাল অবস্থা ও করোনার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা সৃষ্টি করবে। ঐতিহ্যগতভাবে ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন বিপণিবিতান ও শপিং মলে লাগামহীন ভিড় দেখা দেয়। ঈদের কেনাকাটা শুরু হয় রোজার অনেক আগেই। চলতি বছর লকডাউনের কারণে সব ধরনের বিপণিবিতান ও শপিং মল এমনকি সাধারণ দোকানপাট বন্ধ থাকায় আগামী রবিবার থেকে এগুলো খুলে দিলে মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের সৃষ্টি হবে; যা সামাল দেওয়া কোনোভাবে সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় করোনাভাইরাসের মধ্যে ঈদের দুই সপ্তাহ আগে বিপণিবিতান ও শপিং মল খোলার বিরোধিতা করে অনেকে তির্যক মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে বিপণিবিতান বা শপিং মলে কেনাকাটার যে প্রক্রিয়া, তাতে অনিরাপদ সময়ে সেগুলো খুলে দিলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। কারণ একই কাপড়, কসমেটিকস, জুতা- এগুলো অনেক ক্রেতা স্পর্শ করবে এবং সেগুলো প্রতিনিয়ত জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব নয়। ঈদের আগে পোশাকের বিপণিবিতান ও শপিং মলগুলোয় যে ভিড় হয় তা করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়াবে। 

এমনিতেই বিপণিবিতান বা শপিং মলগুলোয় হাঁটার পর্যাপ্ত জায়গা পর্যন্ত থাকে না। অনেকে প্রশ্ন করেছেন, সন্তানের জন্য মা-বাবারা ঈদের জামাকাপড় কিনতে যাবেন নাকি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তথা মৃত্যু আনতে যাবেন? প্রায় দেড় মাস ধরে দেশে অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অনেকের জীবিকাও হুমকিতে পড়েছে। সঞ্চিত অর্থ খরচ করে অনেকে জীবনযাপন করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপণিবিতান, শপিং মলে ঈদের কেনাকাটায় গরিব ও মধ্যবিত্তের কষ্ট আরও বাড়াবে এবং উচ্চবিত্তের সঙ্গে তাদের পার্থক্য আরও দৃশ্যমান করবে। সরকার যে ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে দেশের উৎপাদনব্যবস্থা অচল রাখতে বাধ্য হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে করোনা মহামারীকালে বিপণিবিতান ও শপিং মল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। বিপর্যয় না চাইলে ভিড় এড়ানোর ঝুঁকি বন্ধে ঈদের কেনাকাটায় বাদ সাধতে হবে। এর ফলে যেমন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ হবে তেমন অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ থাকায় যাদের পকেটে অর্থ নেই, তাদের কষ্টের হাত থেকে রেহাই দেওয়া হবে

শেয়ার করুন

0 comments: